তুমি যার লাগিয়া এম্বি ভরো, তার তো বাটন ফোন! এই গান কোত্থিকা আসলো? ক্যান ভাইরাল হইল?

৩ পঠিত ০ ... ১ ঘন্টা ২৩ মিনিট আগে

 

ঘটনাটা শুরু হয় এক রবিবার দুপুরে। অলসভাবে ফেসবুক স্ক্রল করছেন, হঠাৎ মোবাইলে একটা গান বেজে উঠল। গানের সুর চেনা চেনা, কিন্তু কথাগুলো শুনে একটু থমকে যেতে হয়। গাইছেন কবির বিন সামাদ।

তুমি যার লাগিয়া এমবি ভরো, তার তো বাটন ফোন।

ওরে কেমন করে বুঝবে রে সে, ডিজিটাল তোর মন।

মেসেজ দিলে সিন করে না, দেয় না যে রিপ্লাই।

ভিডিও কলে বলবা কথা, ক্যামেরা তার নাই রে...

গানটা শুনে প্রথমে হাসি পাবে। তারপর মনে হবে, আরে, এ তো দেখি ডিজিটাল যুগের বিরহের গান! একদিকে প্রেমিক এমবি কিনে শেষ, অন্যদিকে প্রেমিকার ফোনে ক্যামেরাই নাই। প্রেম করবে কীভাবে, যোগাযোগ করবে কীভাবে, সেই চিন্তায় ছেলেটার জীবন শেষ।

তবে এই বিরহের ইতিহাস কিন্তু নতুন না। বাংলা গানের জগতে প্রেমে ছ্যাঁকা খাওয়া, অপেক্ষা করা আর মনের দুঃখে গান গাওয়ার একটা লম্বা ইতিহাস আছে। আর সেই ইতিহাসের বড় একটা অংশজুড়ে আছেন আমাদের বিরহের বাদশাহ মনির খান।

মনে আছে তার সেই গানটা?

তুমি কার লাগিয়া গাঁথরে সখি বকুল ফুলের মালা, নিশি রাতে কুঞ্জবনে আসবে কি শ্যাম কালা রে...

সেই যুগে প্রেমিক প্রেমিকার জন্য বকুল ফুলের মালা গাঁথত, রাত জেগে অপেক্ষা করত, আর বিরহে বুক ফাটিয়ে গান গাইত। প্রেমিকার একটা দেখা পাওয়ার জন্য কত অপেক্ষা, কত দীর্ঘশ্বাস! তখন মেসেঞ্জার ছিল না, ব্লু টিক ছিল না, আর এমবি শেষ হয়ে যাওয়ার টেনশনও ছিল না।

এরপর সময় বদলাল। কুঞ্জবন থেকে প্রেম চলে এল ফেসবুকে, চিঠির জায়গায় মেসেঞ্জার, আর অপেক্ষার জায়গায় অনলাইন স্ট্যাটাস। প্রেমিক এখন আর শুধু প্রেমিকার জন্য বকুল ফুলের মালা গাঁথে না, তার জন্য এমবিও ভরে। কিন্তু এত কিছু করেও যদি দেখা যায়, মেয়ের ফোনটা নকিয়া বাটন ফোন, তাহলে বুঝতেই পারছেন অবস্থা!

মনির খানের গানে প্রেমিকের দুঃখ ছিল, সখি কার জন্য মালা গাঁথছে, শ্যাম কালা আসবে কি না। আর হুজুরদের গানে প্রেমিকের দুঃখ আরও বাস্তব। এত টাকা দিয়ে এমবি ভরল, মেসেজ দিল, কিন্তু রিপ্লাই নাই। ভিডিও কল দিতে চায়, কিন্তু ফোনে ক্যামেরাই নাই।

মানে, একদিকে ডিজিটাল প্রেমিকের পকেট খালি, অন্যদিকে প্রেমিকার ফোন অ্যানালগ। মাঝখানে পড়ে ভালোবাসার অবস্থা কাহিল।

সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, মনির খানের সেই চেনা বিরহের সুরের সঙ্গে নতুন যুগের এই প্রেমের কাহিনি বেশ ভালোই মিলে গেছে। আগে প্রেমিক কাঁদত প্রেমিকা কুঞ্জবনে আসবে কি না, আর এখন প্রেমিকের চিন্তা, মেসেজ সিন করবে কি না। আগে বাঁশির সুরে বিরহ হতো, এখন হয় নেটওয়ার্কের সমস্যায়।

প্রেম আসলে বদলায়নি, বদলেছে প্রেমে কষ্ট পাওয়ার ধরন। আগে প্রেমিক রাত জেগে অপেক্ষা করত, এখন অনলাইন দেখে বসে থাকে। আগে চিঠির উত্তর আসত না, এখন রিপ্লাই আসে না। পার্থক্য শুধু একটাই, আগের প্রেমিকের হাতে ছিল বকুল ফুল, আর এখনকার প্রেমিকের হাতে এমবি ভরার রিচার্জ কার্ড।

তবে একটা কথা মানতেই হবে, প্রেমিকার ফোনে ক্যামেরা না থাকলে অন্তত সন্দেহ করার সুযোগ কম। কিন্তু মেসেজের রিপ্লাই না দিলে সেই পুরোনো বিরহই আবার ফিরে আসে। শুধু ব্যাকগ্রাউন্ডে বাঁশির বদলে বাজে নোটিফিকেশনের শব্দ।

 

৩ পঠিত ০ ... ১ ঘন্টা ২৩ মিনিট আগে

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

আইডিয়া

কৌতুক

রম্য

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top ​