সোহেলকে দেখে আমি আঁৎকে উঠলাম।
এ কারণে নয় যে সে একটা জাঙ্গিয়া পরে বসে আছে। সকাল সাতটায় আমার ঘুম ভাঙিয়ে জরুরি তলব করেছে, কারণ সেটাও নয়।
সোহেলের ঘরভর্তি টাকা! হাজার হাজার ১০০ টাকার নোট। চকচকে! মেঝেতে টাকা, বিছানায় টাকা।
কিছুক্ষণ হা করে তাকিয়ে থাকার পর আমার মুখ দিয়ে যে বাক্যাটা প্রথম বের হলো—‘শিট ম্যান! ব্যাংক ডাকাতি করেছিস?’
‘যা ব্যাটা! অত সাহস আছে?’
‘তাহলে?’ মেঝে থেকে একটা ১০০ টাকার নোট তুলে নিয়ে আমি ভালো করে দেখলাম, ‘নতুন প্রিন্টার কিনেছিস নাকি?’
সোহেল কিছুই বলল না। বিছানায় লম্বা হয়ে শুয়ে পড়ল। ওর চেহারা উশকো খুশকো। চোখ লাল।
আমার বিস্ময় কাটে না। সোহেলকে তো চিনি। ও এতই ছোট চাকরি করে যে সুট পরা লোক দেখলেই ‘স্যার’ ডেকে ফেলে। ওর ঘরে এত টাকা!
‘কী হয়েছে বলবি তো? আর তুই এমন ন্যাংটা হয়ে বসে আছিস কেন? দেখতেই অস্বস্তি লাগছে। প্যান্ট পর...’ বলে যে-ই চেয়ারের ওপর রাখা প্যান্টটার দিকে হাত বাড়াতে গেছি, সোহেল চিৎকার করে উঠল, ‘খবরদার, প্যান্টে হাত দিবি না।’
‘কেন? প্যান্টে হিসু?’ আমি নাক কুচকে ফেললাম।
সোহেল থিতু হতে একটু সময় নিলো। দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, ‘লং স্টোরি শর্ট: এটা একটা জাদুর প্যান্ট। যতবার ডান পকেটে হাত দিবি, ততবার ১০০ টাকা বেরোবে।’
‘কী! এটা প্যান্ট, না এটিএম বুথ?’ বলেই আবার প্যান্টটা ধরতে যাচ্ছিলাম। সোহেল ছোঁ মেরে নিয়ে নিলো।
আমি বললাম, ‘কই পাইছিস এই জিনিস?’
‘কই আর? ঢাকা কলেজের উল্টা দিকে।’
বলেই সোহেল চোখ নামিয়ে নিলো। মনে হলো সে ব্যাপারটা খোলাসা করতে চাইছে না। সে যাক। আমি বললাম, ‘বলিস কী! তোর তো কপাল খুলে গেল!’
‘কপাল খুললে কি আর প্যান্ট খুইলা বইসা থাকি?’ সোহেলের কণ্ঠে বিরক্তি।
কিছুক্ষণ গাইগুই করার পর সোহেল যা জানালো - জাদুর প্যান্ট হাতে পেয়েই সে অতি আনন্দে একটা ফ্ল্যাট বুকিং দিয়ে ফেলেছে। আজকে অ্যাডভান্স জমা দেওয়ার কথা।
‘তো দিয়ে দে!’
‘কত দিতে হবে জানিস? ৪২ লাখ টাকা!’
‘তো? এটিএম খালি হয়ে গেছে? আর টাকা বেরোচ্ছে না?’
‘হচ্ছে।’
‘তাহলে সমস্যা কী?’
সোহেলকে এবার অসহায় দেখালো। বলল, ‘৪২ লাখ টাকা হতে কয়টা ১০০ টাকা লাগে তুই জানিস?’
আমি মনে মনে হিসাব করার চেষ্টা করলাম।
‘আমি বলতেসি। ৪২ হাজার। দুই দিন ধইরা না খায়া না ঘুমায়া দিন রাত শুধু পকেটে হাত ঢুকাইসি-বাইর করসি-ঢুকাইসি-বাইর করসি...’
‘তারপর?’
‘ভোর বেলা গুইনা দেখি মাত্র ১৮ লাখ হইসে।’



পাঠকের মন্তব্য