কিশোর কুমারের যত ‘কিশোরামি’

৬০ পঠিত ... ১১ ঘন্টা ৩৪ মিনিট আগে

কিশোর কুমার! এক জিনিয়াসের নাম। নানান ক্ষেত্রে তাঁর ছিল অবাধ বিচরণ। বাস্তব জীবনও ছিল তাঁর রিল লাইফের মতোই রঙচঙে! চলুন, চট করে জেনে নেওয়া যাক কিশোর কুমারের কিছু দারুণ বাচ্চামো!

কিশোর কুমার! এক বিস্ময়!

১. একাই গাইলেন ডুয়েট গান!

হাফ টিকিট সিনেমার একটি গানে লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গে তাঁর ডুয়েট গাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রেকর্ডিংয়ের দিন লতা মঙ্গেশকর স্টুডিওতে আসতে পারলেন না। সঙ্গীত পরিচালক পড়লেন মহা বিপদে। তখন কিশোর কুমার এগিয়ে এসে বললেন, "নো চিন্তা, ডু ফুর্তি! আমিই দু'জনের পার্ট গেয়ে দিচ্ছি!"

সবাই ভেবেছিল তিনি মজা করছেন। কিন্তু মাইকের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি সত্যিই পুরুষ ও নারী—দুই কণ্ঠেই নিখুঁতভাবে গান গাইলেন। সেই রেকর্ডিংই পরে চূড়ান্ত করা হয়।

২. আধা টাকা, আধা মেকআপ!

টাকা-পয়সার ব্যাপারে কিশোর কুমার ছিলেন একদম পাকা অ্যাকাউন্ট্যান্ট। একবার এক প্রযোজক তাঁকে পুরো পারিশ্রমিক না দিয়ে অর্ধেক টাকা দিয়েই শুটিংয়ে ডাকলেন।

কিশোর কুমার সেটে এলেন ঠিকই। কিন্তু মেকআপম্যানকে ডেকে মুখের শুধু এক পাশ মেকআপ করালেন, অন্য পাশ একেবারে খালি রেখে দিলেন!

পরিচালক অবাক হয়ে কারণ জানতে চাইলে তিনি হেসে বললেন, আরে মশাই, আধা পয়সা দিলে তো আধাই মেকআপ হবে!

৩. Beware of Kishore—সত্যিই সাবধান!

তাঁর বাড়ির মূল গেটে বড় করে লেখা ছিল, Beware of Kishore (কিশোর হইতে সাবধান)।

এক প্রযোজক-পরিচালক সেই সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে সোজা ভেতরে ঢুকে কিশোর কুমারের হাত ধরে জোর করে কাজের কথা বোঝাতে শুরু করলেন।

কিশোর কুমারও কম যান না! কোনো কথা না বলে পরিচালকের হাতে সজোরে এক কামড় বসিয়ে দিলেন।

পরিচালক চিৎকার করে উঠলে তিনি শান্ত গলায় বললেন, বাইরের নোটিশটা চোখে পড়েনি বুঝি?

৪. সাংবাদিকের সঙ্গে পুতুলের সাক্ষাৎকার!

এক নামী সাংবাদিক অনেক কষ্ট করে কিশোর কুমারের সাক্ষাৎকার নিতে তাঁর বাড়িতে পৌঁছালেন।

কিশোর কুমার তাঁকে বসিয়ে রেখে ভেতরে চলে গেলেন। কিছুক্ষণ পর হাতে দস্তানা-পরা একটি পুতুল নিয়ে ফিরে এলেন। তারপর সাংবাদিককে যেন দেখতেই পাননি, এমন ভান করে পুতুলটিকে বলতে লাগলেন,

দ্যাখো দ্যাখো, উনি একজন সাংবাদিক! উনি আমাদের সব গোপন কথা জেনে নিতে এসেছেন। চলো, আমরা পালাই!

সাংবাদিক তো পুরো হতবাক! শেষ পর্যন্ত একপ্রকার দৌড়ে সেখান থেকে পালিয়েই বাঁচলেন।

৫. নিজেই শিখেছিলেন ইয়োডলিং

ছোটবেলা থেকেই গান শোনার ছিল প্রবল নেশা। আমেরিকান গায়কদের গান শুনে গলার স্বর দ্রুত উঁচু-নিচু করার অদ্ভুত কৌশল 'ইয়োডলিং'-এর প্রেমে পড়ে যান তিনি।

কোনো ওস্তাদের কাছে তাঁর প্রথাগত তালিম ছিল না। ঘরে বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অনুশীলন করে নিজেই আয়ত্ত করেছিলেন এই জাদুকরী গায়কি।

জীবনে কোনো প্রথাগত নিয়মই মানেননি তিনি। কিন্তু সুর আর হাসির জাদুতে জয় করেছিলেন কোটি কোটি মানুষের হৃদয়।

এক কথায়, কিশোর কুমার একজনই ছিলেন। তার কোনো বিকল্প তৈরি হওয়া প্রায় অসম্ভব।

 

৬০ পঠিত ... ১১ ঘন্টা ৩৪ মিনিট আগে

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

আইডিয়া

কৌতুক

রম্য

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top