১
বাংলায় একটি চিরন্তন প্রবাদ আছে— মশা মারতে কামান দাগা। তবে আমাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞ কর্তাব্যক্তিরা সেটিকে একটু আধুনিক রূপ দিয়েছেন। তারা এবার মশারি টাঙিয়ে ভেবেছিলেন হাতির আক্রমণ ঠেকিয়ে দেবেন, আর পেছনের দরজা দিয়ে যে রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের দল ঢুকে পুরো গ্রাম সাফ করে দিল, সেটিকে একেবারেই অপ্রাসঙ্গিক বলে বাতিল করে দিলেন।
আমরা টাইফয়েড নিয়ে এতটাই আত্মহারা, ব্যাকুল এবং প্রেমিকপ্রবণ হয়ে উঠেছিলাম যে, চোখের সামনে দিয়ে হাম নামের সেই অতি-পরিচিত, অত্যন্ত পুরোনো এবং প্রাণঘাতী ভাইরাসটি যে নিঃশব্দে শত শত শিশুর প্রাণ কেড়ে নিল—তা আমরা খেয়ালই করলাম না। বা হয়তো খেয়াল করেছি, কিন্তু কোনো এক অদ্ভুত ‘আমলাতান্ত্রিক উদাসীনতায়’ হাই তুলে হাই তুলে এড়িয়ে গেছি।
গল্পটা তো শুরু হতে পারত ফারজানা ইসলামের আট মাস বয়সী বাচ্চা তাজিমকে দিয়ে। আইভিএফ পদ্ধতিতে, এগারো বছরের বহু প্রার্থনা ও কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা খরচের পর জন্ম নেওয়া একটি শিশু। কিন্তু গল্পটা শেষ হলো একটি ডেথ সার্টিফিকেটে। আর তার সঙ্গে যোগ হলো আরও ৮৮০টি শিশুর নীরব দীর্ঘশ্বাস। এতগুলো শিশুর মৃত্যুর পর এখন জানা যাচ্ছে, এই পুরো মহামারিটি কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা গ্রহের ফেরফার ছিল না—এটি ছিল অত্যন্ত যত্নে, ধীরেসুস্থে, নথিপত্রের ধুলো জমিয়ে তৈরি করা একটি পরিকল্পিত প্রশাসনিক গাফিলতি।
আমাদের বীরপুরুষ কর্তারা কী করছিলেন? তারা গত কয়েক বছর ধরে একটা দারুণ খেলায় মেতেছিলেন—টাইফয়েড নাকি হাম? গ্যাভির টাকা আসছে, তাই টাইফয়েড টিকাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। কারণ টাইফয়েডের গ্ল্যামার বেশি, নতুন নতুন ভাব আছে। আর হাম? ও তো সেই ১৯৭৯ সাল থেকে ঝুলছে! ও তো ঘরের লোক, অত ঢং কিসের? ফলে, একের পর এক আন্তঃসংস্থা সমন্বয় কমিটির (আইসিসি) মিটিং বসল। মিটিংয়ে বীর সেনানীরা গম্ভীর মুখে চা খাবেন, বিস্কুট চুবাবেন এবং সিদ্ধান্ত নেবেন—হামের ক্যাম্পেইনটা আরেকটু পিছিয়ে দাও ভাই, আগে টাইফয়েডটা শেষ হোক।
আইসিসির মিটিংয়ের কার্যবিবরণীগুলো দেখলে মনে হয়, যেন কোনো এক ক্লাসিক কমেডি সার্কাসের স্ক্রিপ্ট লেখা হচ্ছে। ২০২২ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ১৩টি সভা হলো। তার মধ্যে ১১টি সভার কার্যবিবরণীতে টাইফয়েডের জয়গান গাওয়া হলো, কিন্তু হামের প্রাদুর্ভাবের সম্ভাবনা নিয়ে একটা বাক্যও খরচ করা হলো না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আর ইউনিসেফের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোও সেই টেবিলে বসে স্যুট-টাই পরে মাথা নেড়ে গেল। কেউ একবার টেবিলে থাপ্পড় মেরে বললেন না—আরে ভাই, হামের প্রাদুর্ভাব হলে তো দিনে দিনে শত শত বাচ্চা মারা যাবে, টাইফয়েডের তো সেই হঠাৎ আউটব্রেকের ঝুঁকি নেই! আগে হাম সামলান!
