সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের স্মরণে সংসদে শোক প্রস্তাব গৃহীত

পঠিত ... ২ ঘন্টা ৪৯ মিনিট আগে

জাতীয় সংসদে আজ এক নজিরবিহীন দৃশ্যের অবতারণা হয়েছে। এবারের ঈদুল ফিতরের যাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২৭৪ জনের স্মরণে উত্থাপিত শোক প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়েছে। প্রস্তাবটি গৃহীত হওয়ার পর স্পিকারের আহ্বানে পুরো সংসদ ১ মিনিট নীরবতা পালন করে, তবে সেই নীরবতা ভেঙে খানখান হয়ে যায় যখন সংসদ কক্ষে কান্নার রোলে শোকের মাতম শুরু হয়।

সবচেয়ে আলোচিত দৃশ্য ছিল মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের আবেগঘন মুহূর্ত। শোক প্রস্তাবটি পাসের সময় তিনি এতই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন যে, অঝোরে কাঁদতে থাকেন।একপর্যায়ে তিনি এতটাই ভাববিহ্বল হয়ে পড়েন যে, নিজের প্রতি চরম সহানুভূতি থেকে নিজ হাতে নিজের গালে ও হাতে চুমু দিতে শুরু করেন। নুরুল হক নুর জানান,আলমগীর সাহেব হয়তো বোঝাতে চেয়েছেন—যাঁরা মারা গেছেন তাঁরাও আমাদের অংশ, তাই নিজেকে ভালোবাসা মানেই তাঁদের ভালোবাসা।

অন্যদিকে, ড. খলিলুর রহমান কে দেখা গেছে ডুকরে কাঁদতে। তিনি টেবিল চাপড়ে বলছিলেন, এই ২৭৪ জন কি তবে নতুন বাংলাদেশের নতুন রাজপথের শহীদ? এই মবিং আর কতকাল চলবে?” তাঁর চোখের জলে ভিজে গিয়েছিল সামনের ডেস্কের ফাইলপত্র। তিনি দাবি করেন, সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিটি গর্তকে ফ্যাসিবাদী গর্ত হিসেবে চিহ্নিত করে এখনই উপড়ে ফেলতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই শোক প্রস্তাবে সংহতি প্রকাশ করেন। তিনি দেশের প্রতিটি পরিবারকে আশ্বস্ত করে বলেন:
জিয়া পরিবারের পক্ষ থেকে আমরা জনগণের দুর্ভোগ বুঝি। ফ্যামিলি কার্ডের অভাব যেমন আমরা পূরণ করেছি, তেমনি আমরা ঘরে ঘরে এক্সিডেন্ট কার্ড পৌঁছে দেব। কেউ যদি সড়কে প্রাণ হারান, তবে এই কার্ডের মাধ্যমে তাঁর পরিবারকে জানাজার খরচ এবং এক সেট করে নতুন হেলমেট কুরিয়ার করে পাঠানো হবে। কেউ যেন কার্ড ছাড়া মরতে না পারে, সেটাই হবে আমাদের আগামীর ভিশন।
শোক প্রস্তাব পাসের পর সড়ক পরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, সংসদ আজ যা করল, তা ইতিহাসে লেখা থাকবে। আমরা রাস্তা ঠিক করতে পারিনি তাতে কী, শোক তো করতে পেরেছি! ২৭৪ জন নিহতের স্মরণে মহাসড়কের মোড়ে মোড়ে আমরা শোক তোরণ নির্মাণ করব, যাতে চালকরা সেগুলো দেখে আরও বেশি আবেগপ্রবণ হয়ে ব্রেক কষতে ভুলে যান।

পঠিত ... ২ ঘন্টা ৪৯ মিনিট আগে

Top