'ইনসেপশন' সিনেমাটি কোনো বাঙালি নির্মাতা বানালে যেমন হতো

৯২০ পঠিত ... ২০:৩৯, মার্চ ২৫, ২০২১

হলিউডের Inception সিনেমাটি যদি উপমহাদেশের বিখ্যাত বাঙালি নির্মাতা নির্মাণ করতেন, তাহলে এর গল্প কেমন হতো? ভাবতে চেষ্টা করেছিলেন হিমেল হিমু। 'বাংলা চলচ্চিত্র' গ্রুপ থেকে সংগৃহীত তার লেখাটি eআরকির পাঠকদের জন্য দেয়া হলো।

shopner-nagmoni (1)

জন্মের পর থেকেই নাগমণি হাসিলের উদ্দেশ্যে নাগরাজ আর নাগরানীর সন্ধান করছে সাপুড়ে সর্দার বাসুলা। কিন্তু কোনোভাবেই তাদের ধরতে পারছে না। একদিন জঙ্গলে বসে মোবাইলে গুগলে How to catch Nagaraaj and Nagraani লিখে সার্চ দিতেই সে দেখতে পায়, একটি দুষ্ট বেঁজি একটি মেয়ে সাপকে ইভটিজিং করছে। সাপুড়ে তাকে লক্ষ্য করে ইংরেজিতে কয়েকটি গালি দিতেই বেঁজিটি লজ্জায় সেখান থেকে চলে যায়। হঠাৎ মেয়ে সাপটি মানুষের রূপধারণ করে। আরে! এ তো দেখি কালনাগিনী। ইজ্জত বাঁচানোর কৃতজ্ঞতা স্বরূপ সাপুড়েকে নাগমণি হাসিল করতে সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি দেয় কালনাগিনী। তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী কালনাগিনী ফুডপান্ডার ডেলিভারি গার্ল সেজে নাগরাজের কাছে পিজ্জা ডেলিভারি দিতে যায়। হাবিজাবি মেশানো পিজ্জা খেয়ে নাগরাজ মাতাল হয়ে যায়। এই সুযোগে কালনাগিনী আইটেম গানে তার সাথে নাচতে থাকে। দূর থেকে এই দৃশ্য দেখে নাগরাজকে ভুল বোঝে নাগরানী তার সাথে সাময়িক ব্রেকআপ করে।

এই সুযোগে সাপুড়ে ময়মনসিংহ থেকে একজন হ্যাকারকে ভাড়া করে এনে নাগরাজের ফেসবুক একাউন্ট হ্যাক করে নাগরানীকে 'সরি, ভুল হয়ে গেছে মাফ করে দাও, আজ রাত সাড়ে একটায় হাতিরঝিলে দেখা করো, লাভ ফ্রম নাগরাজ' বলে ম্যাসেঞ্জারে ম্যাসেজ পাঠায়।

এদিকে রাত সাড়ে দেড়টার দিকে নাগরানী হাতির ঝিলে এসে হাজির হয়। হঠাৎ সাপুড়ে তার দলবল নিয়ে নাগরানীকে ঘিরে ফেলে। কালনাগিনীও মাদকাসক্ত নাগরাজকে সাথে নিয়ে হাজির হয়। সাপুড়ে নাগরাজ আর কালনাগিনীর আপত্তিকর ভিডিও ইন্টারনেটে ভাইরাল করে দেয়ার ভয় দেখিয়ে নাগরানীকে নাগমণি দিয়ে দেয়ার জন্য ব্ল্যাকমেইল করতে থাকে। উপায় না দেখে নাগরানী সাপুড়েকে নাগমণি দিয়ে দেয়। যার ফলে নাগরাজ আর নাগরানী দুজনই বিষশূন্য হয়ে শক্তিহীন হয়ে মাটিতে শুয়ে পড়ে। সাপুড়ে তাদের আবারো ইংরেজিতে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে সেখান থেকে চলে যায়। কিছুক্ষণ পর মাটির তল থেকে স্পেসশিপের মতো স্নেকশিপ উঠে আসে। সেখান থেকে দুজন এলিয়েন সাপ বের হয়ে তাদের দুজনকে নিয়ে আবারো মাটির নিচে চলে যায়।

