রাণী ভিক্টোরিয়া যখন প্রথমবারের মতো ভারত সম্রাজ্ঞী হিসেবে ঘোষিত হন তখন পুরো উপমহাদেশে বিভিন্ন নতুন নতুন প্রকল্প গ্রহণের মাধ্যমে এ ঘটনাকে স্মরণীয় করে রাখতে উদ্যোগী হয় ব্রিটিশ সরকার।
তারই অংশ হিসেবে রাতের ঢাকার অমানিশা দূরীভূত করতে ১৮৭৭ সালে সর্বপ্রথম ৬,৫০০ টাকার এক বিশেষ ফান্ড গঠন করা হয়। এ প্রকল্পের আওতায় ১০০টি কেরোসিনের বাতি কেনা হয় যা ১৮৯৩ সালে উন্নীত হয় ৩০০টি এবং ১৯০০ সালে ৪০২টিতে।
এই বাতি জ্বালানো এবং নিভানোর কাজে ঢাকায় একেবারে নতুন এক পেশাজীবী সম্প্রদায়ের উদ্ভব ঘটে। এরা প্রতি সন্ধায় এই বাতি জ্বালিয়ে দিতেন এবং সকালে নিভিয়ে দেয়ার কাজ করতেন। ফলে এরা পরিচিত হয় বাতিওয়ালা নামে।
সন্ধ্যায় শহরের রাস্তায় রাস্তায় একটা মই আর কেরোসিনের বাতি নিয়ে বাতিওয়ালাদের বিচরণ ছিল চোখে পড়ার মতো। উনিশ শতকের শেষদিকে ঢাকার বাতিওয়ালারা মাসে বেতন পেতেন ১ টাকা ৭ আনা।
পরবর্তীতে কেরোসিনের দাম বাড়ায় ১৮৯৯ সালে বাতিওয়ালাদের বেতন কর্তন করে ১ টাকা ৩ আনা তে নামিয়ে আনা হয়৷ বৈদ্যুতিক আলোর প্রচলনের পরও দীর্ঘদিন ঢাকায় কেরোসিনের বাতির প্রচলন ছিল।
তথ্যসূত্র: উনিশ শতকের ঢাকার পেশাজীবি সম্প্রদায়, মুন্সী আরমান আলী



পাঠকের মন্তব্য