আমার প্রেমিকার প্রেগন্যান্ট হওয়ার কাহিনিটা খুবই ইন্টারেস্টিং। কাহিনি শুরুর আগে আমার নামটা জেনে রাখুন। আমার নাম তৌহিদ। তো একদিন আমি আর আমার বন্ধু রনি বিজনেস ফ্যাকাল্টির সামনের সবুজ চত্বর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছি। সেদিন আমাদের প্রেজেন্টেশন ছিল। অনেক বান্ধবী শাড়ি পরে এসেছে। তাঁদের মধ্যে লিমাও ছিল।
রনিকে বললাম, দোস্ত, খেয়াল করছিস বিষয়টা? লিমা মেয়েটা কিন্তু আসলেই সুন্দর। প্রেজেন্টেশনের দিন শাড়ি পরলে যা লাগে মাইরি! কলিজায় ছ্যাঁৎ করে ওঠে!
আমার পক্ষ থেকে কাহিনি এখানেই শেষ। রনির কাছ থেকে এই তথ্যের জল কোথায় কীভাবে গড়াল তার বিবরণে আসি।
রনির সাথে দেখা আমাদের কমন বন্ধু সোহাগের। রনি সোহাগকে গোয়েন্দাদের মতো জিজ্ঞেস করল, ‘দোস্ত, জানিস কিছু?’
সোহাগ: জানি তো অনেককিছু। তুই কী জানাইতে চাস তা বল।
রনি: তৌহিদ বলল ওর নাকি লিমাকে ভালো লাগে। ওর জন্যই নাকি গতকালের প্রেজেন্টশনে লিমা শাড়ি পরে আসছিলো।
এবার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিল সোহাগ। সোহাগ আমাদের কমন বান্ধবী ঐশ্বর্য বালাকে ডেকে বলল,
‘দোস্ত, কাহিনি তো অনেকদূর গড়াইছে।‘
বালা: কীসের কাহিনি? সাসপেন্স বাদ দিয়ে তাড়াতাড়ি পেট থেকে কথা বাইর কর।
সোহাগ : তুই দেখছি কোনো খোঁজই রাখিস না *ল। তৌহিদ তো লিমাকে ভালোবাসে। ক্লাসে জুটি তো আরেকটা হয়ে গেল রে। তৌলিমা কাব্য রচনা হতে চলেছে। সেদিন দুজনকে রিক্সায় ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখলাম। আমি অবশ্য বেশিক্ষণ তাকাই নাই। বুঝসই তো আজকাল পোলাপাইন রিক্সায় কতকিছু করে!
সপ্তাহখানেক পর সেন্ট্রাল লাইব্রেরির সামনে বালার সাথে দেখা আমাদের আরেক কমন বন্ধু রিপনের।
বালা তরতাজা খবরটা রিপনকে দিতে দেরি করেনি। বালা রিপনকে এক প্রকার শাসানোর ভঙ্গিতে বলল,
‘রিপন, তুই খালি ডিপার্টমেন্টের পড়াই পড়। ওদিকে ডিপার্টমেন্টে যে কতকিছু হয়ে যাচ্ছে সে খবর তোমার আছে? তৌলিমাকে প্রায় দিন রিক্সায় ঘুরতে দেখা যাচ্ছে। সোহাগ তো নাকি রিক্সায় কী সব করতেও দেখল! রিক্সা নাকি দুলতেছিল! মিনি বাসরঘর বানিয়ে ফেলছে। জাস্ট বন্ধু বলে ভিডিও করে ফেসবুকে ছেড়ে দিল না! দিলে তো এতক্ষণে দুইজনের আদর-সোহাগ ভাইরাল হয়ে যেত।‘
রিপন এই খবর সাথে সাথে পাচার করে দিল মৌয়ের কানে।
‘মৌ, তুই তো পারিস খালি দাঁত কেলিয়ে ছবি খিচতে? ওদিকে তোর বান্ধবী কী করতেছে জানিস?’
মৌ: এক্সকিউজ মি? লিমা আমার বেস্ট ফ্রেন্ড। কী কস তুই উল্টাপাল্টা।
রিপন: জ্বি। আমি ঠিকই বলছি। ভার্সিটির নাকি এমন কোন চিপা নাই যেখানে তাদেরকে দেখা যায় না। সকল চিপাচাপায় তারা আদর-সোহাগ খেয়ে বেড়াচ্ছে। সবসময় চাকুমচাকুম! হালকা অন্ধকার থাকলে তো কথাই নাই! নাহ! আর ভাবতে পারি না!
এক নিঃশ্বাসে বলার পর একটু ব্রেক নিল। তারপর নিজ পেটে হাত বুলাতে বুলাতে বলল, ‘তবে যাই হোক, হলের খাবার থেকে এবার একটু রেহাই পাব। লিমা ভাবী আমাদের রান্না করে খাওয়াবে। অনেকদিন আরাম করে খাই না!’
আমার প্রেমের খবর ঘুরতে ঘুরতে ফিরে এলো সেই রনির কাছে, যার কাছে আমি লিমার প্রশংসা করেছিলাম।
মৌ ফুচকাটা গালে পুড়ে দিয়ে শুধাল, ‘রনি, শুনছিস কিছু? তৌলিমার প্রেম তো জমে ক্ষীর মাম্মাহ।‘
রনি: কস কী?! শালায় আমার সাথে গুটিবাজি করছে তাহলে? আমারে শুধু বলছে ওর নাকি লিমাকে সুন্দর লাগে। কত্তবড় হারামি চিন্তা কর?! শালার মিডল স্ট্যাম্প ভেঙে দেওয়া দরকার!
অবশেষে প্রায় দশদিন পর আমার সাথে রনির দেখা।
রনি: তুমি যে তলে তলে এতদূর আগাইলা কিছুই তো বুঝতে পারলাম না বন্ধু। থাক। যা হবার হয়ে গেছে। এখন ট্রিট চাই।
আমি: আশ্চর্য তো! কীসের ট্রিট?
রনি: আহারে! কচি খোকা আমার। এদিকে অমর প্রেমকাব্য 'তৌলিমা' রচনা হয়ে যাচ্ছে, ওদিকে তার ন্যাকামিতে খাওয়া যাচ্ছে না! কোনো কথা হবে না। শীঘ্রই ট্রিট চাই। বাই দ্য রাস্তা, প্রথম সন্তানের নামও ঠিক করা হয়ে গেছে শুনলাম। অভিনন্দন!
মোরাল অব দ্য স্টোরি: কোনো মেয়েকে ভালো লাগলে সরাসরি তাকে জানান। বেস্ট ফ্রেন্ডকে নয়। নাহলে প্রেম না করে প্রেমিক এবং বিয়ে না করে বাবা হওয়ার বিরল সৌভাগ্য অর্জন করবেন।



পাঠকের মন্তব্য