এক্সট্রাকশন দেখে যা বুঝলাম, যা বুঝলাম না

৪৫২৮ পঠিত ... ১১:১২, এপ্রিল ২৫, ২০২০

আমার ধারণা, সিনেমা আমি বুঝি না। তবে যেহেতু ‘বুঝি না’ এটা বুঝি বলে সিনেমা বোঝার চেষ্টা করি, তাই নিশ্চয়ই একেবারেই বুঝি না এমন না। হতে পারে অনেক বুঝি না, কিন্তু একটু একটু বুঝি। এক্সট্রাকশন দেখতে গিয়ে সেই ‘বুঝলাম’ এবং ‘বুঝলাম না’ মিলায়ে একাকার হয়ে গেছে। সিনেমাটি দেখে কী বুঝলাম আর কী বুঝলাম না, দুটা তাই একসাথেই লিখলাম।

লেখার পুরাটাই স্পয়লার, তবে কোনো স্পয়লার এলার্ট নাই। কারণ আপনার যদি নেটফ্লিক্স থাকে তাইলে দেখার আরও ভালো জিনিস আছে সেগুলা দেখেন, আর যদি না থাকে তাহলে এই সিনেমা টরেন্ট দিয়ে নামানোর কষ্ট করার কোনো দরকার নাই!



প্রথমত যা বুঝলাম

বাংলাদেশের কোনো মানুষ বাংলা কোনো শব্দ-বাক্য ঠিকঠাক উচ্চারণে বা টানে বলতে পারে না। কেউ পশ্চিমবঙ্গের টানে বলে, কেউ আবার বিভিন্ন সিনেমায় ব্রিটিশ আমল বুঝাইতে ইংরেজরা যেই উচ্চারণে বাংলা বলতো তেমনে বলে।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ড্রাগলর্ড আমির আসিফের চাইতে যেকোনো মানুষ বাংলা শব্দ-বাক্য ভালো উচ্চারণ করতে পারে। আমির আসিফ ঢাকার পাবলো এস্কোবার বলে আসলে স্প্যানিশে কথা বলেন, এমন হতে পারে। যেহেতু বাংলা জানেন না, বাঙালিদের সাথে কমুনিকেট করতে স্প্যানিশ হরফে লিখে দেয়া বাংলা বলছিলেন।

আবার এমনও হইতে পারে, মাদক সম্রাটরা একটা বিশেষ ধরনের মাদক গ্রহণ করেন। এই মাদক খাইলে স্পিকিং ইন্যাবিলিটি তৈরি হয়, অথবা কথাবার্তা বলার সময় এক্সপ্রেশন বদলায় না।

সে যেসব ডায়লগ দিসে (‘ওকে তাক করে গুলি করবি' বলার সময় কোন শালা ‘তাক’ শব্দে রাগের ইম্ফ্যাসিস দেয়?) সেগুলোর মানে সে নিজে জানে কিনা, এইটাও আমি অবশ্য আমি বুঝতে পারি নাই। ইন ফ্যাক্ট, তাকে জার্মান, রাশিয়ান, হিব্রু এসব ভাষাতেও লিখে দেয়া হতে পারে।

ভদ্রলোককে সিলেটি দেখানো হইসে কিনা আমি নিশ্চিত না। হতে পারে। তবে সিলেটিদের বাংলা এর চেয়ে বিশুদ্ধ হয়।

একটা তাজ্জব বিষয় হলো, ভারতের ডন মহাজন অর্থাৎ পঙ্কজ ত্রিপাঠী পর্যন্ত আমির আসিফের চেয়ে সঠিক উচ্চারণে ‘ঢাকা’ বলতে পারে৷ তবে এইটার একটা যুক্তি আমি খুঁজে পাইলাম। সিনেমার একটা দৃশ্যে মহাজনের সিভিতে দেখা গেছে, সে বাংলাসহ তিনটা ভাষা জানে। এইজন্য সে-ই সবার চেয়ে শুদ্ধ উচ্চারণে 'ঢাকা' উচ্চারণ করছে। তবে সে বাংলা কেন জানে? সে কি আগে বাংলাদেশে থাকত? বাংলাদেশি ড্রাগলর্ডের সাথে তার কিসের সম্পর্ক, গাঁজা না ইয়াবা? কিসের গ্যাঞ্জাম তাদের, বিএসএফ আর বিজিবির মধ্যেও তো এত ঝামেলা দেখি না (বিএসএফ জাস্ট একদিক থেকে মারে :3)! এইগুলা কিছুই বুঝতে পারলাম না। 

