
লালীকে মাঠে চড়তে দিয়ে মীনা একটা গাছের নিচে একা বসে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদছে।
আজকে দুষ্ট দোকানদার পথ আটকে ওর সাথে যা করেছে তা মীনা কোনভাবেই বিশ্বাস করতে পারছে না। কাউকে ভয়ে আর লজ্জায় বলতেও পারছে না।
মীনা প্রথমে রীতা আপার কাছে বলতে গেলো। রীতা আপা সব শুনে বললো, 'মীনা আমাদের জীবনটা এমনই গো। দীপু যে আমার সাথে প্রতিদিন কেমন করে, সবাই জাইনাও তো কিছুই বলে না।'
মীনা এরপর গেলো দাদীর কাছে। দাদী সব শুনে বললো, 'আগেই কইসিলাম মীনা। মাইয়াগো দোকানে যাইতে হয় না।'
মীনা ভাবলো মা কে জানাবে। মা শুনে বললো, 'মীনা এসব নিয়া আর কারো সাথে কথা বইলো না তো। এখন থেইকা স্কুলেও যাইয়ো না। বাসার বাইরে না গেলেই আর কোন বিপদ হইতো না।'
এই ঘটনায় স্কুল বন্ধ হয়ে যাবে এই ভয় পেয়ে মীনা স্কুলের আপার কাছে ছুটে গেলো।
পুরো ঘটনা শুনে আপা বললো, 'দেখো মীনা। আমরা সমাজে পরিবর্তন আনতে চাই। কিন্তু শুধু তোমার মুখের কথায় কেউ বিশ্বাস করবে না। উল্টো তুমি এই ব্যাপারটা অন্যদের জানালে তারাও দোকানদারকে সমর্থন দিয়ে তোমার চরিত্রে, পোশাকে, বাইরে যাওয়াকে দোষ দিবে। আমরা এতটাই দুর্বল এই সমাজ ব্যবস্থায়।'
কাঁদতে কাঁদতে মীনা বললো, 'আপা আমি তাহলে এখন কী করবো?'
আপা বললো, 'মীনা সময় আমাদের জন্যও আসবে। একদিন আমি, তুমি আর আমাদের মত অসংখ্য মেয়ে তাদের জীবনের এই কালো অধ্যায়ের প্রতিবাদে নামবে। সেদিন আমরা সবাই রুখে দাড়াবো এদের বিরুদ্ধে।'
নিরুপায় মীনা চোখ মুছতে মুছতে বাড়ি ফেরার সময় দেখে একটা গাছের নিচে একটা টিয়াপাখির বাচ্চা একাকী পড়ে আছে।

পাখির বাচ্চাটাকে কোলে নিয়ে মীনা বললো, 'ও টিয়া পাখি, বন্ধু আমার, আমি আজকে পারলাম না ভাই। আজকে আমি হাইরা গেলাম। কিন্তু আমি চুপ থাকবো না। আমি বলতে না পারি, তুমি আমার হইয়া সবাইকে জানাবা। তোমার নাম আজকে থেইকা MeToo. আমার কথা তুমি বলবা। তাহলে তোমার মত ডানা মেইলা সব মেয়েরাও একদিন মুক্ত হইয়া উড়তে পারবে। সবাই তখন তোমার মত কইরা নিজেরাই বলবে MeToo! MeToo!'
সেই মিটুই কালের বিবর্তনে মানুষের মুখে মুখে হয়ে গেছে 'মিঠু'!
লেখক: হামিদুর রহমান স্বরূপ


পাঠকের মন্তব্য