প্রিয় মানুষ,
তোমাদের আকাশটা বড় নীল মনে হয়েছিল বলে সাত সমুদ্র তেরো নদী পেরিয়ে এসেছিলাম। ডানা যখন ক্লান্তিতে ভেঙে আসছিল, তখন ভেবেছিলাম মেঘনার এই শান্ত চরাঞ্চল বুঝি আমাদের পরম আশ্রয়। আমরা তো আসতাম তোমাদেরই অতিথি হয়ে, তোমাদের ফসলের পোকা খেতে, তোমাদের বসন্তকে গান দিতে। কিন্তু বিনিময়ে তোমরা আমাদের কী দিলে?
বুকের ভেতর কয়েক দলা তপ্ত সীসা!
আজ আমাদের মৃত চোখের কোটর থেকে বলতে ইচ্ছে করছে,প্রকৃতি বড় কাঁদছে, তোমরা মানুষ হয়ে বন্দুক ছাড়ো! তোমাদের আশি বছরের অভিজ্ঞতা কি তবে এই রক্তপাতের পাঠ শেখাল? সাদা চুলের নিচে যে মগজ আছে, তা কি এক মুহূর্তের জন্য কাঁপল না যখন আমাদের কচি হাড়গুলো মটমট করে ভাঙছিল? তোমরা তো রক্ষক ছিলে, তবে কেন ভক্ষক সেজে সাতটি বস্তায় আমাদের নিথর শরীরগুলো ঠেসে ধরলে? ১৫০ কেজি মাংসের দলা কি তোমাদের আভিজাত্যের তৃষ্ণা মেটাতে পারল?
তোমাদের আইন বড় অদ্ভুত! চার মণ লাশের বিচার হলো মাত্র কয়েক হাজার টাকায়? তোমরা আমাদের প্রাণের দাম ধরলে কয়েকটা মুদ্রায়, যেন আমরা হাটের পণ্য। তোমাদের এই শখ আসলে এক গভীর অসুখ। শোনো মানুষ, যেদিন আমাদের ডানা ঝাপটানো থেমে যাবে, সেদিন তোমাদের আকাশও গুমোট হয়ে আসবে। পোকামাকড় তোমাদের শস্য চিবিয়ে খাবে, আর তোমরা সেই বিষাক্ত দানা খেয়ে নিজেদের সভ্য বলবে।
আমরা তো মরেই গেছি। কিন্তু তোমাদের বিবেক? সে কি আদৌ বেঁচে আছে, নাকি ওটাও কোনো এক সাবেক কর্তার বন্দুকের নলের ভেতরে গুমরে মরছে?
বিদায় নিচ্ছি। তবে মনে রেখো, মেঘনার চরে পড়ে থাকা প্রতিটি পালক তোমাদের বিচার করবে। প্রকৃতির আদালতে কোনো বয়স বিবেচনা নেই।
ইতি,
এক নামহীন পরিযায়ী পাখি



পাঠকের মন্তব্য