এগারো বছর পর বাসা পাল্টাচ্ছি। পাঁচ তলা থেকে একই এলাকার আরেক বিল্ডিংয়ের নয় তলায়। এই দীর্ঘ সময়ে নানান জিনিসপত্র জমেছে। অনেক কিছু নেব না নেব না করেও দেখি, পাহাড়সমান হয়ে গেছে। চারজন কামলা দিতে এসেছে। তাদের সঙ্গে আমিও হাত লাগালাম। পরিশ্রম কম না। গতকাল আধা দিন, আজও আধা দিন।
তো আজ শেষ দফায় মালপত্র সব রেখে ওই চারজন বিল নিতে এসেছে। আমিও তাদের সাথেই। তাদের মতোই লুঙ্গি-গেঞ্জি পরা, ঘামে ভেজা। আমাকে বরং তাদের চেয়েও বেশি শ্রমিক লাগছে।
আম্মা চারজনকে টাকা দিল, আমাকে দিল না!
আমি অবাক গলায় বললাম, কী ও খালা, কাল থেকে খাটতেছি। আমাকে টাকা দিবেন না?
আম্মার শরীর-মেজাজ দুটোই খারাপ। সে কঠিন মুখে তাকিয়ে আছে। আমার পাশের চার শ্রমিক টাকা হাতে কী করবে বুঝতে পারছে না। হাসবে? হাসলে যদি আবার আম্মা মাইন্ড করে!
আমি বললাম, দেন খালা, দেন! গরিবের পেটে লাথি দিলে আখেরাতে...
কথা শেষ করতে পারলাম না। নতুন বিল্ডিংয়ের পাশের ফ্ল্যাটের দরজা খুলে বয়স্কা এক ভদ্রমহিলা বের হলেন।
আমি কথা কন্টিনিউ করলাম, দেন খালা, গরিবের হক মাইরা খাইলে...
পাশের ফ্ল্যাটের বয়স্কা ভদ্রমহিলা আমাকে দেখছেন, আমি আম্মাকে দেখছি, আম্মা পাশের ফ্ল্যাটের মহিলাকে দেখছেন, আর চার শ্রমিক নিজেদের মধ্যে মুখ চাওয়াচাওয়ি করছে।
আম্মার ব্যাগটা তার গলাতেই ঝুলানো। এই এলোমেলো অবস্থায় কোথায় রাখবে বুঝতে না পেয়ে গলায় তাবিজের মতো পরে রেখেছে।
আম্মা চুপচাপ ৫০০ টাকার একটা নোট বের করে দিল।
আমি টাকাটা নিয়ে কপালের ঘাম মুছে হাসিমুখে বললাম, শুকরিয়া!



পাঠকের মন্তব্য