গরিব গার্মেন্টস মালিকদের বেতন ৫০% বাড়ানোর দাবিতে আন্দোলন

১০ পঠিত ০ ... ১ ঘন্টা ৪৫ মিনিট আগে

 

খুবই মানবেতর জীবনযাপন করছেন গার্মেন্টস মালিকরা। ল্যাম্বরগিনি আনতে তাদের পাজেরো ফুরিয়ে যাচ্ছে। এক মাসে একটা থাইল্যান্ড, একটা শ্রীলঙ্কা ট্যুর দিলে টানাটানি করতে হচ্ছে দুবাই ট্যুরের বাজেটের জন্য।

এমন পরিস্থিতিতে গার্মেন্টস মালিকরা বেতন ৫০% বাড়ানোর দাবিতে আন্দোলনে নামবেন বলেও খবর পাওয়া গেছে।

এমন অসহায়, দুস্থ এক কোটিপতি গার্মেন্টস মালিক বলেন, অনেক কষ্টে আছি ভাই। ছেলেটার গাড়িটা পুরোনো হয়ে গেছে। একটা ল্যাম্বরগিনি চাইছে। কিন্তু এই মাসে কিনে দিতে পারব বলে মনে হচ্ছে না। সামনের মাসেই কিনতে হবে।

বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন এই মালিক। স্পেশাল গোল্ডেন টিস্যু দিয়ে চোখ মুছে তিনি আমাদের বলেন, সন্তানদের সামান্য শখ পূরণ করতে পারছি না। বাবা হিসেবে আজকাল নিজেকে খুব অসহায় লাগে। কান্না আটকে রাখতে পারি না। তাই প্রায়ই সোনারগাঁও হোটেলের বারে গিয়ে মদ খেতে খেতে কেঁদে নিজেকে হালকা করি। আমাদের বেতন আরও ৫০% না বাড়ালে বউ-বাচ্চা নিয়ে খুবই কঠিন পরিস্থিতিতে পড়ে যাব।

আর কত সহ্য করা যাবে এই অমানবিক পরিস্থিতি? খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক যে মালিকদের অনেকেই এখন সকালে ডাবল ট্যাপ করে কফি খাওয়ার বদলে সাধারণ ব্ল্যাক কফিতেই দিন চালাচ্ছেন। একজন ভুক্তভোগী মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে আফসোস করে বলেন, আগে প্রতিদিন সুইজারল্যান্ডের চকলেট দিয়ে ফ্রেশ হতাম, আর এখন মাঝেমধ্যে ব্র্যান্ড বদলে সাধারণ ইতালিয়ান চকলেট মুখে তুলতে হচ্ছে। এই জীবনে আর কী বাকি রইল ভাই? এত কষ্ট করে কোটি কোটি টাকার এক্সপোর্ট বিজনেস চালিয়ে লাভ কী, যদি নিজের শখটাই বিসর্জন দিতে হয়!

এদিকে এই মানবেতর পরিস্থিতির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে গার্মেন্টস মালিকদের গৃহস্থালি জীবনেও। গুলশান-বনানীর বিলাসবহুল ফ্ল্যাটগুলোতে ঝুলছে হাহাকারের ছায়া। আরেকজন ব্যথিত মালিক বুকে হাত দিয়ে জানান, স্ত্রীকে বলেছিলাম জন্মদিনে একটা চার্টার্ড বিমান উপহার দেব। অথচ এ মাসের ব্যালান্স শিট দেখে তাকে শুধু একটা আইফোন ১৬ আর হিরের নেকলেস দিয়ে শান্ত করতে হলো। স্ত্রীর মন খারাপ দেখে নিজের কাছেই নিজেকে খুব ছোট মনে হচ্ছিল। এই যে বেঁচে থাকা, এটা কি কোনো জীবন?

এমতাবস্থায় মালিক সমিতির পক্ষ থেকে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনের ডাক দেওয়া হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে মালিক প্রতিনিধিরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সরাসরি ৫০% বেতন না বাড়ালে এবং এই বাজেট ঘাটতি পূরণ না করা হলে আমরা বাধ্য হব ব্যক্তিগত হেলিকপ্টার বাদ দিয়ে সাধারণ লাক্সারি কারে অফিস করতে। আমাদের এই অহিংস আন্দোলন সফল না হলে আগামী সপ্তাহ থেকে সোনারগাঁও বারের জায়গায় স্থানীয় ক্লাবে বসে ক্যানসারাস মদের বদলে শুধুই প্রিমিয়াম কনিয়াক খেয়ে নীরব প্রতিবাদ জানানোর সিদ্ধান্ত গৃহীত হতে পারে।

১০ পঠিত ০ ... ১ ঘন্টা ৪৫ মিনিট আগে

Top ​