কী, বিশ্বাস হচ্ছে না?
এই অবিশ্বাস্য ব্যাপারটি সত্যি সত্যি ঘটে গেছে আজ বাংলাদেশে। এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে খোদ WHO। সংস্থাটির এক শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা বলেন, হোয়াট! রমজান মাস উপলক্ষে আমরা Ramadan: A time for health অর্থাৎ রোজা শুধু ধর্মীয় না, স্বাস্থ্য সচেতনতারও সুযোগ; বার্তাটি দিয়েছিলাম। কিন্তু কীভাবে, কী করে বাংলাদেশের সব দাদীরা আজ অসুস্থ হয়ে পড়ল! ব্যাপারটা ঘোর দুশ্চিন্তার। আমি ব্যক্তিগতভাবে কয়েকজন দাদীর সাথে কথা বলব।
আন্তর্জাতিক সংস্থাটি থেকে ফোন করা হয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে। মন্ত্রণালয়ে ফোন রিসিভ করেই একজন বলেছেন, ‘হু?’
: ইটস ফ্রম WHO।
: হু কন, সবাই ছুটিতে আছে, কারে চান?
এদিকে এই কথা এ-কান, ও-কান করে এ কথা গিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তার কানে। ব্যাপারটা জেনে গিয়েছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রী নিজেও। তিনি ক্ষোভ ঝেড়ে ভুয়ো বার্তায় বলেছেন,
আমি সেই দিন হব শান্ত,
যবে সব দাদীরা আর ঈদের পরে হবে না শ্রান্ত,
আমি সেই দিন হব ক্ষান্ত...
মন্ত্রণালয় থেকে অনুমতি সাপেক্ষে কয়েকজন দাদীর নম্বর সংস্থাটিতে পাঠানো হয়।
একজন দাদী জানিয়েছেন, তার সারাবছর হাঁটুর ব্যথা, বাতের ব্যথা থাকে। ঈদের মধ্যে নাতী পেয়ে অর্ধেক ভালো হয়ে গেছেন। আরেক দাদী মন খারাপ করে বলেন, নাতনীর থেকে চোখ ফিরালেই পেটের মধ্যে আনচান করে। সে কত ডাঙ্গর হইলো, বিয়ে দিতে পারলাম না এখনও। আছে নাকি কোনো ভাল ছেলের খবর?
এদিকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর একজন বসের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, সকাল ৯:৫৯ টায় আমাকে ফোন করে অফিসার বলে তার দাদীর নাকি মাথা ঘোরাচ্ছে, বমি বমি ভাব। নাতী উঠে চলে যেতে নিলেই মাথা ঘুরে পড়ে যাচ্ছে। কাঁটায় কাঁটায় সে দশটা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও দাদীর মাথা ঘোরা কমাতে পারেনি।
আরেক দাদী WHO এর কর্মকর্তাকে ফোনের উত্তরে জানিয়েছেন, ডাক্তার কইছে আমার দুইটা কিডনি নাই। কিন্তু নাতি আসছিল দেখে আলহামদুলিল্লাহ আমি পুরা সুস্থ। সে চইলা যাইব শুইনা আবার অসুস্থ হইয়া পড়ছি।
WHO এর কর্মকর্তা প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হয়েছে বাংলাদেশের পরিস্থিতি আসলেই নাজুক। তিনি বলেন, আরেকজনের দাদীর ব্যাপারে সরজমিনে খোঁজ নিতে আমাদের বাংলাদেশ প্রতিনিধিকে পাঠিয়েছিলাম, কিন্তু তারও দাদী অসুস্থ হয়ে গেছে দেখে রবিবার যেতে পারবে।
ঈদের পর দাদীদের অসুস্থতা বেড়ে যাওয়ার যৌক্তিক কারণ বিশ্বকে ওয়াকিবহাল করে বৈশ্বিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করে WHO এর সেই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আমি চেষ্টা করব তল্পিতল্পা গুটিয়ে বাংলাদেশে একটা WHO এর শাখা অফিস খোলার। এমন নাজুক পরিস্থিতি নিয়ে আরো গভীরভাবে কাজ করা দরকার। সারাবছর আর ক’টা ছুটি পাই… না মানে বাংলাদেশে আসলে ঈদে অন্তত বেশ ব্যস্ত হতে পারব, আমারও দাদী আছে।


