ওয়েব সিরিজ 'ডার্ক' এর একটি পানির মত সহজ রিভিউ

৭২০ পঠিত ... ১৬:১৩, জানুয়ারি ২০, ২০২২

dark review

লেখা: সাখাওয়াত হোসেন 

ডার্ককে বলা হয় খুব দুর্বোধ্য একটা সাই-ফাই সিরিজ। কিন্তু আমার মনে হয়, এটা খুবই সহজবোধ্য একটা সিরিজ। অনেকেই এই সিরিজ বুঝতে পারেনি। পারার কথাও না। সবাই তো আর আমার মতো জিনিয়াস না। যারা ডার্ক বোঝেননি, আমি আপনাদের বোঝাবো, ডার্ক বোঝা কত সোজা।

আমার নাম জোনাস। আমার মায়ের নাম হ্যানা। আমার বাবার নাম মাইকেল। মাইকেল আমার মা হ্যানার ছোটবেলার ক্রাশ উলরিখের ছোট ছেলে। উলরিখের বড় ছেলের নাম ম্যাগনাস। ম্যাগনাসের বোনের নাম মার্থা। মার্থাকে আমি ভালোবাসি। মার্থা সম্পর্কে আমার ফুফু। আমি সেটা জানি না। জানবো কীভাবে।  আমার বাবা মাইকেল ছোটবেলায় ছিলেন মিকেল। মিকেল টাইম ট্রাভেল করে অতীতে চলে যায়। আমার মায়ের সাথে ভাব ভালোবাসা হয়। তারপর বড় হতে হতে মাইকেল নাম ধারণ করে। তাদের বিবাহ হয় আর আমার জন্ম হয়।

মার্থার সাময়িক প্রেমিকের নাম বারটোশ। বারটোশ আমার বন্ধু। সম্পর্কে সে আমার বোন সিলজিয়ার হাসব্যান্ড। সিলজিয়া আমার সৎ বোন। সিলজিয়ার মা আমার মা, তবে বাবা হচ্ছেন ইগোন। ইগোন পুলিশ অফিসার। উলরিখের ভাই নিঁখোজ হওয়ার বিষয়ে ইগোন-ই তদন্ত করেছিলেন। আমি যখন টাইম ট্রাভেল করে অতীতে চলে যাই মিকেলকে খুঁজে আনতে তখন আমার মাও হতাশ হয়ে অতীতে চলে যান। উলরিখও অতীতে আটকা পড়েছেন হেলগে ডপলারকে খুন করার ব্যর্থ চেষ্টায়। হেলগে ডপলারের একটা ছেলে, পিটার ডপলার। পিটারের বৌয়ের নাম শার্লোট। শার্লোটের বাবার নাম নোয়াহ, যে বারটোশ এবং আমার সৎ বোন সিলজিয়ার বড় ছেলে। শার্লোটের মায়ের নাম এলিজাবেথ, সে বোবা। এলিজাবেথ কিন্তু শার্লোট এবং পিটার ডপলারের ছোট সন্তান। অর্থাৎ শার্লোট নিজের মেয়ের মা এবং নিজের মায়ের সন্তান। শার্লোটের বড় সন্তানের নাম সুন্দরী ফ্রান্সিসকা। ফ্রান্সিসকা ভালোবাসে ম্যাগনাসকে। যে আমার জেঠা, বন্ধু এবং একইসাথে শালা।

উলরিখ হেলগের জন্য আটকে আছেন পাগলাগারদে, আমার মা হ্যানা তাকে দেখতে গিয়ে ওই অতীতেই থেকে গেলেন ইগোনের সঙ্গে। তাদের একটি বাচ্চা হলো। নাম সিলজিয়া। আমার সৎ বাবা ইগোনের বৈধ বউয়ের নাম ডরিস। তাদের মেয়ের নাম ক্লডিয়া। ক্লডিয়া অনবরত টাইম ট্রাভেল করতে থাকে। অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যত। ক্লডিয়ার মেয়ের নাম রেজিনা। রেজিনার ক্যান্সার ধরা পড়েছে মধ্যবয়সে। ক্লডিয়া চায় মেয়ে বাঁচুক। রেজিনার হাসব্যান্ডের নাম আলেকজান্ডার। ফেইক নাম এটা যদিও। তাদেরই ছেলের নাম বারটোশ। আমি যার সৎ শালা। বারটোশ এবং আমার সৎ বোন সিলজিয়ার দ্বিতীয় সন্তানের নাম এগনেস। নোয়াহর ছোটবোন। এগনেস যার সাথে চক্কর চালিয়ে প্রেগন্যান্ট হয়, তার নাম আমি জানিনা। তবে এটা জানি সে আমার আর মার্থার সন্তান। এই মার্থা না। প্যারালাল ওয়ার্ল্ডের মার্থা। এই ওয়ার্ল্ডের মার্থাকে আমি নিজেই খুন করি। আর ওর ওয়ার্ল্ডে আমাকে নিয়ে গিয়ে চক্কর চালানো শেষ করার পর সে আমায় খুন করে। আমার আর ভিন্ন জগতের মার্থার সন্তান এবং বারটোশ সিলজিয়ার দ্বিতীয় সন্তান এগনেস.. দুইজনে চক্কর চালিয়ে একটা বাচ্চার জন্ম দেয়। বাচ্চার নাম ট্রন্টে। ট্রন্টে বিবাহ করে জানাকে। ট্রন্টে আর জানার দুইটি ছেলে। একজন ম্যাড, অন্যজন উলরিখ। হ্যাঁ, আমার দাদা ওই উলরিখ। সে আমার শশুর, সে আমার দাদা, আমিও তার দাদার বাবা।