বাংলাদেশ সম্পর্কে আমি একটা নতুন তথ্যও জানতে পেরেছি। বাংলাদেশের কোনো ‘রাস্তার পোলাপান’ই (শিশু ও কিশোর অপরাধীরা মূলত) ঠিকঠাক বাংলা বলতে পারে না। অ্যাটাক করতে এসে তারা সাধারণত বলে, ‘তোরে আমি খুন কইরা ফালামু’, ‘আমি তোর মাথা ফাটিয়ে দেবো’ ইত্যাদি। পরিচালক যদি বাংলাদেশ সম্পর্কে বাংলা সিনেমা দেখে ধারণা নিয়ে থাকেন, তাইলে অবশ্য তাকে দোষ দেয়া যাচ্ছে না।

বাংলা সিনেমা থেকে পরিচালক বাংলাদেশ থেকে ধারণা নিসেন, এর পক্ষে আমার কাছে আরও শক্ত যুক্তি আছে। থর সাহেব কিশোর অপরাধী গ্যাং থেকে নিজেকে বাচানোর প্রচেষ্টায় মারামারি করার এক পর্যায়ে একটি শিশু অপরাধী বলে, 'অয়, এই বোকাচোদা আমার মেশিন নিতে চায়!' হয়তো ভদ্রলোক দুর্ভাগ্যক্রমে ডিপজলের কোনো সিনেমা দেখেছেন। 

 

একটু কষ্ট করে বুঝলাম

একটা সিনেমার সকল বাংলা ডায়লগ আগে হিন্দিতে (ইংরেজিও হইতে পারে) লিখে নেয়া হইতেই পারে। কিন্তু এই সিনেমা এই লেভেলের অনেক উপরে! কোনো কোনো দৃশ্যে কোথাও যেখানে বাংলা লেখা, সেগুলাও সম্ভবত কেউ হিন্দিতে বলে দিসিলো, সে অনুযায়ী বাংলা লেখা হইসে। সিনেমার প্রথমেই দেখলাম একটা সিএনজির পেছনে লেখা, ‘নাসিব পরিবহন’ (হিন্দিতে নসিব?), অন্য একটা দৃশ্যে সিএনজির পেছনের লেখাও- যেমন- ‘আল্লাহ সার্ভ শক্তিমান’ (হিন্দিতে ‘সর্ব’?)!

[অফ টপিক- কথা কিন্তু একেবারে ভুল লেখা না। God serves the powerful, indeed.]



বোঝার আরও বিষয়

টাইলার (ক্রিস হেমসওয়ার্থ, মানে থর আর কি) লোকটা করোনা বিষয়ে সতর্ক, সেইটা বোঝা গেছে। প্রথমেই দেখা গেলো সে পানিতে লাফায়া (ক্যারেক্টার ইন্ট্রিডিউস করার সময় প্রথমেই এই টাইপের হিরোয়িক শট না থাকলে বুঝান যায় না যে এই লোক খুবই ডেয়ারিং) পানির তলে বসে শ্বাস বন্ধ করে করোনা আছে কিনা চেক করতেছে। সম্ভবত সে বুঝতে পারছিলো তার করোনা হইছে। তাই অযথাই সে একটা সুইসাইড মিশনে গেলো। এছাড়াও অভিনেতারা ঢাকায় ছিল না কিন্তু গ্রাফিক্স করে বসানো হইছে এমন একটা দৃশ্যে* তাকে নিজে মাস্ক পরার পাশাপাশি পিচ্চি পোলাকেও মাস্ক পরতে উদ্বুদ্ধ করতে দেখা যায়। অর্থাৎ এক্সট্র্যাকশন একটি করোনা বিষয়ক সচেতনতামূলক  মুভি।

ওভি নামক বাংলাদেশি নামের অবাঙালি ভারতীয় পিচ্চি কিন্তু আসলেই উদ্বুদ্ধ হইসে। সিনেমার শেষে আমরা দেখি, সেও পানির তলায় বসে শ্বাস আটকে করোনা হইসে কিনা বুঝতে চেষ্টা করতেসে। হয়তো বুঝতে পারলে সেও কোনো সুইসাইড মিশনে যাবে (সিকুয়েল? ওহ নো!)

