আপনার ‘ভিক্টোরি’, হ্যাকারের লটারি

৮৮ পঠিত ... ১৬ ঘন্টা ৪ মিনিট আগে

বন্ধু-বান্ধব একসাথে খেতে গিয়েছেন, মজা করে ছবি তোলার সময় দুই আঙুল দিয়ে ‘ভি সাইন’ দেখালেন। কিংবা জীবনের কোনো সফলতা বোঝাতে ভিক্টরি সাইন দেখিয়ে ছবি তোলাটাও জেতার আনন্দের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে আমাদের জীবনে। অথচ এই ছোট্ট আনন্দই হতে পারে আপনার জীবনের সবচেয়ে বড় ক্ষতির কারণ।

আপনি যখন ভিক্টরি সাইন দেখিয়ে, অথবা কোনোভাবে হাতের আঙুল দৃশ্যমান রেখে ছবি তুলে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় দিচ্ছেন, তখনই কম্পিউটারের স্ক্রিনের পেছনে বসে মুচকি হাসছে হ্যাকারদের দল। কেন? সেটা বুঝবেন, যখন আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়ে যাবে! হ্যাঁ, আপনার আপলোড করা হাই-রেজল্যুশনের ছবি থেকে হ্যাকাররা বের করে ফেলতে পারে আপনার ফিঙ্গারপ্রিন্ট। কিছু AI-ভিত্তিক টুল ব্যবহার করে ছবি থেকে আঙুলের ছাপের নিখুঁত নকশা পুনর্গঠন করাও সম্ভব। পাসওয়ার্ড বারবার পরিবর্তন করা যায়, কিন্তু ফিঙ্গারপ্রিন্ট তো আর বদলানো সম্ভব নয়।

এখন অনেকের মনে হতে পারে, এটা কি আসলেই সম্ভব? হ্যাঁ, সম্ভব। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি কেউ হাই-রেজল্যুশনের কোনো ক্যামেরায় খুব কাছ থেকে ভিক্টরি সাইন বা দুই আঙুল তুলে ছবি তোলে, তবে AI প্রযুক্তির সাহায্যে ওই আঙুলের রেখাগুলো আরও স্পষ্ট করা সম্ভব। আর ফিঙ্গারপ্রিন্ট পেয়ে গেলে ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করা বা বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে লগ ইন করার চেষ্টা করা হ্যাকারদের জন্য অনেক সহজ হয়ে যেতে পারে।

তবে আশার কথা হলো, সাধারণ মানুষকে টার্গেট করে এখনও এমন ঘটনা খুব একটা দেখা যায়নি। যেহেতু পুরো প্রক্রিয়াটি জটিল, ব্যয়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ, তাই সাধারণত হাই-ভ্যালু টার্গেট ছাড়া হ্যাকাররা এই কষ্ট করতে চান না। যেমন, ২০১৪ সালে এক হ্যাকার দাবি করেছিলেন যে, তিনি একটি সংবাদ সম্মেলনে তোলা ক্লোজ-আপ ছবি ব্যবহার করে সে সময়ের জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রী উরসুলা ফন ডার লেয়েনের (বর্তমানে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট) ফিঙ্গারপ্রিন্ট ক্লোন করেছিলেন।

তবে সাবধানের মার নেই! দুনিয়ার প্রযুক্তি যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, তাতে এই ধরনের হ্যাকিংয়ের সহজ টুলসও যে ভবিষ্যতে চলে আসবে না, তা কে জানে? তাই নিজের নিরাপত্তার জন্য কিছু বিষয় মেনে চলতে পারেন।

টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন (2FA)

এটিকে সবচেয়ে শক্তিশালী সুরক্ষা ব্যবস্থাগুলোর একটি বলা হয়। আঙুলের ছাপ চুরি হলেও হ্যাকার অ্যাকাউন্টে ঢুকতে পারবে না, কারণ লগইনের সময় আপনার ফোন বা ইমেইলে একটি OTP বা সিকিউরিটি কোড আসবে।

অথেন্টিকেটর অ্যাপস

গুগল বা মাইক্রোসফটের অথেন্টিকেটর অ্যাপগুলো টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশনের দ্বিতীয় ধাপ হিসেবে কাজ করে। এগুলো প্রতি ৩০ সেকেন্ড পরপর নতুন কোড তৈরি করে, যা হ্যাক করা অত্যন্ত কঠিন।

মাল্টি-ফ্যাক্টর বায়োমেট্রিকস

শুধু ফিঙ্গারপ্রিন্টের ওপর নির্ভর না করে একইসাথে ফেস আনলক বা ভয়েস রিকগনিশন ব্যবহার করা যেতে পারে।

হাইব্রিড সিকিউরিটি বা পাসকি (Passkey)

এটি ফিঙ্গারপ্রিন্টের সাথে ডিভাইসের নিজস্ব এনক্রিপ্টেড ক্রিপ্টোগ্রাফিক টোকেন মিলিয়ে কাজ করে। ফলে শুধু আঙুলের ছাপ ক্লোন করে অন্য কোনো ডিভাইস থেকে অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করা সম্ভব হয় না।

পোজ দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা

ক্যামেরার খুব কাছাকাছি হাত এনে ‘পিস সাইন’, ‘ভিক্টরি সাইন’, ‘লাইক সাইন’ বা হাতের তালু স্পষ্টভাবে দেখিয়ে ছবি তোলা এড়িয়ে চলা ভালো।

ছবির রেজল্যুশন নিয়ন্ত্রণ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি মূল Raw File বা অতিরিক্ত হাই-রেজল্যুশনের ছবি পোস্ট না করে সাধারণ মানের ছবি পোস্ট করা নিরাপদ।

সোশ্যাল মিডিয়ার অটোমেটিক কমপ্রেশন সুবিধা

ফেসবুক বা হোয়াটসঅ্যাপের মতো প্ল্যাটফর্মগুলো ছবি আপলোডের সময় এমনিতেই কোয়ালিটি বা রেজল্যুশন কিছুটা কমিয়ে দেয়, যা হ্যাকারদের জন্য আঙুলের ছাপ ক্লোন করা আরও কঠিন করে তোলে। তাই সম্ভব হলে কম রেজল্যুশনের ছবি আপলোড করাই নিরাপদ।

তথ্যসূত্র: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড

৮৮ পঠিত ... ১৬ ঘন্টা ৪ মিনিট আগে

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

আইডিয়া

কৌতুক

রম্য

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top