পাশ্চাত্যের অক্সফোর্ডে চালু হচ্ছে সান্ধ্য আইন। ৮টার মধ্যে হলে ঢুকতে হবে ছেলেদের

পঠিত ... ২ ঘন্টা ০ মিনিট আগে

 

প্রাচ্যের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা ব্যবস্থার সুরক্ষা ও অভিভাবকত্ব মডেল থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে এবার ঐতিহ্যবাহী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (যা বহুল পরিচিত প্রাচ্যের অক্সফোর্ড নামে) পুরুষ শিক্ষার্থীদের জন্য জারি করা হলো এক অভিনব 'সান্ধ্য আইন' (Curfew)। তবে লিঙ্গ সমতার যুগে বাস্তবতাকে উল্টে দিয়ে এই কঠোর বিধিনিষেধের পুরো ভার চাপানো হয়েছে কেবল ছেলেদের হলের ওপর। নতুন প্রশাসনিক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, রাত ৮টা বাজার সঙ্গে সঙ্গে সব ছাত্র হলে প্রবেশ করতে বাধ্য থাকবে; ৮টা ১ মিনিট বাজলেই হলের মূল ফটক তালাবদ্ধ করে দেওয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রভোস্ট কমিটির সংবাদ সম্মেলনে বিজ্ঞতার সঙ্গে জানানো হয়, মধ্যযুগীয় ফরাসি প্রথা ‘couvre-feu’ বা আগুন ঢেকে দেওয়ার নিয়ম থেকেই আজকের আধুনিক সান্ধ্য আইনের জন্ম। কাঠের বাড়িতে আগুন লাগার ভয়ে যেমন রাতে প্রদীপ নেভানো হতো, ঠিক তেমনি আধুনিক যুগে পুরুষ শিক্ষার্থীদের জীবনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঝুঁকি নেভাতে এবং তাদের সুচরিত্রে আগুন লাগা ঠেকাতেই এই পদক্ষেপ। প্রভোস্ট কমিটির এক জ্যেষ্ঠ সদস্য সিরিয়াস মুখে বলেন, ছেলেরা প্রাকৃতিকভাবেই অত্যন্ত অবুঝ, নরম ও আবেগপ্রবণ। রাত ৮টার পর বাইরে থাকলে তারা পথভ্রষ্ট হতে পারে বা ছিনতাইকারীর কবলে পড়তে পারে। সমাজের কুনজর থেকে আমাদের ছেলেদের চরম হেফাজতে রাখাই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম দায়িত্ব।

এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন—মেয়েরা যেখানে যেকোনো সময় হলে যাতায়াত করতে পারবে, সেখানে কেবল ছেলেদের ওপর এই নিয়ম চাপানো কি চরম বৈষম্য নয়? জবাবে ওই কর্মকর্তা মুচকি হেসে বলেন, মেয়েরা তো ম্যাচিউর ও স্বাধীন, তারা নিজেদের খেয়াল রাখতে জানে। কিন্তু তরুণেরা রাতের বাতাসে অনর্থক ঘুরাঘুরি করে নিজেদের ক্ষতি করে। আমরা তো এতদিন কেবল মেয়েদের নিরাপত্তা দিতাম, এখন ছেলেদেরও সেই একই 'নিরাপত্তা ও পরম বন্দিদশা' উপহার দিতে চাই। এর নামই তো প্রকৃত সমতা!

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ৮টা ১ মিনিটে যে ছাত্র বাইরে আটকা পড়বে, তাকে হলের গেটের বাইরে সারারাত দাঁড়িয়ে থেকে সময়ানুবর্তিতা শিখতে হবে। টিউশনি, লাইব্রেরি বা গবেষণার কোনো বাহানা আমলযোগ্য হবে না। বিশেষ প্রয়োজনে ছাড় পেতে হলে তিন দিন আগে অভিভাবকের অনুমতিপত্র ও বিভাগীয় প্রধানের চারিত্রিক সনদ জমা দিতে হবে। ছাত্রদের মধ্যে ক্ষোভ দানা বাঁধলেও প্রশাসন সাফ জানিয়ে দিয়েছে—ছেলেরা যত আন্দোলনই করুক, তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এই সান্ধ্য আইন বহালই থাকবে!
পঠিত ... ২ ঘন্টা ০ মিনিট আগে

Top