[*অফ টপিক: সিনেমার বেশিরভাগ ‘বাংলাদেশি’ দৃশ্যই এমন, মেইন লিডদের গ্রাফিক্স করে বসানো। কী ভাবছেন, সবাই ঢাকায় আসছে?]

 

বেশি বুঝাও আছে

রনদিপ হুডার স্ত্রী চরিত্রে যে অভিনেত্রী (বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনও যে চরিত্রের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ), তার নাম নেহা ‘মহাজন’। এখান থেকে বুঝলাম, সিনেমা আসলেই রাইটাররা সেটে বসে লিখসেন। ভারতীয় নামের দরকার ছিল, সেটে ভারতীয় এই নামটাই কানে আসায়...

তবে এইখানে না বোঝার বিষয় হইলো, রনদিপ হুডার চরিত্রের নাম ‘সাজু’ কেন? সে কি খেয়াঘাটের মাঝি? তার মেয়ের নাম দেখা গেল সাদিয়া। সেও কি আগে বাংলাদেশে ছিল?

সেটে বসে গল্প লেখার সময় বাংলাদেশি কোনো সাজু কিংবা সাদিয়া নামের কর্মী থাকার সম্ভাবনা ফেলে দেয়া যাচ্ছে না।

 

আরও যা বুঝলাম

  • ঢাকা শহরের ট্রাকগুলা (যেইগুলা যেকোনো সময় চুরি করা যায়) খুব সুন্দরভাবে পেইন্ট করা। খুব ওয়েল ডেকোরেটেড। পেছনে ‘বাংলাদেশ ৫ টন’ বা ‘আল্লাহর নামে চলিলাম’ টাইপ কিচ্ছু লেখা থাকে না।
  • বুঝলাম, বাংলাদেশের পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর একমাত্র কাজ এই দেশের মাদক সম্রাট যেন পাশের দেশের মাদক সম্রাটের উপ্রে প্রতিশোধ নিতে পারে (বাই কিলিং হিজ সান) সেইটা বাস্তবায়ন করা। এইটাই মূলত তাদের জব। তারা এইজন্যই বেতন পায়। এই কাজ করতেই দুইটা ফোর্স রাখা হইসে।
  • সুলতানা কামাল ব্রিজের একেবারে মাঝ বরাবর যেখান থেকে স্নাইপার বন্দুক দিয়ে গুলি করা যায়, বিশাল প্রাসাদমতো জায়গাটা কি নদীর মধ্যে? এটা আমি কষ্ট করে বুঝে নিছি, ‘কোনো এক জায়গায় হবে’। 

 

যা একেবারেই বুঝি নাই

১# টাইলার আর রনদিপ হুডা প্রথমে কেন মারামারি করতেছিল?

২# সিনেমার প্রথমে পুলিশ আসছিল পোলাডারে ইন্টেনশনালি কিডন্যাপ করতে। তাইলে পুলিশ কি তারা যখন স্টক ধরাইবো তখনই আসবে বলে ভাবসিলো, যেন প্রথমে একটা ভাব ধরা যায় যে এই যে তোমরা স্টিক খাইতেছো, এইটা ধরতেই আমি আসছি!’? (আল্লা কি আনপ্রেডিক্টেবল!)

৩# মহাজন আগে সাজুকে বললো, ‘পাইসো কি বাত নাহি হ্যায়, ইজ্জত কা সওয়াল হ্যায়’। (টাকার বিষয় না, আমার মান-ইজ্জতের প্রশ্ন) আবার জানা গেলো, সে হ্যামেলিনের বাঁশিওয়ালার মেয়রের মতো উদ্ধারকারীগো পয়সাও দিতেসেনা (মহাজন কি একচুয়ালি বাংলাদেশের গার্মেন্টস মালিক, জাস্ট লিভিং ইন ইন্ডিয়া?)। একজন গ্যাংস্টার বইলাই কি কথা আর কাজের মিল থাকবে না? 

