ক্রিস্টিনা হ্যামক কোচ: আড়াই লাখ মাইলের নিঝুম দুপুর

২১৫ পঠিত ... ২২ ঘন্টা ২৪ মিনিট আগে

কাহিনী শুরু হয় আমেরিকার মিশিগানে, যেখানে হাড়কাঁপানো শীতে এক মাইয়া বড় হইতাছে। নাম তার ক্রিস্টিনা। ছোটবেলায় খামারে গরু-বাছুর চরাইতেন, আর রাতে আকাশের দিকে তাকাইয়া ভাবতেন—এই যে রুপালি থালার মতো চাঁদটা ঝুলে আছে, ওইখানে যাওয়ার রাস্তাটা কই?

পড়ালেখার পাঠ যখন চুকাইলেন, তখন হাতে তিনটা ডিগ্রি। ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং আর ফিজিক্স নিয়া এমন কামড় দিলেন যে নাসা ওনারে টাইনা নিয়া গেল। কিন্তু ওনার মন তো ঘরে টিকার না। উনি ছুটলেন অ্যান্টার্কটিকার ওই বরফের চাদরে। যেখানে মাইলের পর মাইল মানুষ নাই, খালি সাদা বরফ আর হাড়কাঁপানো বাতাস। ওইখানে একাকীত্বের লগে ওনার যে দোস্তি হইলো, হেইডাই ওনারে লোহার মতো শক্ত বানাইয়া দিলো।

এরপর আসলো আসল ডাক—২০১৩ সালে নাসার নভোচারী হইলেন। কিন্তু ইতিহাস ওনারে খুঁজতেছিল অন্য কারণে। ২০১৯ সালে যখন সয়ুজ রকেটে কইরা মহাকাশ স্টেশনে পা রাখলেন, তখন দুনিয়া দেখলো এক নতুন রূপ। টানা ৩২৮ দিন! ভাবা যায়? ঘরবাড়ি নাই, বিছানা নাই, কেবল জিরো গ্র্যাভিটিতে ভাইসা থাকা। একদিন ওনার বান্ধবী জেসিকা মেয়াররে কইলেন; চলেন, একটু বাইরে থেইকা হাঁইটা আসি।

ইতিহাসে ওইটা হইয়া থাকলো প্রথম অল-উইমেন স্পেসওয়াক। মানুষ তখন বুঝলো, আসমানটা কেবল ব্যাটাদের একচেটিয়া না।

কিন্তু কাহিনী এইখানে শেষ না। আসল টুইস্ট আসলো ২০২৬-এ। আর্টেমিস ২ মিশন।

পয়লা এপ্রিল, সন্ধ্যাবেলা। কেনেডি স্পেস সেন্টারে যখন SLS রকেটটা বুক ফাটানো গর্জন দিয়া ধোঁয়া ছাড়লো, ক্রিস্টিনা তখন ওই ওরিয়ন ক্যাপসুলের ভেতর বসা। ওনার সাথে কমান্ডার রেইড আর ভিক্টররা আছে। রকেটটা যখন বায়ুমণ্ডল ফুঁইড়া মহাকাশে ঢুকলো, তখন ক্রিস্টিনা হইয়া গেলেন ইতিহাসের সেই প্রথম নারী, যিনি পৃথিবীর মায়া ছাইড়া গভীর মহাকাশে বা ডিপ স্পেস-এ প্রথম পা রাখলেন।

আজ ছয়ই এপ্রিল। ক্রিস্টিনা এখন পৃথিবী থেইকা প্রায় আড়াই লাখ মাইল দূরে। জানালার কাঁচ দিয়া উনি এখন চাঁদের ওই অন্ধকার দিকটা দেখতাছেন, যারে আমরা ফার সাইড বলি। আমাদের পৃথিবীটা ওইখান থেইকা একটা ছোট মার্বেলের মতো লাগে। ক্রিস্টিনা হয়তো ওরিয়নের সিটে বইসা ভাবতাছেন,বাড়িতে বব আছে, ওনার কুকুর এলবিডি আছে, আর আমি আছি মহাকালের এই বিশাল নীরবতার মাঝে।

উনি কিন্তু চাঁদে নামবেন না, কেবল চাঁদের চারপাশ দিয়া একটা চক্কর দিয়া চইলা আসবেন। এইটা হইলো মহড়া—যাতে পরের বার মানুষ যখন চাঁদে নামবে, তখন যেন কোনো ঝামেলা না হয়। ক্রিস্টিনা কোচ এখন সেই রাস্তার মশালবাহী। অন্ধকার মহাকাশে ওনার স্পেসক্রাফটটা যখন আগাইয়া চইলাছে, তখন আসলে একলা ক্রিস্টিনা আগাইতেছেন না, ওনার লগে আগাইয়া চলতাছে দুনিয়ার তামাম নারীর স্বপ্ন।

গল্পটা খুব সিম্পল। স্বপ্ন যদি আকাশ ছোঁয়ার হয়, তবে চাঁদটা হাতের নাগালে আসতে বাধ্য। ক্রিস্টিনা কোচ সেই গল্পেরই একটা জীবন্ত কমা-দাঁড়ি-বিস্ময়চিহ্ন।

২১৫ পঠিত ... ২২ ঘন্টা ২৪ মিনিট আগে

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

আইডিয়া

কৌতুক

রম্য

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top