ডিপস্টেটে ঘুরাতে নিয়ে যাওয়ার জন্য বাড়ছে বউয়ের চাপ। জানালেন বাংলাদেশি স্বামীরা

৩৫ পঠিত ... ২৩ ঘন্টা ১০ মিনিট আগে

নেপাল, থাইল্যান্ড কিংবা বালির দিন শেষ। দেশের মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত দম্পতিদের মধ্যে এখন ভ্রমণের নতুন হটস্পট হয়ে দাঁড়িয়েছে রহস্যময় ডিপ স্টেট। গত কয়েকদিনে জাতীয় রাজনীতিতে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার ডিপ স্টেট সংক্রান্ত বক্তব্যের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই নতুন পর্যটন গন্তব্য নিয়ে হুলস্থূল পড়ে গেছে। 

বিশেষ করে নববিবাহিত এবং দীর্ঘদিনের বিবাহিত স্ত্রীদের পক্ষ থেকে স্বামীদের ওপর চাপ আসছে,এবারের ঈদে বা ছুটিতে অন্য কোথাও নয়, সরাসরি ডিপ স্টেটে ঘুরতে যেতে হবে। 

রাজধানীর ধানমন্ডির বাসিন্দা বেসরকারি চাকুরিজীবী রাশেদ আহমেদ  জানান এক করুণ অভিজ্ঞতার কথা। তিনি বলেন, সকালে চা খেতে বসতেই গিন্নি ধরলেন। বললেন, সবাই তো সিকিম-দার্জিলিং যায়, তুমি আমাকে একটু আনকমন কোথাও নিয়ে চলো। এই যে পেপারে পড়লাম ডিপ স্টেটে নাকি ২০২৯ সাল পর্যন্ত থাকার রোডম্যাপ পাওয়া যায়। আমাদের হানিমুনটা নাহয় ওখানেই হোক! অন্তত পাঁচ বছরের একটা গ্যারান্টি তো পাওয়া যাবে!

একই অবস্থা দেখা গেছে মিরপুরের এক নবদম্পতির ক্ষেত্রেও। স্ত্রী সুমনা আক্তার তার স্বামীকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, পাশের বাসার ভাবী গত মাসে নেপাল ঘুরে এসেছে। আমি ওসব সস্তা পাহাড়ে যাব না। আসিফ ভাই যেহেতু বলেছেন সেখানে দেশি-বিদেশি ইনগ্রেডিয়েন্ট আছে, তার মানে নিশ্চয়ই লাক্সারি কোনো জায়গা। আমাকে জলদি ডিপ স্টেটের টিকিট কেটে দাও।

এদিকে আকস্মিক এই চাহিদাপ্রেক্ষিতে বিপাকে পড়েছেন ট্রাভেল এজেন্টরা। রাজধানীর মতিঝিলের এক ট্রাভেল এজেন্সি মালিক জানান, গত দুদিনে অন্তত ৫০০ জন ফোন করে ডিপ স্টেটের প্যাকেজ ট্যুর চেয়েছেন। অনেকে জানতে চাচ্ছেন সেখানে অন-অ্যারাইভাল ভিসা পাওয়া যায় কি না, কিংবা আইএসআই বা আমেরিকান থাপ্পড় থেকে বাঁচতে কোনো স্পেশাল ইনস্যুরেন্স লাগবে কি না।

তিনি আরও যোগ করেন, একজন তো এসে বললেন, ‘ভাই, ডিপ স্টেট কি উত্তরায়? নাকি পূর্বাচলের ওদিকে? মেট্রো রেলে কি যাওয়া যাবে?’ আমরা তাদের বোঝাতে পারছি না যে এটা কোনো ভৌগোলিক রাষ্ট্র নয়, এটা অদৃশ্য শক্তি।

ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রামে ইতিমধ্যেই Deep State Vibes  লিখে চেক-ইন দেওয়ার হিড়িক পড়েছে। কেউ কেউ ঝাপসা ব্যাকগ্রাউন্ডে ছবি দিয়ে ক্যাপশন দিচ্ছেন,Hidden in the Deep State with my better half। পেজগুলোতে  বলা হচ্ছে, ডিপ স্টেটে যেতে কোনো পাসপোর্ট লাগে না, শুধু কিছু অদৃশ্য হাত আর গোপন রোডম্যাপ পকেটে থাকলেই চলে।

সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, বাঙালির পর্যটন পিপাসা এখন আর মানচিত্রের সীমানায় সীমাবদ্ধ নেই। তবে তারা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ডিপ স্টেটে একবার ঢুকলে ২০২৯ সালের আগে ফেরা নাও যেতে পারে। তাই যারা শর্ট ট্যুরে যেতে চান, তাদের জন্য ‘ডিপ স্টেট’ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। 

প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত জানা গেছে, অনেক স্বামীই এখন স্ত্রীকে বোঝানোর চেষ্টা করছেন যে, ডিপ স্টেট আসলে কোনো রিসোর্ট নয়, বরং একটা পলিটিক্যাল বাবল। তবে নাছোড়বান্দা স্ত্রীদের উত্তর,  বাবল হোক আর যাই হোক, ছবি তোলার মতো সুন্দর ব্যাকগ্রাউন্ড থাকলেই হলো!

৩৫ পঠিত ... ২৩ ঘন্টা ১০ মিনিট আগে

Top