নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের জীবনের কয়েকটি মজার ঘটনা

৮১৯ পঠিত ... ১৬:৩২, ফেব্রুয়ারি ০৪, ২০২১

সিনেমার নাট্যকার, গল্পের লেখক, ছাত্র-ছাত্রীদের সবচেয়ে প্রিয় শিক্ষক ‘নারায়ণ মাস্টারমশাই’- এমন অনেক পরিচয়েই পরিচিত সাহিত্যিক নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়। বামপন্থীদের মিছিল থেকে বন্যা দূর্গতদের জন্য ত্রাণ সংগ্রহের পদযাত্রায়, সবখানে থাকতো সাহিত্যিক নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের উপস্থিতি। মাস্টারমশাই শুনলেই যেমন গম্ভীর হয়ে বসে থাকা ছাত্রদের প্রাণ কেড়ে নিতে প্রস্তুত লোকেদের কথা মাথায় আসে, নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় ছিলেন ঠিক তার উল্টো। বরং হাসি-তামাশা আর রসিকতাপূর্ণ মানুষটি ছাত্রদের ছেলেমানুষিগুলোকে যেন কিছুটা উসকেও দিতেন। ১৯১৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি জন্ম নেন ‘টেনিদা’র স্রষ্টা এই সাহিত্যিক। চলুন জেনে নেওয়া যাক তাঁর জীবনের কিছু উল্লেখযোগ্য ঘটনা। 

narayan ganguly

১# নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের ছিল অসাধারণ স্মৃতিশক্তি। যেকোনো কবিতা বা গল্প তিনি একবার পড়ে মুখস্ত বলে দিতে পারতেন। সেসময় কবি প্রমথনাথ বিশীর কবিতা সঙ্কলন বের হবে ‘মিত্র ও ঘোষ পাবলিশার্স’ থেকে। কিন্তু ‘বঙ্গশ্রী’ পত্রিকায় একটি কবিতা প্রকাশিত হয়েছিল প্রমথবাবুর। সেই পত্রিকার সংখ্যাটি হারিয়ে ফেলেছেন তিনি। ঘটনা শুনে নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় জিজ্ঞেস করেন কোন কবিতা হারিয়েছে। নাম শুনতেই খানিক বিনয়ী হয়ে নারায়ণ বললেন, ‘কবিতাটা আমার মুখস্থ আছে, প্রয়োজনে লিখে নিতে পারেন।’

বিস্ময়ে হতবাক প্রমথবাবু এ বার বললেন, ‘দেখুন এত স্মৃতি ভাল নয়, ভালমন্দ সবই আপনি মনে রাখতে পারেন দেখছি।’

২# মেঝ ভাই শেখরনাথের প্রভাবে আর রবীন্দ্রনাথ-নজরুলের লেখা পড়ে তখন বিপ্লবী দলের সংস্পর্ষে আসেন নারায়ণ।

একদিন বাবা প্রমথনাথ বাড়িতে রয়েছেন। এমন সময় ‘ঠক্ ঠক্’। দরজায় পুলিশ।

‘কী ব্যাপার?’

‘সার্চ ওয়ারেন্ট রয়েছে।’

ইতোমধ্যে কোন ফাঁকে বুদ্ধি করে কিশোর নাড়ু (নারায়ণের ডাকনাম) পিস্তল-সহ যাবতীয় আগ্নেয়াস্ত্র এক থলিতে পুরে রেখে দিয়েছেন ধানের গাদায়। আর যে অফিসার সার্চ করতে এসেছেন, তিনি তাঁর মাথার টুপিটি রাখলেন সেই গাদার উপরেই। শেষমেশ অবশ্য সে থলির নাগাল পায়নি পুলিশ। তবে ছাত্রজীবনে নারায়ণের পড়াশোনায় রাজনীতি ঠিকই প্রভাব ফেলল। 

৩# জীবন থেকেই গল্প লেখার উপকরণ সংগ্রহ করেন নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়। এই যেমন, প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায় থেকে জন্ম টেনিদা চরিত্রের।

আরেকবার, গরুমারার জঙ্গল দিয়ে গাড়িতে চলেছেন নারায়ণ এবং দু’জন সংগীতশিল্পী। আলোচনা চলছে— হঠাৎ যদি বাঘ সামনে পড়ে, তা হলে কী হবে? যেই না বলা, অমনি রাস্তার পাশের জঙ্গল থেকে এক লাফে অন্য দিকে চলে গেলেন বাঘমামা। সে দিনের দু’জন সংগীতশিল্পী ছিলেন দ্বিজেন মুখোপাধ্যায় ও সুচিত্রা মিত্র। এই প্রসঙ্গটাই খানিক অন্য ভাবে এসেছে ‘চারমূর্তির অভিযান’-এ।

৪# বাংলা সাহিত্যের স্পেশাল ক্লাস নিচ্ছেন আপাদমস্তক এক সৌম্যকান্তি অধ্যাপক। পরনে ধোপদুরস্ত ধুতি পাঞ্জাবি। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসঘরে প্রায় তিনশ জন উৎসাহী ছাত্রছাত্রী। অনেকেই বসার জায়গা পায়নি। কেউ দেওয়ালে নোটখাতা রেখে, কেউ আবার বন্ধুর পিঠে খাতা রেখে মন দিয়ে ক্লাসের পড়া লিখে নিচ্ছে। অধ্যাপক ভদ্রলোক এই দৃশ্যে স্বাভাবিক কারণেই অভিভূত। পরিহাসের ছলে ক্লাসের উদ্দেশ্যে বলে উঠলেন, ‘আগে জানলে তো রিপোর্টারদের একটা খবর দিতাম, ছবি নিয়ে যেত’। বাংলা সাহিত্যের সে অধ্যাপক ছিলেন আমাদেরই প্রিয় নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়। 

৫# সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় তার শ্রদ্ধেয় শিক্ষক নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের সাথে একটি মজার ঘটনা উল্লেখ করেছেন। এক দিন মোটরগাড়িতে তারা কোথাও যাচ্ছিলেন। সামনের সিটে চালকের পাশে সুনীলবাবু বসেছেন, পেছনের সিটে নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়। সুনীলবাবু সিগারেট খাওয়ার জন্যে অনেকক্ষণ উসখুস করে শেষমেশ থাকতে না পেরে নিজের স্যারের কাছে সরাসরি অনুমতি চাইলেন। সদাহাস্য নারায়ণবাবু ছাত্রকে বললেন ‘নিশ্চয়ই! তোমার ষোল বছর বয়স হয়ে গেছে অনেকদিন! এখন আর ওসব কী!’

৬# একবার নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাটেন্ডেন্স নিচ্ছেন। একজন ছাত্রী অনুপস্থিত। ভুলবশত একাধিক ছাত্রী সেই ছাত্রীটির প্রক্সি দিয়ে ফেলে। তখন নারায়ণবাবু নিজের স্বভাবোচিত কৌতুকে বলে উঠলেন- ‘আমি এই ছাত্রীটির বন্ধুভাগ্যকে ঈর্ষা করি।’

৮১৯ পঠিত ... ১৬:৩২, ফেব্রুয়ারি ০৪, ২০২১

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

 

ইহাতে মন্তব্য প্রদান বন্ধ রয়েছে

আপনার পরিচয় গোপন রাখতে
আমি নীতিমালা মেনে মন্তব্য করছি।

আইডিয়া

কৌতুক

রম্য

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top