জর্জ হ্যারিসন:মানচিত্র না চিনেও যিনি চিনেছিলেন আমাদের হৃদস্পন্দন

পঠিত ... ২ ঘন্টা ২৮ মিনিট আগে

প্রিয়  বিটল বন্ধু জর্জ,

শুভ জন্মদিন আপনাকে! ওপারে নিশ্চয়ই রবি শংকরজির সাথে কোনো এক মায়াবী সুরের মহড়ায় মগ্ন আছেন?

সেই ১৯৭১-এর কথা ভাবলে আজও অবাক লাগে। আপনি ছিলেন সেই রকস্টার, যার কাছে নিজের নতুন অ্যালবামের প্রমোশনের চেয়ে এক বন্ধুর চোখের জল বেশি দামী ছিল। যখন পুরো পৃথিবী রাজনীতির দাবার চালে মত্ত, তখন আপনি স্রেফ এক গাদা গিটার আর সিতার নিয়ে ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে দাঁড়িয়ে গেলেন;যেন ওটাই ছিল দুনিয়ার সবথেকে জরুরি কাজ! যেখানে ঝানু কূটনীতিকরা খাতা-কলম নিয়ে হাজারটা হিসাব কষছিল, সেখানে আপনি আপনার গিটারের তারে আমাদের স্বাধীনতার সুর বেঁধে ফেললেন। আপনি ছিলেন সেই পাগল, যে কি না স্রেফ ভালোবাসার টানে একলাফে সাত সমুদ্র পাড়ি দিয়ে এক অজানা দেশের হাহাকার নিজের কণ্ঠে তুলে নিয়েছিলেন।

জর্জ, আপনি আমাদের ভাষা জানতেন না, আমাদের মানচিত্রের অলিগলিও হয়তো আপনার চেনা ছিল না। কিন্তু যখন আপনি গেয়েছিলেন, My friend came to me with sadness in his eyes, তখন আমরা বুঝতে পেরেছিলাম, মানবতার কোনো বর্ডার হয় না। আপনার সেই গিটারের প্রতিটি কর্ড আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে একেকটি রাইফেলের চেয়েও বেশি শক্তি দিয়েছিল। অন্ধকার সেই দিনগুলোতে আপনার গান ছিল আমাদের জন্য এক পশলা ভোরের আলো।

আপনার মতো এমন হিসেবি না হওয়া মানুষগুলো ছিল বলেই হয়তো পৃথিবীটা আজও কিছুটা বাসযোগ্য। ওপারে ভালো থাকবেন আমাদের প্রিয় পরদেশী বন্ধু। আপনার সুর আমাদের লাল-সবুজ পতাকার ভাঁজে চিরকাল অম্লান হয়ে থাকবে।

পঠিত ... ২ ঘন্টা ২৮ মিনিট আগে

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

আইডিয়া

কৌতুক

রম্য

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top