চাঁদ দেখার ইচ্ছা থাকলে ঘরে বসেই দেখা যায়, মহাশূন্যে বেগানা মানুষদের সাথে ভাসা লাগে না:পাশের বাসার আন্টি

১৩২ পঠিত ... ৯ ঘন্টা ৪৭ মিনিট আগে

ছ্যাঁ ছ্যাঁ ছ্যাঁ; বলছিলেন পাশের বাসার আন্টি।
আরেহ, চাঁদ কি আমরা দেখিনি? ছোট থাকতে সেই সন্ধ্যাবেলায় বাইরে গিয়ে বাঁশঝাড়ের কাছে চার-পাঁচশো মশার কামড় খেয়ে বকের মতো গলা উঁচু করে একা একা চাঁদ দেখেছি। এটাকেই বলে প্যাশন, ডেডিকেশন!
লেখাপড়া কি আমরাও কম করেছি?

আন্টি স্বাগতোক্তি করলেন, আজকালকার মেয়েছেলেও মানা যায়। ঐ যে ক্রিস্টিনা কোচ না কী—বয়স তো ওনার আমার চেয়ে এক বছর বেশি, ৪৭! চায়ে চুমুক খেয়ে দ্বিগুণ তেজে আন্টি বলতে শুরু করলেন, আরে, তুই চাঁদে যাবি না মঙ্গলগ্রহে, যা, তোর বান্ধবীদের নিয়ে যা। তা না করে নিয়ে গেলি তিন বেগানা পুরুষ!

ইস! আমি হলে আমার তিন বান্ধবী—নাছিমা, রাহেলা আর আফরোজা—কে ছাড়া যেতামই না। ওদের স্বামীরা যেতে চাইলেও নিতাম না, একটা প্রাইভেসি আছে না?
তাছাড়া শুনছি, ঐখানে ওয়াশরুমে শাওয়ার নেই, বাথরুমের সুব্যবস্থা নেই।

আন্টি গা ঝাড়া দিয়ে চেহারা কুঁচকে ফেললেন।
ছাড়াছাড়াভাবে বললেন, আমি শুধু নিজের কথাই ভাবি না। চাঁদে কেউ গেলে যেতেই পারে, কিন্তু সে কি একবারও ভেবেছে ঘরে আজ কী রান্না হয়েছে? স্বামী কী খাচ্ছে? বিকেলে জলখাবার পেয়েছে কিনা? রাতে ঠিকমতো ঘরে ফিরলো কিনা? শার্টটা ইস্ত্রি আছে কিনা জানলে না, সে কেমন স্ত্রী? এত স্বার্থপর আমি হতে পারবোনা বাপু। নইলে সাজেক ট্যুরের আগেই আমার চাঁদের ট্যুর হয়ে যেত।

আন্টি উঠে যেতে উদ্যত হলেন, হঠাৎ পিছন ফিরে বললেন,
দেখার ইচ্ছা থাকলে জানালা থেকেই চাঁদ দেখা যায়, ছাদেও যাওয়ার দরকার নেই। আজকেই চাঁদের সাথে রিল বানিয়ে আপলোড করবো, লাভ দিও।

১৩২ পঠিত ... ৯ ঘন্টা ৪৭ মিনিট আগে

আরও

পাঠকের মন্তব্য

আইডিয়া

গল্প

সঙবাদ

সাক্ষাৎকারকি

স্যাটায়ার


Top