না, কেউ বলেননি। কারণ বিশেষজ্ঞরা তখন প্রশাসনিক ভারসাম্য রক্ষা করতে ব্যস্ত ছিলেন। আর সেই ভারসাম্যের বলি হলো দেশের ৮৮০টি শিশু।
সবচেয়ে ট্র্যাজিকটি হলো—হামের ক্যাম্পেইন পিছাতে পিছাতে ২০২৩ থেকে ২০২৫, এই তিন বছরে দেশের চাহিদার চেয়ে ৪২ শতাংশ কম টিকা কেনা হলো। ভায়ালের সংকট, গুদাম খালি, মাঠপর্যায়ে টিকার আকাল—এসব কথা পত্রিকা ছেপে শেষ করে ফেলল, অথচ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অন্দরে নাকি এ বিষয়ে কোনো আলোড়নই ঘটেনি।
বিজ্ঞদের যুক্তি ছিল মারাত্মক—সবই তো ঠিক আছে, ড্যাশবোর্ডে দেখাচ্ছে ৫৭% টিকা দেওয়া হয়েছে, ইপিআই বলছে ৯২% দেওয়া হয়েছে! সরকারি হিসাব ও বাস্তবতার এই যে মহাজাগতিক ফারাক, তা নাকি কোনো বিশেষজ্ঞ মহোদয়ের চোখেই পড়েনি। সরকারি ফাইলে শিশু টিকা পেয়ে পরম সুখে ঘুমোচ্ছে, আর বাস্তবে হাসপাতালের অক্সিজেনের মাস্কের নিচে সেই শিশুই হামে ছটফট করে মারা যাচ্ছে।
২
ঘটনাটা একটু খেয়াল করুন। ২০২৪ সালের শুরুতে, এক সাংবাদিক তার ৯ মাস বয়সী শিশুকে হামের টিকা দিতে যশোরের এক ক্লিনিকে হন্যে হয়ে ঘুরছেন। দু’সপ্তাহ ধরে চক্কর কেটেও টিকা মিলল না। কারণটা খুব সাদামাটা—টিকা নেই। তিনি পত্রিকা মারফত চিৎকার করে বললেন, ভাইরে ভাই, জেলায় জেলায় হামের টিকার আকাল পড়েছে! কিন্তু তৎকালীন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আর তাদের অধীনস্থ পরাক্রমশালী সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) কর্তারা কি সেই চিৎকারে কান দিলেন? আলবাত না! বিজ্ঞ কর্তারা ভাবলেন, এসব সাংবাদিকদের বানিয়ে বলা গল্প। আমাদের ড্যাশবোর্ডে তো দেখাচ্ছে টিকার বন্যায় দেশ ভেসে যাচ্ছে!
বাস্তবতা কিন্তু তা ছিল না। ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের পরিসংখ্যান হিসাব করলে দেখা যায়, প্রতি বছর যে পরিমাণ টিকা কেনা দরকার ছিল, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার কিনেছিল তার চেয়ে ৪২ শতাংশ কম। কেন? কারণ একটাই—টাকা বাঁচাতে হবে, নতুবা প্রকল্প সাজিয়ে ভিন্ন খাতে মনোযোগ দিতে হবে।
অথচ তাদের কাছে পর্যাপ্ত তথ্য ছিল। ল্যাবরেটরির পরীক্ষায় ২০২৩ সাল থেকেই হাম শনাক্তের সংখ্যা হু হু করে বাড়ছিল। ২০২৩ সালের মূল্যায়ন প্রতিবেদন পরিষ্কার বলেছিল—কাগজে-কলমে কভারেজ ৯৩ শতাংশ দেখানো হলেও বাস্তবে টিকা পেয়েছে মাত্র ৮১ শতাংশ শিশু! অর্থাৎ, প্রতি ১০০ জনের মধ্যে ১৯ জন শিশু টিকার বলয় থেকে সম্পূর্ণ বাইরে থেকে যাচ্ছিল। এই যে লাখ লাখ অরক্ষিত শিশুর একটা বিরাট বাহিনী তৈরি হচ্ছিল, এটি ছিল এক বিস্ফোরক ইমিউনিটি গ্যাপ। যেন ঘরের ভেতরেই রাখা ছিল বারুদের স্তূপ।
কিন্তু সরকারি আমলা আর তাদের প্রিয় বিশেষজ্ঞ কমিটিগুলোর অভ্যাস কী? আগুনে ঘি ঢালা, আর তারপর হাত ধুয়ে ফেলা। এনভিসি (ন্যাশনাল ভেরিফিকেশন কমিটি) কিংবা নাইট্যাগের মতো বিজ্ঞ কারিগরি কমিটিগুলো একের পর এক সভা ডেকে বিস্কুট খেলেন, কিন্তু একবারও স্বাস্থ্য সচিবের টেবিলে খামচে ধরে বললেন না—মাননীয় সচিব, ২০২৫-এর সেপ্টেম্বরের ক্যাম্পেইন যদি আপনি পিছিয়ে দেন, আর এই টিকার ঘাটতি যদি পূরণ না করেন, তবে দেশে হামের মহামারি ঠেকানোর ক্ষমতা স্বয়ং সৃষ্টিকর্তারও থাকবে না!