৪# রনদীপ হুডা হইলো মহাজনের ডান হাত (অথবা বাম হাতও হইতে পারে সে যদি লেফটি হয়)। সে বইসা আছে জেলে। দেখা গেলো তার সবকিছু সে-ই সামলায়। জেলে বইসা তারে মহাজন হুমকি দিতেসে যে আমার ছেলেরে খুইজা বাইর কর, নাইলে তোর ছেলেরে ঘাউ কইরা দিমু। আরে ব্যাটা যেমনে আরেক দেশে যাইয়া সুপারহিউম্যান মারামারি কইরা আরেক পোলারে সেভ দেয়ার চেষ্টা করলি, এর চেয়ে পরে নিজের পোলারে সেভ দিতে কম কষ্ট হইত।

৫# সদরঘাটের আশেপাশে ওই জঙ্গলটা কোথায়? টাইলার এবং পিচ্চি যতদূর দৌড়াইলো তাতে মনে হইলো মধুপুর ভাওয়াল গড়ের চেয়ে বড় জঙ্গল হইব। অনেকদিন পর ঢাকা শহরে এত লম্বা জঙ্গল দেখলাম, পরিচালককে ধন্যবাদ (জাস্ট জানতে চাই, ভাই কোথায় শুট করসেন?)

অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, ওই একেবারে ওয়েস্টার্ন সিনেমার লাহান ক্যাসিনোটা কোথায়? সেইটা নাহয় আমি বুঝে নিলাম, আন্ডারগ্রাউন্ডে বা ডন-টন লেভেলে এমন ক্যাসিনো থাকতেই পারে। তাছাড়া ক্যাসিনো আবার কী, আমি কিছু জানি না, আমি যাই নাকি ওসবে… :3

[অফ টপিক: ক্যাসিনোটা কোথায় জানলে জানাবেন প্লিজ :3 ] 

৬# ঢাকার কোন এলাকায় এখনও বাসায় বাসায় ‘লাড়কা কামাল তেরি আখিয়ো সে গোলি মারে’ দিদি তেরা দেভার দিওয়ানা, মেহেন্দি লাগাকে রাখনা এই গানগুলা শোনা হয়? ‘দিলবার দিলবার’ বা যেকোনো রিসেন্ট সিনেমার আইটেম গান দিলেও তো চলে, নাকি?

হিন্দি পুরানো গান আমিও শুনি, কিন্তু এমন কোনো পুরা কমিউনিটি এর আগে দেখি নাই যেইখানে গোটা এলাকায় নাইন্টিজের হিন্দি গান সারাদিন জোরে জোরে বাজানো হয়। দেখে ভালো লাগলো। মাঝেমধ্যে সেই এলাকায় যাইয়া পুরানো হিন্দি গান শুনে আসতে চাই, ইউটিউব অনেক ডাটা খায়।

৭# দুইজন মানুষ (দুইজনই অস্ত্রশস্ত্র পইরা সেই পিনিকে, একজন আবার সাদা চামড়ার হৃত্বিক রোশন) পাঁচ মিনিট এক্কেবারে ঢাকা শহরের মূল রাস্তায় মারামারি করায় ২৫-৩০ জন মানুষ কীভাবে জমলো? অন্তত ৪০০-৫০০ জন জমার কথা, এর মধ্যে ১০ জন কন্টিনিয়াসলি ইন্সট্রাকশন দিতে থাকার কথা, ৩০ ন লাইভে যাওয়ার কথা। কেউ কেউ হয়তো বাজিও ধরতো। অথচ দেখা যাচ্ছে, নির্বিকারে সিএনজি যাইতেসে, কেউ মোবাইলে ভিডিওও করতেসে না।

এই দৃশ্যে ঘটনাটা গ্রাফিক্স অর্থাৎ তাহারা সত্যিকারে ওই জায়গায় নাই, এইজন্যই এত কম মানুষ মে বি! (আচ্ছা এইটা কষ্ট করে বুঝে নিলাম)

৮# সিএনজির পেছনে বা গাড়িতে খারাপ ফন্টে বাংলা লেখা থাকতে পারে। বাংলাদেশের মানুষের ফন্ট সেন্স খুবই খারাপ, এতে আমার কোনো সন্দেহ নাই। কিন্তু পুলিশের একটা অনেক বড় অফিসারের (যে পার্ট টাইম দেশি মাদক সম্রাটের সেক্রেটারি) নেমপ্লেটে এত খারাপ ফন্টে নাম লেখা থাকা, একেবারেই মাইনা নিতে পারলাম না। একটা গড ড্যাম বড় অফিসার, তার নামটা তো সুন্দর ফন্টে লিখবি? 

