ফ্রেশ গ্র্যাজুয়েটের বেতন ১৫ হাজার টাকা, গার্মেন্টস শ্রমিকের দাবি ৩০ হাজার। সমস্যা আসলে কার বেতনে?

০ পঠিত ০ ... ১ ঘন্টা ৮ মিনিট আগে

9 (31)

 

গার্মেন্টস শ্রমিকরা ৩০ হাজার টাকা বেতন চাইতেছে, এইটা নিয়া অনেকের সমস্যা। তাদের যুক্তি, একজন ফ্রেশ গ্র্যাজুয়েটই তো ১৫-২০ হাজার টাকা বেতন পায়, শ্রমিকরা ৩০ হাজার চাইবে কেন? আমার প্রশ্ন, একজন ফ্রেশ গ্র্যাজুয়েট কেন ১৫-২০ হাজার টাকা বেতন পাবে?

একজন মানুষ চার-পাঁচ বছর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করল, টিউশন ফি দিল, নিজের সময়, শ্রম, মেধা ইনভেস্ট করল। এরপর গ্র্যাজুয়েশন শেষ কইরা চাকরির বাজারে নামল। ফুলটাইম চাকরি করতেছে, অফিসের আট-নয় ঘণ্টা সময় দিতেছে, দায়িত্ব পালন করতেছে। বিনিময়ে মাস শেষে ১৫ হাজার টাকা পাইতেছে। এইটারে আমরা খুব স্বাভাবিকভাবে নিই কেমনে? ঢাকার মতো শহরে ১৫ হাজার টাকা দিয়া একজন মানুষের স্বাধীনভাবে চলাই তো কঠিন। বাসাভাড়া, খাবার, যাতায়াত, ইন্টারনেট, চিকিৎসা বাদ দিলাম, মাসে দুইবার বন্ধুদের সঙ্গে খাইতে গেলেও বাজেটের বারোটা বাজবে।

এখন একটু হিসাব করেন। আপনি ধরেন একটাই ঢাকায় থাকেন। একটা রুম/ শেয়ারড রুমে থাকলে ৫-৮ হাজার টাকা ভাড়া। খাবারে ৩-৪ হাজার, যাতায়াতে ২-৩ হাজার, বিদ্যুৎ-গ্যাস-পানি, মোবাইল-ইন্টারনেটে আরও ২-৩ হাজার। এর মধ্যে অসুস্থ হইলে চিকিৎসা, নিজের কোনো প্রয়োজনীয় জিনিস কিনলে বা পরিবারের জন্য কিছু পাঠাইলে তো কথাই নাই। একজন সিঙ্গেল মানুষেরই মাসে ১২-২০ হাজার টাকা দরকার হইতে পারে। তাও যদি খুব সঞ্চয় করে চলেন। সেখানে ১৫ হাজার টাকা বেতন দিয়া কীভাবে চলবে?

আরেকদিকে গার্মেন্টস শ্রমিকদের বর্তমান ন্যূনতম বেতন ১২ হাজার ৫০০ টাকা। ২০২৩ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বরে সর্বশেষ ৮ হাজার টাকা থেইকা বাড়ায়া এই বেতন নির্ধারণ করা হইসিল। এখন শ্রমিকরা সেটা ৩০ হাজার টাকা করার দাবি জানাইতেছেন। কারণ এই বাজারে ১২ হাজার ৫০০ টাকা দিয়া সংসার চালানো প্রায় অসম্ভব। এই দাবি নিয়া আন্দোলনও চলতেছে। অনেক কারখানা বন্ধ হইসে, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হইসে। ১ নভেম্বর সরকার নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করছে।

এখন অনেকে গ্র্যাজুয়েটের ১৫-২০ হাজার টাকা বেতনের উদাহরণ দিয়া শ্রমিকদের ৩০ হাজার টাকার দাবির বিরোধিতা করতেছেন। আমার কাছে এই তুলনাটাই হাস্যকর লাগে। একজনের বেতন কম, তাই আরেকজনেরও কম থাকতে হবে? এইটা কেমন যুক্তি?

বরং দুইটা বিষয় নিয়া একসঙ্গে কথা হওয়া উচিত। একজন গ্র্যাজুয়েট কেন নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা, দক্ষতা আর শ্রমের বিনিময়ে সম্মানজনক বেতন পাবে না? আবার একজন গার্মেন্টস শ্রমিক কেন সারাদিন কাজ কইরা নিজের পরিবারের মৌলিক চাহিদাগুলা পূরণ করতে পারবে না?

আমরা এমন একটা পরিবেশ তৈরি করছি, যেখানে কম বেতন পাওয়াটাকে স্বাভাবিক মনে করা হয়। কেউ ১৫ হাজার টাকা বেতন পাইলে বলা হয়, ক্যারিয়ারের শুরু, অভিজ্ঞতা নাই, আগে কাজ শিখো। আবার কেউ ৩০ হাজার টাকা চাইলে বলা হয়, এত টাকা দিয়া কোম্পানি চলবে কীভাবে! কোম্পানি চালানোর সব হিসাব আছে, শুধু কর্মীর জীবন চালানোর হিসাবটাই নাই।

আমার কথা সোজা। ফ্রেশ গ্র্যাজুয়েটের বেতনও বাড়া দরকার, গার্মেন্টস শ্রমিকের বেতনও বাড়া দরকার। শিক্ষিত মানুষের কম বেতন পাওয়া কোনো গর্বের বিষয় না, আর শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি চাওয়াও কোনো অপরাধ না।

সবাইরে কম বেতন দিয়া রাখলেই দেশের অর্থনীতি ভালো হইয়া যায় না। বরং যে অর্থনীতিতে একজন ফুলটাইম কর্মজীবী মানুষ নিজের মৌলিক খরচ মেটাইতে পারে না, সেই অর্থনীতির সাফল্য নিয়া আমার একটু প্রশ্ন আছে।

০ পঠিত ০ ... ১ ঘন্টা ৮ মিনিট আগে

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

আইডিয়া

কৌতুক

রম্য

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top ​