তারা তা বলেননি। কারণ, তত দিনে সরকারি নীতি হয়ে দাঁড়িয়েছিল—যা চলছে চলুক, তথ্য চেপে রাখো। ইপিআই তাদের ওয়েবসাইটে পরিসংখ্যান নিয়ে রূপকথার গল্প লিখতে ব্যস্ত রইল। জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের ল্যাব থেকে যখন স্পষ্ট রিপোর্ট গেল যে জানুয়ারিতে হামের সংক্রমণ দ্বিগুণ হয়ে গেছে, ইপিআই সেই তথ্য নীতিনির্ধারকদের কান পর্যন্ত পৌঁছাতেই দিল না।
আওয়ামী জমানার শেষ সময়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টিভঙ্গি ছিল একদম পরিষ্কার—টিকা কেনার চেয়ে কাগজ-কলমে সব ঠিক আছে প্রমাণের মহড়া দেওয়াটা বেশি জরুরি। আর এই উদাসীনতা, টিকার বাজেট কাটছাঁট করা এবং আন্তর্জাতিক সাহায্যকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে অলস মাথা নাড়ানোর খেলাই হাম মহামারির বারুদস্তূপে প্রথম আগুনটি জ্বালিয়ে দিয়েছিল।
পাঁচ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে সরকার পরিবর্তন হলো বটে, কিন্তু স্বাস্থ্য ব্যবস্থার রন্ধ্রে রন্ধ্রে বাসা বাঁধা সেই আমলাতান্ত্রিক লাল ফিতার ফাঁসে কিন্তু একটুও আলগা ভাব এলো না। বারুদস্তূপে দেশ যখন পুড়তে শুরু করল, তখন মাঠে নামল নতুন আরেক পক্ষ—যাদের গল্পে আসবে অন্তর্বর্তী সরকারের চরম পরীক্ষা-নিরীক্ষা আর আমলাতান্ত্রিক কসরতের কথা।
৩
বিপ্লব হলো, ক্ষমতার মসনদ বদলালো, রাজবাড়ির সিংহাসনে বসলেন নতুন সব বিজ্ঞ ও বিদগ্ধ অন্তর্বর্তী প্রতিনিধিরা। দেশবাসী ভাবল—যাক, এবার অন্তত চিকিৎসাব্যবস্থায় সাধারণ মানুষের সুবাতাস বইবে।
কিন্তু হায়! আমাদের আমলাতন্ত্র এমন এক অমর সনাতনী মহীরুহ, যার চরিত্র সরকার বদলালেও এক চুলও নড়ে না। উল্টো নতুন সরকারের এসে দেখা দিল এক অদ্ভুত আদর্শিক চুলকানি—সবকিছু রাতারাতি ধুয়েমুছে সাফ করে নতুন নিয়মে চালাতে হবে!
স্বাস্থ্য খাতে অন্তর্বর্তী সরকার এসে কী করলেন? তারা দেখলেন, আগের আমলের স্বাস্থ্য, জনসংখ্যা ও পুষ্টি খাত কর্মসূচি (সেক্টর প্রোগ্রাম) নাকি বড়ই পচা ও পুরোনো। দাতাদের ওপর নির্ভর করা যাবে না, রাজস্ব খাত থেকে সব কেনাকাটা হতে হবে। নীতি হিসেবে এটি শুনতে অতি চমৎকার, একেবারে সার্বভৌমত্বের গন্ধে ভরপুর! কিন্তু সমস্যা হলো—কোনো প্রকার পূর্বপ্রস্তুতি ছাড়াই, টেন্ডার বা দরপত্রের নতুন ব্যবস্থা তৈরি না করেই, হঠাৎ করে পুরো পুরোনো ব্যবস্থাটি বন্ধ করে দেওয়া হলো।
ফলাফল? এক বিশাল শূন্যতা। আগের নিয়মে দরপত্র ছাড়াই গ্যাভি বা ইউনিসেফ থেকে সহজে টিকা আনানো যেত। নতুন সিস্টেমে এসে লাল ফিতার ফাঁস এতই টাইট হলো যে, ফাইলের পেছনে সই মেলাতেই মাসের পর মাস পার হয়ে গেল। এদিকে মাঠে টিকাদানকেন্দ্রে টিকা পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বে থাকা ১ হাজার ৩২৬ জন পোর্টারের বেতন বন্ধ হয়ে গেল এক বছরের জন্য! যে পোর্টার টিকা নিয়ে সেন্টারে যাবেন, তিনিই যদি পেটের দায়ে না খেয়ে থাকেন, তবে আপনার টিকা কি আকাশ থেকে ডানা মেলে উড়ে গিয়ে বাচ্চার শরীরে বিঁধবে?
