পলিটিক্স অফ কালচার: সাতই নভেম্বর ও সার্বভৌমত্বের রিক্লেমেশন

৩৬ পঠিত ০ ... ৪ ঘন্টা ৭ মিনিট আগে

28 (16)

 

৭ নভেম্বরকে বাংলাদেশের জিও-পলিটিক্যাল ও কালচারাল সার্বভৌমত্ব রিক্লেইম করার দিন বলে মনে হয়েছে সবসময়। ১৯৭৫ সালে মাত্র পাঁচ বছর বয়সে রাজনীতি বোঝার সামর্থ্য আমার ছিল না। কিন্তু বেড়ে ওঠার সময়টাতে যে আনন্দময় শৈশব-কৈশোর উপহার দিয়েছে ৭ নভেম্বর-পরবর্তী জিয়াউর রহমানের শাসনকাল; যাপিত জীবনের সেই অভিজ্ঞতা জিয়াকে একজন নায়ক হিসেবে চিত্রিত করে।

জিয়ার চরিত্রে যে আর্থিক সততা ও পেশাদারিত্ব ছিল, তা সমাজজীবনেও প্রতিফলিত হয়েছে। স্কুলজীবনে যে শৃঙ্খলাবোধ ও শিক্ষকদের আইকন হয়ে ওঠার সোনালি সময়টি আমরা জেনারেশন এক্স-এরা পেয়েছি; সেই সুন্দর শৈশব উপহার দেওয়ার জন্য জিয়াকে পছন্দ করেছি।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও শিশুদের কালচারাল অ্যাক্টিভিটিজের দিকে বিশেষ নজর দিয়েছিলেন তিনি। শিশু একাডেমির জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতা বাংলাদেশের শিশুদের প্রতিভা বিকাশে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে। মাত্র নয় বছর বয়সে বিতর্ক শেখায় ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে কখনো কোনো প্রতিবন্ধকতা অনুভব করিনি।

আমাদের পারিবারিক উঠোনে আওয়ামী লীগ, বাম, জাসদ, বিএনপি—সব অভিমতের মানুষ ছিলেন। তাঁদের মুখে জিয়া সম্পর্কে নানারকম অভিমত শুনেছি। কুরোসাওয়ার 'রাশোমন' চলচ্চিত্রের মতো চার রকম সাক্ষ্য সেসব।

কিন্তু আমি দেখতাম বিটিভির পর্দা; যেখানে শিল্প-সংস্কৃতি ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার সুরুচি প্রতিফলিত হয়েছে। শিশুদের জন্য পশ্চিমের লেটেস্ট সব সিরিজ এনে দেখাত বিটিভি। ফলে বিশ্বনাগরিক হিসেবে তৈরি হয়েছি আমরা। ইউরোপ-আমেরিকায় সমবয়সীদের সঙ্গে শৈশবের স্মৃতিচারণে আমরা একই টিভি সিরিজ কিংবা সংগীত নিয়ে গল্প করতে পেরেছি।

পঞ্চাশ-ষাট-সত্তর দশকের কবিরা বাংলাদেশের কাব্য আন্দোলনের যে জাগরণ ঘটিয়েছিলেন, তার চূড়ান্ত উৎকর্ষের আভা আমরা পেয়েছি সে সময়ের পত্রিকার সাহিত্য পাতায়, বিটিভির সাহিত্য আসরে। বিটিভির নাটকে ভালো গল্প, ভালো অভিনয়—সব মিলিয়ে সোনালি যুগের তারকাদের সম্মিলন দেখেছি। থিয়েটার আন্দোলন শক্তিশালী হয়ে উঠতে শুরু করেছে।

বাংলাদেশ চলচ্চিত্রের সুন্দর সময় ছিল সেটা। প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে সপরিবারে চলচ্চিত্র দেখার পরিবেশ ছিল। সোনালি যুগের অভিনেতা, অভিনেত্রী ও চলচ্চিত্রকারেরা ছিলেন।

একটু বড় হয়ে আঠারো বছর বয়সে ইন্ডিয়া ভ্রমণ করতে গিয়ে কলকাতায় বাংলাদেশের কবিতা, নাটক ও চলচ্চিত্রের উদার প্রশংসা শুনেছি। বাড়ির ছাদের অ্যান্টেনা ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে কলকাতার পৌরবাসী ও পশ্চিমবঙ্গের মানুষ বিটিভি দেখতেন। আমরাও বাংলাদেশের ছাদের অ্যান্টেনা ঘুরিয়ে দূরদর্শনে সত্যজিৎ রায়ের ইন্টারভিউ দেখেছি। চমৎকার একটা সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানের বাতাবরণ তৈরি হয়েছিল।

জিয়াউর রহমানের মা করাচিতে রেডিও পাকিস্তানে সংগীত পরিবেশন করতেন। তিনি নিজেও কৈশোরে চলচ্চিত্রের নায়ক হতে চেয়েছিলেন। ফলে রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে কালচারাল অ্যাক্টিভিজমে তাঁর সার্বক্ষণিক মনোযোগ থাকাটাই স্বাভাবিক।

১৯৬৫ সালে তিনি ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন। তাঁর অসম সাহসিকতায় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট পাকিস্তানের লাহোরকে ভারতীয় সেনাদের দখল থেকে রক্ষা করেছিল। ১৯৭১ সালে তিনি পাকিস্তানের দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছেন। কালুরঘাটে স্থাপিত অস্থায়ী বেতারকেন্দ্রে গিয়ে স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন। সম্মুখসমরে তাঁর সাহসিকতার বর্ণনা ইন্ডিয়ার যৌথবাহিনীর কর্মকর্তার বর্ণনায় পাওয়া যায়।

জিয়া ভারত ও পাকিস্তান উভয়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন; কিন্তু সার্কের চিন্তার মধ্য দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো আঞ্চলিক যৌথবদ্ধতার স্বপ্ন দেখেছিলেন। তিনি জানতেন, যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা বন্ধ হলে অর্থনৈতিক আদান-প্রদানের মাধ্যমে স্বয়ংসম্পূর্ণ দক্ষিণ এশিয়া গড়ে তোলা সম্ভব।

আমাদের সমাজে ত্রুটিহীন মহামানবের আকাঙ্ক্ষা প্রবল। ফলে নায়ক জিয়া ও খলনায়ক জিয়া—উভয় ন্যারেটিভ এ দেশে তৈরি হয়েছে অর্ধশতক ধরে।

সেসবের দিকে কান না দিয়ে আমি কেবল আমার শৈশব-কৈশোরকে দেখি। সেখানে জিও-পলিটিক্যাল ও কালচারাল সার্বভৌমত্বের আকাঙ্ক্ষায় ঋজু একজন জিয়াকে দেখি।

৩৬ পঠিত ০ ... ৪ ঘন্টা ৭ মিনিট আগে

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

আইডিয়া

কৌতুক

রম্য

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top ​