এদিকে নাগমণি কিভাবে ব্যবহার করতে হয় সেটা সাপুড়ে জানে না। অনেক চেষ্টা করেও সে নাগমণি দিয়ে কোন অদ্ভুত কাজ করতে পারলো না। মনের দুঃখে নাগমণিটা পকেটে ঢুকিয়ে ঘুমিয়ে পড়লো। স্বপ্নে দেখলো, ইয়া বড় বড় কয়েকটা ডাইনোসর তার দিকে ছুটে আসছে। সে পকেট থেকে নাগমণি বের করতেই সেগুলো দৌড়ে পালালো। সাপুড়ে বুঝতে পারলো, বাস্তব দুনিয়াতে এই নাগমণি কাজ না করলেও স্বপ্নের দুনিয়াতে এটা ভালো কাজ করে। তারপরের দিন রাতে সাপুড়ে নাগমণির সাহায্যে স্বপ্নে সুইস ব্যাংক লুট করতে চলে গেলো। কিন্তু এতগুলো টাকা সে একা একা নিয়ে আসতে পারলো না। তাই তাকে সাহায্য করার জন্য শক্তিশালী কিছু সৎ লোক নিয়োগ দিতে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিলো। কিন্তু কেউই তার গাঁজাখুরি গল্পে বিশ্বাস করলো না। এভাবেই নাগমণি দিয়ে ব্যাংক লুট করার তার স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে গেলো।

এভাবে বিশ বছর কেটে গেলো। ততদিনে সাপুড়ে সর্দারের মেয়ে এঞ্জেল প্রিয়া কলেজে উঠে গেছে। একদিন কলেজে যাওয়ার পথে গুন্ডারা তাকে আক্রমণ করলে প্রিন্স হেলাল নামের এক সুদর্শন যুবক তাকে রক্ষা করে। মুহূর্তেই তাদের দুজনের মধ্যে প্রেম ও নাচগান হয়ে যায়। এঞ্জেল প্রিয়া হেলালকে তার বাবা সাপুড়ে সর্দারের কাছে নিয়ে যায়। সাপুড়ে তাকে স্বপ্নে সুইস ব্যাংক লুট করার শর্তে তাদের প্রেম মেনে নিতে রাজি হয়। হেলাল শর্ত মেনে নেয়।

সেই রাতে তারা দুজন স্বপ্নে সুইস ব্যাংক লুট করতে যায়। ব্যাংকের ভল্টে ঢোকার সাথে সাথেই হাজার হাজার পুলিশ তাদের ঘিরে ফেলে। সাপুড়ে পকেট থেকে নাগমণি বের করতেই হেলাল সেটা কেড়ে নিয়ে হাসতে থাকে। সাপুড়ে বুঝতে পারে, হেলাল পুলিশদের সাথে মিলে তাকে ঠকিয়েছে। এবার হেলাল সেই নাগমণি মাটিতে ঠেকাতেই সেখান থেকে একটি স্নেকশীপ বের হয়ে আসে। যেখান থেকে নাগরাজ আর নাগরানী বের হয়ে আসে। সবাই বুঝতে পারে এই প্রিন্স হেলাল হচ্ছে নাগরাজের সন্তান। যে বিশ বছর পর বাবা মায়ের অপমানের প্রতিশোধ নিতে পৃথিবীতে এসেছে। সাপুড়ে কৌতূহলী হয়ে জিজ্ঞেস করলো, 'নাগমণি হাতে পাওয়ার পর থেকে কোন সাপ আমার ধারে কাছে আসতে পারে না। তুমি সাপ হয়েও কিভাবে আমার সামনে এলে? আমি টেরও পেলাম না।' হেলাল জানালো, সে পৃথিবীতে এসে শাহেদ নামের এক লোকের মাধ্যমে রিজেন্ট হাসপাতালে অপারেশন করে তার শরীর থেকে সাপের ডিএনএ অপসারণ করে মানুষের ডিএনএ লাগিয়েছে। তাই সাপুড়ে কিছুই টের পায়নি। এবার সাপুড়ে ক্ষেপে গিয়ে শাহেদকে ইংরেজিতে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে লাগলো। আর অভিশাপ করলো যাতে শাহেদ এরকম দুর্নীতির দায়ে পুলিশের কাছে ধরা খায়। পুলিশরা সাপুড়েকে কোলে করে তুলে নিয়ে যায়। তারপর সবাই সুখে শান্তিতে বসবাস করতে থাকে। (সমাপ্ত)

৯২০ পঠিত ... ২০:৩৯, মার্চ ২৫, ২০২১

আরও

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

গল্প

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি

স্যাটায়ার


Top