বন্যা দেখতে গিয়ে পিএনও-পত্নীর ফোন যখন পানিতে পড়ে গেলো

১৯৪ পঠিত ... ১৯:২৭, জুলাই ২৯, ২০১৯

 

সে অনেককাল আগের কথা। একটা দেশ, রাজা-রাণী, রাজকন্যা, উজির-নাজির, মন্ত্রী-মিনিস্টার সবই আছে গল্পে, যেমনটা থাকে আরকি। তো হলো কি, সেই দেশে দেখা দিল ভয়াবহ এক বন্যা। দেশের গ্রাম-গঞ্জ, হাট-বাজার, পথ-প্রান্তর, যেদিক দু চোখ যায় যেন অকূল দরিয়া!

বন্যাকবলিত এক পরগনার নির্বাহী উজির (পরগণা নির্বাহী উজির- পিএনও) গেলেন মানুষের দুঃখ দুর্দশা দেখে আসতে। নৌকায় ঘুরতে যাবেন শুনে তার স্ত্রীও চললেন সঙ্গে। নৌভ্রমণের এমন সুযোগ কেইবা হাতছাড়া করতে চায়। স্নিগ্ধ মেঘলা দুপুরে তখন তারা অচেনা এক নদীর মাঝে। দূর পানিতে আলোড়ন দেখে কৌতূহলী হয়ে পড়লেন দম্পতি। নৌকা সেদিকে গিয়ে দেখা গেল এক অবিশ্বাস্য দৃশ্য। মৎস্যকন্যার একটি দল হাসছে-খেলছে আর জলকেলি করছে।

এমন দৃশ্য দেখে আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়লেন উজিরের স্ত্রী। নিজের লেটেস্ট স্যামসাং গ্যালাক্সি মোবাইল বের করে ছবি তোলা শুরু করেন। মৎস্যকন্যাদের এসবে খেয়াল ছিল না। কিন্তু হুট করে একজনের নজরে পড়ল এমন দৃশ্য। তাদের এমন ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি তোলায় মৎস্যকন্যারা তো ভীষণ ক্ষেপে গেলো! রেগেমেগে পিএনও আর তার স্ত্রীর দিকে এগিয়ে আসতে শুরু করলো। তাই দেখে হকচকিয়ে গেলেন পিএনওর স্ত্রী, আর তখনই তার হাত থেকে ফোনটা ঝপাস করে পানিতে পড়ে গেলো!

ফোন পড়ে যাওয়ার পর পিএনও-পত্নী কী যে একটা চিৎকার দিলেন! সেই চিৎকারে মৎস্যকন্যারাও ভয় পেয়ে গেলো। পিএনও-পত্নী হাউমাউ করে কাঁদতে শুরু করলেন। ওই ফোন যে তার বড্ড প্রিয়! আঁতুড়ঘর থেকে রান্নাঘর,  বিছানা থেকে বাথরুম, সবখানে এই ফোনটি তিনি সঙ্গে রাখতেন, কখনো নিজের কাছ থেকে আলাদা করতেন না। 

তার এমন কান্নাকাটি দেখে মৎস্যকন্যাদের বড় মায়া হলো। একজন মৎস্যকন্যা এগিয়ে গিয়ে বললো, ‘কাঁদবেন না আপ্পি। আপনার ফোন আমরা খুঁজে দিচ্ছি।’ বলেই পানির মধ্যে মারলো এক ডুব। পিএনও-পত্নীর কান্না তাতে কমলো বটে, থামলো না। কিছু বাদেই মৎস্যকন্যা একটি আইফোন টেন নিয়ে এসে এগিয়ে দিয়ে বললো, ‘দেখুন তো আপ্পি, এটাই আপনার ফোন কিনা।’

আইফোনের দিকে তাকিয়ে পিএনও আর পিএনও-পত্নীর চোখ যেন চকচক করে উঠলো। আইফোন টেন কিনতে গিয়েই তো বাজেটে না পেরে কিনেছিলেন ওই স্যামসাং গ্যালাক্সি। পিএনও-পত্নী কান্না থামিয়ে বললেন, ‘হ্যাঁ হ্যাঁ, এটাই আমার ফোন!’ বলে যেই না তিনি ফোন নিতে হাত বাড়িয়ে দিলেন, মৎস্যকন্যা ফোনটি আবার পানিতে ফেলে দিয়ে বললো, ‘কাঠুরে আর সোনার কুড়াল রূপার কুড়ালের গল্প পড়েন নাই?’ এই শুনে বাকি মৎস্যকন্যারা হেসে লুটোপুটি খেতে লাগলো। হাসতে হাসতেই মৎস্যকন্যারা জলের অতলে কোথায় যেন চলে গেলো।

ওদিকে আসল ফোন নকল ফোন দুটোই হারিয়ে পিএনও-পত্নী পুরোপুরি মূর্ছা গেলেন। পিএনও তার পাশে বসে কত বোঝালেন, ‘আমি তোমাকে আরও ভালো ফোন কিনে দেবো’, ‘তোমাকে মার্সিডিজ গাড়ি কিনে দেবো’! তবু তার জ্ঞান ফিরলো না।

ঠিক সে সময় সেখানে এসে উপস্থিত হলো বড়সড় আকারে প্রবীণ এক কচ্ছপ। সে পিএনওকে বললো, ‘লাভ নেই। আপার জ্ঞান ফিরবে না। ফোনটা উদ্ধার করতেই হবে।’

পিএনও কচ্ছপের পরিচয় জানতে চাইলেন। কচ্ছপ জানালো, তার নাম মিস্টার কাছিম। সে একজন জ্ঞানী কচ্ছপ। বিভিন্ন ঈশপের গল্পগুলোতে সে জ্ঞানী ব্যক্তির ভূমিকা পালন করেছে গত কয়েকশ বছর। মিস্টার কাছিম জানালো, ডুবে যাওয়া ফোন উদ্ধার করতে না পারলে পিএনও-পত্নীকে আর জাগানো যাবে না। ও যে শুধু ফোন না, ওই ফোনেই লুকিয়ে আছে পিএনও-পত্নীর প্রাণভোমরা!

পিএনও আঁতকে উঠলেন! যে করেই হোক, ওই ফোন উদ্ধার করতেই হবে! কিন্তু কী করে তা সম্ভব? চারিদিকে যে অথৈ সমুদ্র! এই প্রবল স্রোতস্বিনীর মাঝে ঝাঁপিয়ে পড়ে কে খুঁজে আনবে সেই ফোন?

 

পরিশিষ্ট:

রাজ্যের নামকরা সব ডুবুরিদেরকে ডেকে আনা হলো। কয়েক ঘন্টার রুদ্ধশ্বাস অভিযানে অবশেষে খুঁজে পাওয়া গেলো পিএনও-পত্নীর প্রাণভোমরা তথা স্যামসাং গ্যালাক্সি স্মার্টফোন। পিএনও-পত্নী জেগে উঠলেন। ফোন খুঁজে পাওয়ার আনন্দে দুজন সেলফিও তুললেন একসঙ্গে। লেন্সে পানি ঢুকে পড়ায় ছবি একটু ঝাপসা আসলেও দুজনে ফোন খুঁজে পেয়ে খুশি।

ডুবুরিদের কেউ একজন কিন্তু একটা আইফোন টেনও খুঁজে পেয়েছিল। সে অবশ্য সে কথা কাউকে বলেনি। আমরাও তা কাউকে জানাতে চাই না। কিছু কথা থাক না গোপন! 

১৯৪ পঠিত ... ১৯:২৭, জুলাই ২৯, ২০১৯

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

রম্য

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি

স্যাটায়ার


Top