৯# এই একটা পোলারে বাচায়ে কি টাইলার পাপমোচন করতে চায় নাকি বুঝাইতে চায় যে তার মৃত ছেলেরে সে মিস করে? জানা যায় নাই। পাপমোচনের জন্য আরও দেড়-দুইশ মানুষ মারায় তার কোনো এক্সট্রা পাপ হইতেছে কিনা সেইটাও জানার উপায় নাই।

১০# সুলতানা কামাল ব্রিজের উপর শেষে দেখা গেল প্রচুর গাড়ি দাঁড়ানো। এইগুলার কোথাও কোনো মানুষ নাই, ব্যাপার কী? সবাই কি হুট করে গাড়ি রাইখা লকডাউনে চইলা গেল?

১১# বিদেশি লোকজন পুলিশ-আর্মির হেলিকপ্টার নামায়া দিতে পারলেও, দেশের পুরা পুলিশ আর্মি মিইলাও ওগোটা নামাইতে পারে না। এ কি অবস্থা আমাদের সামরিক শক্তির?

 

যা বুঝিই নাই

টাইলার আর রনদীপ হুডা মারামারি করতেছিল কেন?*

*ট্রাস্ট মি, আপনি উপরে যতক্ষণ আগে আরেকবার এই প্রশ্নটা পড়সিলেন, তারা দুইজন তার চেয়েও বেশিক্ষণ মারামারি করসে! মহাজন আর সাজুর কাছে নাকি ওই বিদেশি রেস্কিউ গ্রুপরে দেয়ার মতো টাকা নাই, তাই সাজু গেসে নিজেই র‍্যাম্বোগিরি করে ছুটাইতে (মূল কারণ: সিনেমায় একটা সাবপ্লট দরকার ছিল। তবে রনদিপ হুডা খুবই গুরুত্বপূর্ণ সাবপ্লট, কারণ একমাত্র চুমুর দৃশ্যটা তার।)

টাইলারের সাথে তখন সে মারামারি করলেও পরে টাইলার বুঝে যে ব্যাপার না টাকা লাগবে না আমি ওরে বাচ্চাটা দিয়া দেই (আরে ব্যাটা তখন কী সমস্যা ছিল এমনিও পাইতাসোস না টাকা)...

কথা একটা কইলেই হইছে। -_-

ভালো কথা, এই গরিবরা মুম্বাইয়ের ড্রাগলর্ড? আই এম রিয়ালি ডিজয়েপয়েন্টেড এবাউট মুম্বাইয়ের ড্রাগ বিজনেস। ঢাকা-কক্সবাজারে তো মাম্মা সব ঠিকঠাক...



চিয়ার আপ পিপল

সিনেমায় একটা মারামারি করা নায়িকাও আছে

এই ধরনের অ্যাকশান সিনেমায় জেন্ডার ব্যালেন্স করার জন্য একজন ‘একদম মারদাঙ্গা’ চরিত্রের নারী রাখার সংস্কৃতি সেই বন্ডের যুগ হইতেই রয়েছে। এই চরিত্রের নারীটির মোট স্ক্রিন প্রেজেন্স থাকে সিনেমার এন্ড ক্রেডিটের সমান। তাহারা নায়কের সহকারী হইবে অথবা নায়ককে অযথাই (মানে প্রেম থাকুক বা না থাকুক) অন্যদের চেয়ে বেশি কেয়ার করিবে। সারা সিনেমায় নায়ক সাইড নায়ক এমনকি ভিলেনের সাঙ্গপাঙ্গরা পর্যন্ত সবাই নানান কারিকুরি দেখাইবে এবং শেষে আইসা মূল ভিলেনকে মাইরা নারীটি জেন্ডার ব্যালেন্স করিবে। 

এছাড়াও মাঝেমধ্যে বিভিন্ন অযৌক্তিক টুইস্ট দেয়ার দায়িত্বও ইনাদের (সম্ভবত সুন্দরীরা ফালতু কথা বললেও লজিক খুঁজতে ইচ্ছা হয় না)।