ওইদিকে প্যারালাল ওয়ার্ল্ডে কিন্তু আমার জন্ম হয় নাই। কারণ ওইখানে মিকেল টাইম ট্রাভেল করে অতীতে চলে যায় নাই। আমার মায়ের সঙ্গে ভাব ভালোবাসা হয় নাই। আমি নাই। আমারে ঐ জগতে ধরে নিয়ে যায় ঐ জগতের মার্থা। যখন আমার জগত ধ্বঃস হয়ে যাচ্ছিলো। ওইখানে আমার স্থান দখল করে আছে মার্থা। আমার বাড়িতে তারা বাস করছে। ওর মা ক্যাথারিনার সঙ্গে উলরিখের ডিভোর্স হয়ে গিয়েছে। আর সে আমার মা হ্যানার সঙ্গে থাকছে। এবং চিট করছে। শার্লোটের সঙ্গে গোপনে প্রেম করছে। শার্লোটের হাসবেন্ড পিটার ওই জগতে পাদ্রী। তাদের মেয়ে এলিজাবেথ কথা বলতে পারে তবে ফ্রান্সিসকা বোবা।

এলিজাবেথ আর ফ্রান্সিসকার মা, শার্লোট.. যাকে লালন পালন করেছে এইচ জি তানহাউস। তানহাউস শার্লোটকে দরজায় কুড়িয়ে পেয়েছিলো। কারা যেন একরাতে রেখে গিয়েছিলো তাকে। কেননা ওই রাতে তানহাউসের নিজ পুত্র, স্ত্রী, সন্তান নিয়ে রাগ করে বাড়ি ছাড়তে গিয়ে রাস্তায় এ্যাক্সিডেন্ট হয়ে মরে যান। ছোট্ট শার্লোটকে তানহাউসের দরজার রেখে যান এলিজাবেথ এবং শার্লোট নিজেই। কার নির্দেশে?   

অ্যাডামের নির্দেশে। জি, অ্যাডাম হচ্ছি আমি। বৃদ্ধ বয়সে আমি জোনাস থেকে এডামে রুপান্তরিত হই। আর মার্থা রুপান্তরিত হয় ইভায়। আমি অ্যাডাম চাই দুই পৃথিবী চিরতরে ধ্বংস হয়ে যাক। ইভা চায় দুই পৃথিবী বেঁচে থাকুক। কেননা তার পেটে আমাদের সন্তান। ওই সন্তান৷ যে বারটোশ এবং আমার সৎ বোন সিলজিয়ার দ্বিতীয় সন্তান এগনেসের সাথে চক্কর চালিয়ে ট্রন্টেকে জন্ম দেবে। ট্রন্টে জন্মালেই চক্র সম্পূর্ণ। আজীবন চলবে। চলতেই থাকবে। যেখানে শুরু ওখানেই শেষ। যেখানে শেষ ওখান থেকেই শুরু।

চক্রটা কাটানোর উপায় আমায় বাতলে দেয় ক্লডিয়া। ওর মাধ্যমে আমি জানতে পারি জগত দুইটা নয়, অরিজিনাল ওয়ার্ল্ড সহ তিনটা। অরিজিন ওয়ার্ল্ডে তানহাউসের ছেলে বউ কন্যা মারা যাওয়ার পর ওদের ফেরাতে সে টাইম মেশিন আবিষ্কার করতে গিয়ে দুইটা জগত দুইটা এক্সট্রা টাইমলাইন তৈরি করে ফেলে। এখন আমাকে এবং মার্থাকে ওই জগতে গিয়ে ওই দুর্ঘটনা, অর্থাৎ তানহাউসের পুত্র পুত্রবধু ও সন্তানের মৃত্যুর ঘটনাটা ঘটার আগেই রোধ করতে হবে।

আমরা যাই।

ঐ গাড়িটা থামাই।

ওদের আটকাই।

ওরা বেঁচে যায়৷ তানহাউসের শোক মুছে যায়। টাইম মেশিন আবিষ্কার করেন না তিনি আর। কারণ, তার আর প্রয়োজন নাই। আমরাও নাই হয়ে যাই।

ডার্ক শেষ।

 

Writer: Jantje Friese, Ronny Schalk, Marc O Seng, Martin Behnke, Daphne Ferraro

Director: Baran bo Odar

Release: 2017 – 2020

Season: 3

All Episode: 26

Language: German

OTT: Netflix

৭২০ পঠিত ... ১৬:১৩, জানুয়ারি ২০, ২০২২

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি

স্যাটায়ার


Top