দেশে জ্বালানি তেলের দাম আর সংকট দুই মিলে যখন গাড়ির মালিকদের মাথায় হাত, ঠিক তখনই বিকল্পের মহান উৎস হিসেবে আবারও স্মরণ করা হচ্ছে আপাকে। বিকল্পের বুদ্ধি দেওয়াতে যার জুড়ি মেলা ভার; বেগুনির বদলে পেপে, কুমড়া কিংবা মাংসের বদলে কাঁঠাল খাওয়ার ঐতিহাসিক পরামর্শের পর এবার জাতি তাকিয়ে আছে জ্বালানির নতুন বিকল্পের দিকে।
রাজধানীর এক হতাশ প্রাইভেটকার মালিক বলেন, আগে বাসায় বেগুন না থাকলে আপার কথা মনে করে পেপে ভেজে খাইছি, মাংস না থাকলে কাঁঠাল দিয়ে বিরিয়ানি বানাইছি। এখন তেল নেই, ভাবলাম গাড়িতেও নিশ্চয়ই কোনো ফলমূল দিয়ে কিছু একটা করা যাবে। আপা থাকলে একটা না একটা আইডিয়া দিতেনই।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতোমধ্যেই #FuelAlternativeChallenge নামে নতুন ট্রেন্ড শুরু হয়েছে। কেউ বলছেন সরিষার তেল দিয়ে গাড়ি চালানোর চেষ্টা করবেন, কেউ আবার নারকেল তেলের দিকে ঝুঁকছেন। এক উদ্যমী তরুণ তো ঘোষণা দিয়েছেন, যদি রান্না চলে, গাড়িও চলবে—এই বিশ্বাস নিয়ে আমি কালকে মোটরসাইকেলে ঘানি ভাঙানো সরিষার তেল ঢালবো। দেশি জিনিসে দেশ চলবে।
অন্যদিকে বাংলাদেশিদের এমন আবেগঘন আহ্বানের খবর পৌঁছে গেছে দূর লুটিয়েন্স বাংলোতেও। সেখান থেকে এক রহস্যময় ফেক ভিডিও কলে আপা নাকি বলেছেন, রাজাকারের বাচ্চারা এখন আমাকে কেন দরকার? খুব তো তাড়াইছিলা! তেলের বদলে বাকস্বাধীনতা দিয়ে গাড়ি চালাও। আপার এই যুগান্তকারী সাজেশন শুনে আপা-ভক্তদের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। এক নিবেদিতপ্রাণ ভক্ত গদগদ হয়ে বলেন, দেখেন, মানুষটা দেশ থেকে দূরে থেকেও জাতিকে নিরাশ করেননি। আপনারা চাইলে বাকস্বাধীনতা ব্যবহার করে গাড়ি চালিয়ে দেখতে পারেন।
এদিকে পরিবহন মালিক সমিতির এক নেতা জানিয়েছেন, তারা খুব শিগগিরই বিকল্প জ্বালানি নিয়ে একটি কর্মশালা আয়োজন করবেন। সেখানে সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে বাতাস, প্রতিশ্রুতি এবং উন্নয়নের গল্প—এই তিনটিকে শর্টলিস্ট করা হয়েছে।


