নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই জনগণের হাতে ফ্যামিলি কার্ডসহ নানাবিধ কার্ড তুলে দেওয়া হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় এবার গরমে অতিষ্ঠ জনগণের জন্য চালু হতে যাচ্ছে এক যুগান্তকারী উদ্যোগ—সামার কার্ড। এই কার্ড বিশেষভাবে বরাদ্দ থাকবে সেই সব নাগরিকদের জন্য, যারা বছরের এই সময়টাতে ফেসবুকে নিয়মিতভাবে এই গরমে আর বাঁচি না স্ট্যাটাস দিয়ে থাকেন, দিনে অন্তত তিনবার ‘শীত কই?’ বলে দীর্ঘশ্বাস ফেলেন এবং উঠতে-বসতে সামার লাভারদের গুষ্টি উদ্ধার করেন।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, প্রত্যেক স্বীকৃত সামার হেটারকে দেওয়া হবে একটি করে স্মার্ট সামার কার্ড। এই কার্ড ব্যবহার করে তারা আনলিমিটেড বরফের সাপ্লাই পাবেন। পাশাপাশি থাকবে বিশেষ সুবিধা।মাত্র ২% সুদে এসি কেনার লোন, সঙ্গে বোনাস হিসেবে একটি হাতপাখা এবং গরমে শান্ত থাকুন লেখা ও বরফের ছবিসহ একটি মোটিভেশনাল পোস্টার।
তবে এই মহৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য অর্থায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দেশের সামার লাভারদের ওপর। অর্থাৎ যারা গরমে ,এই তো ভালোই লাগছে বলে স্ট্যাটাস দেন বা রোদে বের হয়ে সেলফি তুলতে পছন্দ করেন, তাদের ওপর আরোপ করা হবে বিশেষ ‘সানশাইন ট্যাক্স’। কর ফাঁকি রোধে ইতোমধ্যে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে, যারা সন্দেহভাজন সামার লাভারদের টাইমলাইন নিয়মিত মনিটর করবে। কেউ যদি ‘গরমে আম খাওয়ার মজা আলাদা’ টাইপ পোস্ট দেন, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে তার ইনবক্সে ট্যাক্স নোটিশ চলে যাবে।
নিজেদের ওপর নতুন এই ট্যাক্সের খবর শুনে এক সামার লাভার ক্ষোভ প্রকাশ করে নিজের আইডি থেকে সাঈদ খোকনের বিখ্যাত আর মানুষ পান নাই ভিডিও মিমটি পোস্ট করেন। এদিকে সামার হেটারদের মধ্যে দেখা গেছে ব্যাপক উচ্ছ্বাস। কেউ কেউ ইতোমধ্যে সামার কার্ডের ডিজাইন নিয়ে ফেসবুকে প্রোফাইল ফ্রেম বানিয়ে ফেলেছেন। আবার অনেকে বলছেন, ভবিষ্যতে এই কার্ড দিয়ে যদি অফিসে ‘গরমের কারণে ছুটি’ নেওয়ার সুবিধাও যোগ করা হয়, তাহলে তারা সরকারের প্রতি আজীবন কৃতজ্ঞ থাকবেন।
সরকারি এক কর্মকর্তা অবশ্য আশ্বাস দিয়ে জানিয়েছেন, এটি শুধু শুরু। সামনে পর্যায়ক্রমে চালু হতে পারে ‘বর্ষা ভিকটিম কার্ড’ শীত অলসতা কার্ড’ এবং বিশেষ পরিস্থিতিতে ‘লোডশেডিং সারভাইভার কার্ড, যাতে দেশের প্রতিটি নাগরিকই কোনো না কোনো কার্ডের আওতায় এসে নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করতে পারেন।


