হুজুর বইলাই এত চুলকায়, অন্য কেউ হইলে খবরও থাকত না!

১০ পঠিত ০ ... ১ ঘন্টা ৫১ মিনিট আগে

 

১.

রাস্তার পাশের এক টং দোকানে দাঁড়িয়ে চা খাচ্ছি। বসার জায়গা নেই। সামনের বেঞ্চে বসে আড্ডা দিচ্ছেন চার-পাঁচজন মানুষ। টপিক টঙ্গীর সেই মাদ্রাসা! গত কয়েকদিন ধরে এটা তো হট টপিকই। ঘটনা ঘটেছে। তার ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া চলছে, আলোচনা চলছে, সমালোচনা হচ্ছে, আড্ডা হচ্ছে, গসিপ হচ্ছে, নানান রিল বেরোচ্ছে। সেগুলো নিয়ে আবার ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া চলছে, আলোচনা-সমালোচনা চলছে, আড্ডা-গসিপ চলছে। মানে একদম উৎসব-উৎসব ব্যাপার!

আমার সামনের অবস্থাটাও ঠিক তেমনই। খুব জোর গলায় একজন বলছেন,

সব খালি মাদ্রাসার দোষ! হুজুরগো দেখলেই খালি চুলকায়! অমুক কলেজে যে তমুক হিন্দু মাস্টার ১৩টা মেয়েরে নিয়ে রঙ্গলীলা চালাইছে, একজনরে গর্ভপাত পর্যন্ত করাইছে। এই খবর কেউ জানছে? কোনো মিডিয়ায় আসছে? এটা নিয়ে কোনো কথা হইছে?

অন্য কেউ একজন তাঁকে জিজ্ঞেস করল,

তাই নাকি ভাই? কী বলেন? এই খবর তো জানি না! কই দেখলেন?

সেই লোক বিশাল উৎসাহের সাথে জানালেন,

আরে, একটা রিলসে দেখলাম। একজন একদম তথ্য-উপাত্ত দিয়ে দেখাচ্ছে!

ব্যস! লেগে গেল এই কাহিনি নিয়ে। হ্যাঁ, শুধু মাদ্রাসা হলেই সবাই আঙুল তোলে, হুজুর হলেই এসব ফলাও হয় বেশি। ওখানে এই ধর্মের মানুষ এই আকাজটা করছে, সেখানে আরেক ধর্মের মানুষ ওই আকাম করছে, তখন আর সেগুলো নিয়ে কারও কোনো খবর নাই!

আমার এই বক্তা লোকটির কাছে অনেকগুলো প্রশ্ন ছিল। আমি কোনোটাই করলাম না। কেন? কারণ, এই টাইপ মানুষের সাথে কথা বলতে গেলেই আপনি দেখবেন, এদের কাছে প্রচুর খোঁড়া যুক্তি, অন্ধ যুক্তি আর বাচাল যুক্তি আছে! আরও দেখবেন, আপনার চারপাশে এমন টাইপ মানুষ অনেক আছে!

২.

এখানে আমার মেইন কথাটা হলো, একটা ক্রাইমকে আরেকটা বিতর্কিত বিষয়ের দিকে ডাইভার্ট করার মানে কী? হ্যারাসমেন্ট, মোলেস্টেশন ইটসেলফ আ ক্রাইম! আমরা সেটাকে নিয়ে যাচ্ছি ধর্মীয় দুর্বলতার দিকে। আমি জানি না, তার বলা তথ্যগুলোর অথেনটিসিটি কতটুকু। কিন্তু যে ক্রিমিনাল, তার ধর্ম কোনটা, এটা কি আসলেই একটা ফ্যাক্টর? যারা এই কথাগুলো বলছে, তাদের কাছে জিজ্ঞাসা যে, আপনারা কি গ্যারান্টি দিতে পারবেন, একজন মানুষ হুজুর হলেই সে সব ধরনের অপরাধের ঊর্ধ্বে? সে ফেরেশতা, তার কোনো দোষ নেই?

ঠিক তেমনভাবেই একজন হিন্দু মানুষও কোনো কিছুর ঊর্ধ্বে না। এখানে কাজটা একজন মানুষের, তার ধর্মের তো না। দোষটা মানুষের, ধর্মের দোষ তো এখানে নেই। কোনো ধর্ম কি এই অপরাধগুলোকে সাপোর্ট করে? আপনারা দেখাতে পারবেন? তাহলে, হিন্দু করলে চোখে পড়ে না, হুজুর করলেই দোষ, এই টপিকটা কীভাবে আসে? আর আসেও যদি, তাহলে কি সেটা ক্রাইমটাকে হালকা করে দেয়? গুরুত্ব কমিয়ে দেয়?

