শিক্ষকদের আল্টিমেটাম দিলেন মন্ত্রী, মন্ত্রীকে আল্টিমেটাম দেবে কে?

৯৪ পঠিত ... ১১ ঘন্টা ৪৮ মিনিট আগে

দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী একের পর এক ব্লকবাস্টার ফ্লপ পারফরম্যান্স উপহার দিয়ে যাচ্ছেন। সর্বশেষ এই তুমুল বর্ষার মধ্যে শিক্ষার্থীদের বন্যায় ভেসে পরীক্ষা দিতে বাধ্য করে তিনি রীতিমতো ফ্লপের খাতায় রাজকীয় স্থান করে নিয়েছেন। তবে সিনেমা সুপারফ্লপ হলে প্রযোজক যেমন তড়িঘড়ি করে নতুন হিরো নামিয়ে দেন, ঠিক তেমনি ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্টের গুরুদায়িত্ব নিয়ে সামনে আবির্ভূত হলেন নতুন হিরো শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

তিনি ময়দানে নেমে ঠিক কী করলেন?

কয়েকদিন আগের দৃশ্যপট। ক্যামেরা, ভিডিওম্যান আর বিশাল গণমাধ্যমবহর সাথে নিয়ে প্রতিমন্ত্রী সোজা চলে গেলেন কিশোরগঞ্জের এক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। দেখে বুঝার উপায় নেই স্কুল ভিজিটে গেলেন নাকি শুটিং-এ। স্কুলে ঢুকে বাচ্চাদের কয়েকটা সহজ যোগ-বিয়োগ জিজ্ঞেস করলেন। ফলাফল? বাচ্চারা পারল না। এতে নতুন নতুন বাংলাদেশে আসা নতুন নতুন অবাক হওয়ার মতো অবস্থা হলো প্রতিমন্ত্রীর! তবে অবাক হওয়া পর্ব শেষে তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করলেন। রাগ দেখালেন। দাঁড়িয়ে জোর গলায় কথা বললেন। রাগ হওয়ারই কথা—স্কুলের ছেলেমেয়েরা যোগ-বিয়োগ পারবে না, এটা শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর সহ্য হয় কীভাবে? তার উপর সামনে ক্যামেরা থাকলেতো বিষয়টা একেবারেই সহ্য করা যায় না। শিক্ষকদের দুটো ধমক দেয়া আবশ্যক হয়ে যায়। উনি তাই করলেন।

রাগ সামলাতে না পেরে তিনি শিক্ষকদের সামনে দাঁড়িয়ে এক মোক্ষম আল্টিমেটাম গুঁজে দিলেন; এক মাসের মধ্যে বাচ্চাদের যোগ-বিয়োগ শেখাতে না পারলে সবার চাকরি নট!

ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া মাত্রই একেবারে ভাইরালে পরিণত হলো। ববি হাজ্জাজের পারফর্মেন্স এতো ভালো ছিল যে, সিনেমা রিভিউয়ের সাইট ‘আইএমডিবি’তে তোলা হলে নির্ঘাত দশে দশ রেটিং পেত! এমনকি অ্যাকশন দৃশ্য ও চড়া সংলাপের সুবাদে হলিউড বা বলিউড থেকেও হিরোর রোলে ডাক চলে এলে অবাক হওয়ার কিছু ছিল না।

তবে ক্যামেরার সামনে এমন হাঁকডাক ছাড়ার আগে প্রতিমন্ত্রী মহোদয় সম্ভবত রাষ্ট্র পরিচালনায় নিজের দায়িত্বের পাতাটি উল্টে দেখতে ভুলে গেছেন। কেন শিক্ষকরা শেখাতে পারছেন না—এই ভাবনাটা ভাবতে ভুলে গেছেন। অবশ্য প্রতিমন্ত্রীকে দোষ দিয়ে লাভ নাই, যে ভাবনায় নিজের দোষ সামনে চলে আসে, মানুষ সাধারণত সে ভাবনা ভাবতে চায় না। প্রতিমন্ত্রীও তো একজন মানুষ।

শিক্ষার্থীদের ঠিকমতো পড়ালেখা করানো অবশ্যই শিক্ষকের কাজ। কিন্তু প্রশ্ন হলো, দেশের শিক্ষকদের পর্যাপ্ত স্কিলফুল করে তোলা কিংবা যোগ্যতা সম্পন্ন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার দায়িত্বটা কার? আরও নির্দিষ্ট করে বললে—এখন যেহেতু এহসানুল হক মিলন ও ববি হাজ্জাজ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারণী চেয়ারে আসীন, তাই মানসম্মত শিক্ষক তৈরি ও নিয়োগের পূর্ণ দায়ভার কি তাঁদের কাঁধেই বর্তায় না?

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নেওয়ার পর শিক্ষক ট্রেইনিং নিয়ে নতুন কী ইনিশিয়েটিভ হাতে নিয়েছেন আমাদের দুই মন্ত্রী? নিউজ মিডিয়াকে ক্যামেরার সামনে হাকডাক আর বাইট দেয়ার বাইরে তাদের মাস্টারপ্ল্যানে আর কী কী আছে, তা কি তাঁরা কোনোদিন দেশবাসীকে জানিয়েছেন? আধুনিক বিশ্ব যেখানে প্রতিদিন বদলাচ্ছে, সেখানে নতুন কোনো শিক্ষা মডেল বা যুগোপযোগী শিক্ষাদান মডেল নিয়ে কি মন্ত্রণালয় আদৌ কিছু ভেবেছে, নাকি স্রেফ হুমকি-ধমকিতেই শিক্ষা খাত পার করার ইচ্ছা?

শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী কি একবারও ভেবে দেখেছেন, কেন আজকের শিক্ষকরা এভাবে পড়াতে পারছেন না? দেশের বেশিরভাগ শিক্ষক কেন পেশাগতভাবে স্কিলফুল নন? কেন মেধাবী তরুণরা দিনশেষে আর শিক্ষকতায় আসতে চান না? কেন যুগে যুগে বিপুল বাজেট থাকা সত্ত্বেও শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষকদের আধুনিক ট্রেইনিং দিয়ে গড়ে তুলতে ব্যর্থ হলো?

দিনের পর দিন, বছরের পর বছর ধরে গোটা দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে তলাহীন ঝুড়িতে রূপান্তর করার পর আজ যদি এক স্কিলফুল শিক্ষকের সন্ধান পেতে পুরো দেশজুড়ে আতশি কাচ নিয়ে নামতে হয়, তবে এই অপরাধের দায় কি শিক্ষা মন্ত্রণালয় স্রেফ একটি বাইটের আল্টিমেটাম দিয়ে এড়াতে পারে?

সবশেষে প্রশ্ন একটাই থাকে, ‘এক মাসের মধ্যে আপনার অধীনস্থ শিক্ষকদের মানসম্পন্ন ও দক্ষ করে তুলতে না পারলে আপনার চাকরি নট!’ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই তুঘলকি কাণ্ড আর পারফরম্যান্সের ভিড়ে, শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীকে এই আল্টিমেটামটি দেওয়ার মতো দেশে কি কেউ আছেন?

৯৪ পঠিত ... ১১ ঘন্টা ৪৮ মিনিট আগে

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

আইডিয়া

কৌতুক

রম্য

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top