দেশের সাম্প্রতিক এক স্পর্শকাতর ঘটনায় যখন ফরেনসিক ল্যাব আর তদন্তকারী কর্মকর্তারা ডিএনএ টেস্টের স্যাম্পল নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণে ব্যস্ত, ঠিক তখনই বাংলাদেশের বিগেস্ট ইউটিবার কয়েক সেকেন্ডের স্ক্রল আর মনগড়া ইনটিউশন দিয়ে ডিএনএ রিপোর্ট একদম জলের মতো পরিষ্কার করে ফেলেছেন। এই অলৌকিক এবং অতিমানবীয় বায়োলজিক্যাল জ্ঞান দেখে বিমুগ্ধ হয়ে এবার আসরে নামছেন মেন্টর ও ইনফ্লুয়েন্সার সালমান মুক্তাদির। নেটিজেনদের ডিএনএ বোঝার এই অবিশ্বাস্য গতির কথা মাথায় রেখে তিনি নিজের ডুপ্লেক্স বাসাতেই খুলে ফেলেছেন একটি অত্যাধুনিক ফরেনসিক ল্যাব, যেখানে তিনি নিজেই করাবেন 'ডিএনএ টেস্টের ক্রাশ কোর্স'। সালমান জানিয়েছেন, ল্যাবে বসে টেস্ট টিউব নাড়াচাড়া করার চেয়েও সহজ পদ্ধতিতে তিনি শেখাবেন কীভাবে রিপোর্ট আসার মাসখানেক আগেই কমেন্ট সেকশনে রায় দিয়ে দিতে হয়। বিশেষ এই কোর্সে শেখানো হবে, কীভাবে মাইক্রোস্কোপ ছাড়াই অন্যের বংশলতিকা উদ্ধার করা যায় এবং কোনো লজিক বা সায়েন্টিফিক এভিডেন্স ছাড়াই কীভাবে নিরাপরাধকে অপরাধী আর অপরাধীকে দেবদূত বানানো সম্ভব।
কোর্সটির বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকছে ভিউ বাড়ানোর ফরমুলা, যেখানে শিক্ষার্থীরা শিখবে কীভাবে একটি স্পর্শকাতর ইস্যুকে জাস্ট একটি ক্লিকবেট থাম্বনেইলে রূপান্তর করে ডিএনএ রিপোর্টকে ফ্যামিলি ড্রামা হিসেবে চালিয়ে দেওয়া যায়। সালমান মুক্তাদিরের এই প্রজেক্টে গেস্ট লেকচারার হিসেবে থাকার কথা রয়েছে সেইসব ফেসবুক পেজ অ্যাডমিনদের, যারা মাত্র দশ মিনিটে ডিএনএ রিপোর্ট জেনারেট করে তা দিয়ে ভিউয়ের ব্যবসা করতে সিদ্ধহস্ত। ফরেনসিক সায়েন্সের এমন ডিজিটাল বিবর্তন দেখে খোদ বিজ্ঞানীরাও এখন ভাবছেন, তাদের ল্যাবগুলো বন্ধ করে দিয়ে সালমান মুক্তাদিরের কোর্সে ভর্তি হওয়া উচিত কি না। কারণ যেখানে পুরো দেশ এখনো আসল রিপোর্টের অপেক্ষায়, সেখানে ইউটিউবারদের বাসাতেই যদি অল্টারনেটিভ রিপোর্ট তৈরি হয়ে যায়, তবে আর ল্যাবের কী দরকার?