এমন কথা বলা মানুষদের কাছে আমার প্রশ্ন, আপনার ঘরের কোনো মেয়ে যদি হ্যারাসমেন্ট, মোলেস্টেশন বা রেইপের শিকার হয়, তখন কি আপনি খবর নেবেন যে কাজটা করেছে, সে হিন্দু ছিল না মুসলিম?

নাকি ওই বাচ্চাটা আপনার বাচ্চা নয় বলেই মেইন কাহিনি ছেড়ে এই অলি-গলি ঘোরা?

৩.

সময়টা রিলসের। শ্বাস নেওয়ার ফাঁকে ফাঁকেও আমরা এখন পারলে একটু রিল দেখে নিই। সেই সুবাদেই জানলাম, আক্রান্ত মেয়েটার বাবা জিম্মত একটা জায়গায় নানা মেয়েদের নিয়ে কত তামাশা করেন! মানে, রিলে দেখলাম আরকি!

এখানেও আমার সেই একই প্রশ্ন, বাচ্চাটার বাবা কী করেন, সেটাকে বাচ্চাটার সাথে ঘটে যাওয়া ব্যাপারটার সাথে তুলনা করা হবে কেন? নিজে অন্য মেয়েদের সাথে লীলাখেলা চালিয়ে বেড়াবে, আবার নিজের মেয়ের কিছু হলে পেটাতে আসবে! এই জাতীয় কথাবার্তা দেখলাম, শুনলাম!

এখন আমার কথা হচ্ছে, ধরুন, একটা মেয়ের বাবা খুনি। তার মেয়েটাকে হ্যারাস, মোলেস্ট বা রেইপ করা হয়েছে। সেই বাবার কি কোনো রাইট নেই তার মেয়েকে প্রোটেক্ট করার? মেয়ের সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনার প্রোটেস্ট করার? বাবা খুনি বলেই তার মেয়ে যেকোনো পরিস্থিতির সম্মুখীন হবে, কিন্তু কোনো বিচার পাবে না? ইভেন বাবার প্রোটেকশনও পাবে না?

আমাদের দেশে এখন আমরা অহরহ দেখছি এই জাতীয় ঘটনা। চারদিকে কী একটা ভয়ংকর অবস্থা! কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ভিক্টিমের ফ্যামিলির কেউ এভাবে প্রোটেস্ট করতে এগিয়ে আসে না। একজন এসেছেন, অমনি জাতি লেগে গেল তাঁর নাড়িভুঁড়ি টেনে বের করতে! আমি পক্ষপাতিত্ব করছি না, আমি শুধু বলছি, প্রতিটা মানুষের নিজেকে বাঁচানোর রাইট আছে। প্রতিটা মানুষের নিজের ফ্যামিলির সেফটি এনশিওর করার রাইট আছে! আমরা একটা স্বাধীন সার্বভৌম দেশে বাস করি রে ভাই!

৪.

ভাইরে, এই রুমি কিন্তু আমি-আপনিই! এ দেশে প্রতিদিন শ-শ মেয়ে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়। মাদ্রাসায় হয়, স্কুল-কলেজ-ভার্সিটিতে হয়, নিজের ওয়ার্কপ্লেসে হয়, রাস্তায়, ইভেন নিজের ঘরেও হয়! ওই যে চর্যাপদের শ্লোক, আপনা মাংসে হরিণা বৈরী!

এই যে প্রতিদিন মেয়েগুলো হ্যারাস হয়, এরা কিন্তু আমাদেরই ঘরের মেয়ে। মন্ত্রী-মিনিস্টারের মেয়ে না। বিজনেস ম্যাগনেটের মেয়ে না। আমার-আপনার মেয়ে। আজকে রুমির মেয়ের সাথে হয়েছে, কাল হয়তো আমার পালা! পরশু আপনার! মেয়ে তো সবার ঘরেই আছে, তাই না?

তাই আরেকজনের মেয়ের সাথে, বাচ্চার সাথে হয়েছে বলে, বাবা ভাইরাল হইতে আসছে, হুজুর বইলা ফলাও খবর আসছে, নিজে মাইয়াগো লগে এইসব করে আবার অন্যরে পিডাইতে আসছে, এসব বলে নিজের জাত চেনায়েন না। মানুষের মতো আচরণ করেন। এই টাইপ ঘটনা সেটা যেখানেই হোক, মাদ্রাসায় বা রাস্তায়; যে-ই করুক, হিন্দু কি মুসলিম! ঘটনা সত্যি হলে একসাথে হন, প্রতিবাদ করেন। প্রতিরোধ করেন! না হলে ধ*র্ষণ থামবে না, আমাদের ছেলেমেয়েরা বাঁচবে না!

বাকি… বাকস্বাধীনতা তো সবারই আছে!

১০ পঠিত ০ ... ১ ঘন্টা ৫১ মিনিট আগে

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

আইডিয়া

কৌতুক

রম্য

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top ​