দেশে হুট করেই বেড়ে গেল গ্যাস সিলিন্ডারের দাম। এতে সাধারণ মানুষের রান্নাঘরের বাজেটে নতুন করে আগুন জ্বললেও সরকারের পক্ষ থেকে এসেছে এক অভাবনীয় যুক্তি। সরকারের এক মুখপাত্র, যিনি নিজের মুখ দেখাতে কিছুটা অনিচ্ছুক, নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানালেন, দেখুন, আমরা সব সময়ই জনগণের ভালো চাই। কিন্তু একটা বিষয় লক্ষ করেছেন? শহরের মানুষ দিন দিন প্রকৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে। সকালে ঘুম থেকে উঠে গ্যাসের চুলা, দুপুরে গ্যাসের চুলা, রাতেও সেই গ্যাসের চুলা! জীবনে কোনো বৈচিত্র্য নেই, কোনো আবেগ নেই, কোনো মাটির গন্ধ নেই।
তিনি আরও বলেন, একসময় মানুষ মাটির চুলায় রান্না করত। খড়কুটো, শুকনো পাতা, কাঠ জ্বালিয়ে রান্না হতো। সেই রান্নার স্বাদই ছিল আলাদা। ধোঁয়ায় চোখ জ্বলত ঠিকই, কিন্তু খাবারে একটা আত্মার টান ছিল। এখনকার প্রজন্ম তো মাটির চুলার আসল স্বাদই জানে না। এসময় আমাদের প্রতিবেদক তাকে প্রশ্ন করেন, তাহলে গ্যাসের দাম বাড়ানোর সঙ্গে মাটির চুলার সম্পর্ক কী? মুখপাত্র কিছুটা আবেগাপ্লুত হয়ে বললেন, আমরা চাই, মানুষ আবার শিকড়ে ফিরে যাক। গ্যাসের দাম একটু বাড়লে মানুষ বিকল্প চিন্তা করবে। কেউ কাঠের চুলা ধরাবে, কেউ মাটির চুলা বানাবে, কেউ আবার প্রতিবেশীর রান্নাঘরে উঁকি দেবে। এতে সামাজিক সম্পর্কও বাড়বে। দেখুন এক ঢিলে কত পাখি।
তিনি আরও যোগ করেন, আমরা শুধু জ্বালানির দাম বাড়াচ্ছি না, আমরা মানুষের হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ফিরিয়ে দিচ্ছি। এটাকে আপনারা মূল্যবৃদ্ধি না বলে 'ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার প্রকল্প' বলতে পারেন। তবে তাকে যখন প্রশ্ন করা হয়, যাদের কাঠ কেনার সামর্থ্য নেই, তারা কী দিয়ে রান্না করবে? তখন জবাবে মুখপাত্র বলেন, তাদের জন্যও আমাদের চিন্তা আছে। প্রয়োজনে চুলা ছাড়া রান্নার ঐতিহ্যও ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। আগের দিনে মানুষ অনেক সময় না খেয়েও দিন কাটাত। সেই ঐতিহ্যটাও তো আমাদের সংস্কৃতির অংশ। সবশেষে তিনি দেশবাসীর উদ্দেশে বলেন, আজ গ্যাসের দাম বাড়ছে, কাল হয়তো কাঠের দামও বাড়বে। তখন মানুষ শুকনো পাতা খুঁজবে। এভাবেই আমরা ধীরে ধীরে মানুষকে প্রকৃতির কাছাকাছি নিয়ে যাব। আপনারা আবার মাঝখান দিয়া অন্য কিছু মনে কইরেন না।


