আজ পাসপোর্ট অফিসে গিয়েছিলাম আমার পাসপোর্ট রিনিউ করার জন্য।
কিন্তু দুঃখজনকভাবে পুরো প্রক্রিয়ায় আমাকে বেশ কিছু অপ্রত্যাশিত ও অপমানজনক অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।
আমি একজন গবেষক।
ফর্মে এই অপশনটি নেই, তাই Others সিলেক্ট করেছিলাম। এরপর যা হলো, সেটা সত্যিই অবিশ্বাস্য।
এই নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার প্রশ্ন ছিল
অফিসার: Others কেন দিলেন?
আমি: আমি একজন গবেষক। অপশনে ছিল না, তাই দিয়েছি।
অফিসার: আপনি তো বিবাহিত, Housewife দেন। ওটা তো অপশনে আছে।
আমি: কেন আমি Housewife না হয়েও নিজেকে Housewife নামে পরিচয় দেব? আমি গবেষক। সেটা অপশনে ছিল না, তাই Others’ দিয়েছি।
আমার কথা শোনার পর সেই অফিসারের প্রতিক্রিয়া ছিল একটি তাচ্ছিল্যের হাসি! মানে, গবেষক কোনো পেশাই না?
মানে???
আমি একজন বন্যপ্রাণী গবেষক।
আমি মাঠে কাজ করি, ডাটা সংগ্রহ করি, অ্যানালাইসিস করি, দেশের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে কাজ করি।
আর আমাকে বলা হচ্ছে—
আপনি Housewife দিয়ে দেন!
একজন সরকারি অফিসার এতটা জ্ঞানহীন ও হীনমন্য হতে পারে—২০২৬ সালে এসেও—এটা আমার জানা ছিল না।
যেখানে আমার মেয়ে গবেষক হতে চায়, সেখানে ২০২৬ সালে এসেও বাংলাদেশে এই ক্ষেত্রকে পেশা হিসেবে গণ্যই করা হয় না।
Housewife হওয়া কোনো ছোট পরিচয় নয়। কিন্তু জোর করে কাউকে সেই পরিচয় দিতে বলা অপমানজনক। এটা অগ্রহণযোগ্য।
এই ঘটনা শুধু আমার নয়।নারীরা প্রতিনিয়ত এমন অনেক ঘটনার সম্মুখীন হচ্ছে।
এটা আমাদের সিস্টেমের সমস্যা, আমাদের দেশের মানসিকতার সমস্যা।
যেখানে একজন নারী বিবাহিত হলেই তার পরিচয় হয়ে যায় Housewife, আর গবেষক যে একটি পেশা হতে পারে,তা আমরা চিন্তাও করতে পারি না।



পাঠকের মন্তব্য