আর এর মাঝেই শুরু হলো এক মহা কৌতুক—মুক্ত দরপত্র বনাম সরাসরি ক্রয়পদ্ধতি। স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ও নীতিনির্ধারকেরা একমত হতে পারলেন না যে টিকা ইউনিসেফ থেকে কেনা হবে নাকি ওপেন টেন্ডারে কেনা হবে। এই দার্শনিক তর্ক যখন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের শীতাতপনিয়ন্ত্রিত ঘরে তুঙ্গে, তত দিনে চট্টগ্রামের বস্তি থেকে শুরু করে ঢাকা শহরের গলিঘুঁজিতে হামের ভাইরাস তার তাণ্ডব শুরু করে দিয়েছে।
আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো, টিকার জন্য মাত্র কয়েকশো কোটি টাকা দরকার ছিল। কিন্তু আমাদের স্বাধীন ও সার্বভৌম সরকার নিজের পকেট থেকে সেই টাকা না ছেড়ে, কোভিডের বেঁচে যাওয়া এডিবি (ADB) ঋণের টাকার জন্য চাতক পাখির মতো চেয়ে রইল। এডিবিকে চিঠি পাঠানো হলো জুনে, এডিবি উত্তর দিল সেপ্টেম্বরে, আর কাগজপত্রের ঝামেলা মিটে টাকা আসতে লেগে গেল আরও পাঁচ মাস! যেন কয়েকশো শিশুর জীবনের চেয়ে ওই ব্যাংকের সুদের হিসাব মেলানোটাই ছিল সরকারের কাছে পরম জাতীয় কর্তব্য।
আর এই পুরো সার্কাসের শেষ অঙ্কটি উন্মোচিত হলো ২০২৬ সালের এপ্রিলে। প্রাদুর্ভাব যখন ছড়িয়ে পড়েছে ৬১টি জেলায়, তখন তাড়াহুড়ো করে একটা জাতীয় ক্যাম্পেইন করা হলো। কিন্তু তত দিনে তো ট্রেন স্টেশন ছেড়ে চলে গেছে! লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণেই রয়ে গেল বিশাল গলদ, যার ফলে কয়েক লাখ শিশু আবার হিসাবের বাইরে থেকে গেল।
সবশেষে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা শ্রীলঙ্কার সভায় একটি ঠান্ডা রিপোর্ট পেশ করে বলল— বাংলাদেশে মারা যাওয়া শিশুদের ৯২ শতাংশই কোনো টিকা পায়নি।
এই ৯২ শতাংশ কোনো নিছক সংখ্যা নয়। এটি আমাদের রাষ্ট্রব্যবস্থা, আমাদের তৎকালীন ও বর্তমান নীতিনির্ধারক, আমাদের অলস বিশেষজ্ঞ সমাজ এবং আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলোর সম্মিলিত গাফিলতির এক ভয়াল দলিল। টাইফয়েডের মোহ, টিকার দরপত্রের তর্ক আর আমলাতান্ত্রিক অহংকারের নিচে চাপা পড়ে মারা গেল ৮৮০টিরও বেশি নিষ্পাপ প্রাণ। ফারজানা ইসলামের মতো শত শত মা আজ তাঁদের ফেসবুক প্রোফাইলে শুধু নামটুকু ধরে বেঁচে আছেন, কারণ তাঁদের কোল খালি করে দিয়েছে একটি রাষ্ট্রচালিত হত্যাকাণ্ড।
আমরা ইতিহাস থেকে কিছুই শিখিনি, শুধু শিখেছি কীভাবে নিজেদের দায় অপরের ঘাড়ে ঠেলে দিয়ে এসি ঘরে বসে ফাইল সই করতে হয়।



পাঠকের মন্তব্য