আমার সহকর্মী যুগান্তকারী একটা তথ্য এবং বুদ্ধি দিলো। কথা হচ্ছিলো জিন্স প্যান্ট প্রসঙ্গে। সে আমাকে জানালো, ভাই, জিন্স প্যান্ট তো ধোয়া লাগে না।
আমি আঁতকে উঠে বললাম, তাহলে ময়লা পরিস্কার কীভাবে হবে?
সে জানালো, ময়লা জিন্সের জন্য বড় বিষয় না।
বড় বিষয় কী?
বড় বিষয় হলো প্যান্টটা জীবাণুমুক্ত করা। এজন্য যেটা করবেন, প্যান্টটা সুন্দর করে ভাঁজ করে একটা পলিব্যাগে মুড়িয়ে ডিপ ফ্রিজে রাখবেন, এতে জিন্সটা জীবাণুমুক্ত হবে।
এমন বুদ্ধির পর আমার খুব ইচ্ছা হচ্ছে একটা জিন্স ডিপ ফ্রিজে রাখতে। কিন্তু সাহস হচ্ছে না, কারণ ব্যাপারটা স্ত্রীর চোখ এড়িয়েও করা সম্ভব না। আর একবার যদি ডিপ ফ্রিজে রাখা জিন্সসহ ধরা পড়ি, খুব সম্ভবনা আছে—হয় আমাকে পাগলা গারদে দিয়ে আসবে, নইলে রিহ্যাবে নিয়ে যাবে। ইজ্জতের ফালুদা হয়ে যাবে।
থাক, ডিপ ফ্রিজে জিন্স রাখার দরকার নাই বাবা। পৃথিবীতে সবাই কি ডিপ ফ্রিজে জিন্স রাখছে? তবুও তো তারা সুখে আছে! ৬০০ কোটি মানুষের কতজনই বা ডিপ ফ্রিজে জিন্স রাখে?
কিন্তু আমার মনের কোণে জিনিসটা লেগেই আছে, মনে হচ্ছে কী আর এমন হবে একদিন যদি জিন্সটা টুপ করে ডিপে রেখে দিই। হিমহিম ঠান্ডা ঠান্ডা জিন্স পরে বের হবে, ভাবতেই তো মনে আনন্দ দোল খাচ্ছে। জীবনে যদি এইসব ছোট ছোট ইচ্ছা পূরণ করতে না পারি, তাহলে কিসের আর মানবজীবন?
তাই অতশত না ভেবে, খুব সাবধানে রাতে স্ত্রী ঘুমানোর পর রাতের আঁধারে জিন্স প্যান্ট ভাঁজ করে পলিব্যাগে মুড়িয়ে রাখলাম ডিপ ফ্রিজে। মাছ-মাংসের সাথে না মিশে যাওয়ার জন্য পলিতে একটা লাল দাগ দিয়ে দিলাম—ভুলে কেউ যেন মাংস মনে না করে। সকালে স্ত্রী ঘুম থেকে ওঠার আগেই প্যান্টটা বের করে পরে অফিসে চলে যাব। কিচ্ছুটি টের পাবে না, ইশ!
সকালে অন্যদিনের আগে উঠলাম। ফ্রেশ হয়ে ফ্রিজ থেকে বের করে দুরুদুরু মনে যখনই জিন্সটা নিয়ে পরতে গেলাম, তখনই স্ত্রী ঘুম থেকে উঠে হায়হায় করতে করতে বলল, এই! এই! করছো কী? করছো কী? পরার আগে জিন্সটা একটু ওভেনে গরম করে নাও।”



পাঠকের মন্তব্য