ভাড়াটিয়ার ঝোলানো সাইনবোর্ড দেখে মালিক মতিন মিয়া ভীষণ খেপে গেলেন। কত্ত বড় সাহস! জায়গা আমার, বাড়ি আমার, বাসা ভাড়া দিলে আমি দিব, ভাড়াটিয়া কোন সাহসে এমন সাইনবোর্ড ঝোলায়!
তিনি ভাড়াটিয়ার দরজার সামনে দাঁড়িয়ে কলিং বেল না চেপে দরজায় ধুপ ধাপ আঘাত করতে লাগলেন। ভেতর থেকে রফিক দরজা খুলে দিলো।
মতিন মিয়া চ্যাতে গিয়ে বললেন, কী রফিক! তুমি আমার বাড়িতে ভাড়া থাকো, আবার আমার ঘর আরেকজনকে ভাড়া দিতে চাও! ইনকামের নতুন ফন্দি শিখছো মিয়া? আমি এইটা লঙ্গরখানা খুইলা রাখিনি। তুমি সামনের মাসেই আমার বাসা ছাড়বা। এই সাইনবোর্ড এখানেই থাকবে, সত্যি এখন— ঘর ভাড়া দেওয়া হইবে।
রফিক মতিন মিয়ার হাত ধরে ফেললো।
চাচা, আপনে এত গরম হয়েন না। এই সাইনবোর্ড আমি নতুন ভাড়াটিয়ার জন্য লাগাইনি। লাগাইছি আপনার জন্য। আপনে মাসের দুই-তিন তারিখ যাইতে না যাইতে— ঘর ভাড়া দাও, ঘর ভাড়া দাও বইলা অস্থির হয়া যান। আপনের অস্থিরতা কমাইতেই লিখছিলাম— ঘর ভাড়া দেওয়া হইবে। ভাড়া না দিয়া তো পলায়া যাইতাছি না, চাচা।



পাঠকের মন্তব্য