না বোঝার বিষয়টা অন্য।

এক্সট্রাকশনে এই বিশেষ চরিত্রে অভিনয় করা শ্যামাসুন্দরীর (ইরানি এই অভিনেত্রীর নাম আমার পক্ষে উচ্চারণ করা সম্ভব না, শুধু বলে রাখি তার নামের চেয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া উচ্চারণ সহজ) সঙ্গে টিভি সিরিয়ালের সাজুগুজু করে ঘুমানো ভদ্রমহিলাদের একটা মিল কেন পাইলাম, এটা আমি বুঝতে পারি নাই। আরেক দেশে গিয়া ব্রিজের উপ্রে পুলিশ-আর্মির সাথে গোলাগুলি করার সময়ও তিনি চোখে আইলাইনার দিয়া যান।

সিনেমায় উনার স্ক্রিনটাইম এই লেখায় তার ব্যাপারে যত পার্সেন্ট কথা বলা হইলো, পার্সেন্টেজে তার চাইতেও কম। বলা যায়, এই সিনেমায় উনি থাকায় আসলে ‘খুব উপকার হইলো’।

 

পরিশেষে বলতে পারি

এই সিনেমার নাম নাকি রাখার কথা ছিল ‘ঢাকা’ (যেখানে লিড এক্টররা আদৌ সেই শহরে আসেন নাই)! নাম হিসেবে সেইটা অবশ্য বেশ উপযুক্তই হইত, কারণ এক কথায় এই সিনেমার মান ঢাকার তথা বাংলাদেশিদের জীবনযাত্রার মানের মতোই। সিনেমাটা এই লেখার মতোই অযথা এবং অযথাই লম্বা। লেখাটা পড়ে আপনি অবশ্য ঠকেন নাই, ১০ মিনিটের এই লেখাটির কারণে হয়তো বেঁচে যাবে আপনার মূল্যবান ১ ঘন্টা ৫৭ মিনিট, যেই সময়ে আপনি হয়তো ৩৮-৪০ বার ফেসবুকের পুরা হোমপেজ ঘুরে আসতে পারবেন। তবে লেখকের মতো যদি কোয়ারেন্টাইনে ফ্যান কতবার ঘুরতেসে গোনা, টাইলস গোনা, ডাল গোনা এভাবে সময় কাটান, তাইলে এই সিনেমা দেখতেই পারেন।

পলিটিশিয়ানদের ভাষণ আর এক্সট্রাকশন সিনেমার মতো এই লেখাটাও বারবার শেষ হওয়ার আশা জাগিয়েও শেষ হচ্ছে না। ওকে, শেষ। জাস্ট একটা বড় বোঝা এবং না বোঝা দিয়ে শেষ করি। সবচেয়ে বড় যে বিষয়টা বুঝলাম, কাজী মারুফ অথবা রুবেলের সিনেমা অনেক বেটার প্রডাকশন আর বেটার টেকনিকাল অ্যাসপেক্টে বানাইলে নেটফ্লিক্সে রিলিজ দেয়া সম্ভব। এবং ভালো ব্যাপার হলো, সেই সিনেমায় সব অভিনেতা আরও বিশ্বাসযোগ্যভাবে বাংলা বলবে। 

একেবারেই যা বুঝি নাই তা হলো, এই সিনেমার রাইটিং কিংবা প্রডাকশনে কি বাঙালি কেউ ছিল না? অথবা নেটফ্লিক্সেও কি বাংলাদেশি কেউ নাই? (ভাই আমি ফ্রি আছি, যেকোনো কাজ করবো, চা ভালো বানাই :3) সে/তারা কি রিলিজ দেয়ার আগে এই সিনেমা দেখসে? যদি থাকেন, তাদের প্রতি একটা ছোট্ট প্রশ্ন, ‘বাংলাদেশের কারে দেখছেন এম্নে বাংলা বলতে?’

 

আরও পড়ুন

নেটফ্লিক্স না থাকায় কল্পনায় আমি 'এক্সট্রাকশন' মুভিটা যেমন দেখলাম

যে ১০টি কারণে এক্সট্রাকশন ঢাকাকে সঠিকভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারেনি

৪৫২৮ পঠিত ... ১১:১২, এপ্রিল ২৫, ২০২০

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি

স্যাটায়ার


Top