নাড়ীর টানে বাড়ীতে ফিরেই এক হইচই করা কাণ্ড ঘটিয়ে ফেলেছেন এক জুনিয়র কর্মকর্তা। মাসখানেক হলো চাকরি পেয়েছেন, জয়েন করে এই প্রথম বাড়ির বাইরে থাকছেন বলা চলে। অফিসে সিনিয়দের স্যার ডাকতে ডাকতে অভ্যস্ত হওয়া জুনিয়র কর্মকর্তা এবার তার নিজের আব্বাকেই স্যার ডেকে ফেলেছেন।
কিশোরগঞ্জে বেড়ে ওঠা জুনিয়র কর্মকর্তা সাকিবে শৈশব থেকে পড়াশোনার পাঠ চুকিয়েছেন বাড়িতে থেকেই। চাকরি সুবাদে এই প্রথম ঢাকায় যাওয়া। ২ মাস চাকরি করতে না করতেই মুখে স্যার ছাড়া আর কিছু আসে না। এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, বাড়িতে ফিরেই বাবাকে সালাম দিয়ে সাকিব জিজ্ঞেস করেছেন, কেমন আছেন স্যার!
তার বাবা রেগে ঝাড়ি দিতেই অবশ্য ভুল সংশোধন করেছেন, তবে মুখ থেকে স্যার ডাক কিছুতেই ছাড়াতে পারছেন না। মুরুব্বি গোছের কারও সাথে কথা হলেই স্যার বলে সম্বোধন করছেন বলে জানিয়েছেন তার পাড়া-প্রতিবেশিরা।
সাকিব ফেসবুকে নিজের দুঃখ শেয়ার করে লিখেছেন, কী একটা সময় আসলো! আজকাল বাপকেও ভুলে স্যার বলে ডেকে ফেলছি। পাড়ার মুরুব্বিদেরও কাউকে কাউকে স্যার বানিয়ে ফেলেছি। সবাই দোয়া করবেন, সামনে বিয়ে করার জন্য পাত্রী দেখতে যাব, শ্বশুর আব্বাকে যেন আবার স্যার বলে ডেকে না ফেলি।
সাকিবের পোস্ট সারাদেশে ভাইরাল হয় গেছে ইতমধ্যেই। ভার্সিটির নব্য জুনিয়ররা শেয়ার দিয়ে লিখছেন আস..। অনেকেই কমেন্ট করে জানিয়েছেন কীভাবে বাপের ঝাড়ি খেয়ে ‘জি ভাই’ বলে ফেলেছেন সেই গল্পগুলো। কেউ কেউ সান্ত্বনা দিয়ে বলেছেন, এক বছর যাক, সব ঠিক হয়ে যাবে। স্যাররা স্যারের স্থানে থাকবেন, বাপরা বাপের স্থানে। মাঝখানের সময়টুকু মানিয়ে নেওয়ার। জীবনটার মানেই হলো কায়দা করে মানিয়ে নেওয়া।


