শিক্ষামন্ত্রীর পুলিশি হেনস্থার লাইসেন্স

২৮২ পঠিত ... ১৬:০৯, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬

লেখকঃ  আরজু আহমেদ

অপ্রয়োজনীয় পুলিশি হেনস্থা কখনওই কল্যাণকর না। রাষ্ট্রকে পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত করা হচ্ছে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার ফার্স্ট এবং ফোরমোস্ট স্টেপ।

আমার মনে আছে, শাপলার পরে আমি সন্ধ্যার পরে এইরকম পুলিশি সার্চিংয়ের শিকার হয়েছি। একদম অকারণে, স্রেফ মুখে উঠতি দাড়ি আর গায়ে পাঞ্জাবি থাকার কারণে। সেই স্মৃতি ভালো না।

শিক্ষামন্ত্রী বলেছিলেন, ‘রাতে কিশোরদের রাস্তায় অযাচিত ঘোরাঘুরি বন্ধ করতে হবে। এখন রাতে রাস্তায় ঘুরলে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করবে- কেন ঘুরতেছে, কোথায় গিয়েছিল, কেন গিয়েছিল।

এতে যদি কন্সটিটিউশনাল ভায়োলেশন (সংবিধান লঙ্ঘন) হয়, তাহলে সেটি আমরা পরে দেখব। এটি হতেই হবে। এর কোনো বিকল্প নাই।

সমস্যা হচ্ছে, মন্ত্রী সরাসরি পুলিশকে সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘনকে ফ্রি পাস দিচ্ছেন। বলছেন পরে দেখবেন। এই মাইন্ডসেট আমাদের পুলিশ বাহিনী এবং নাগরিকের অধিকারকে এতদিন ধূলিসাৎ করেছে।

মোরাল রাষ্ট্র করতে চাইলে বরং শরিয়া রাষ্ট্র করুন মাননীয় বিএনপি সরকার। সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষায় পণপ্রাণ বিএনপি নাগরিক অধিকারের প্রশ্নে সংবিধানকে তোয়াক্কা করবে না বলে মন্ত্রীরা প্রকারান্তরে ঘোষণা দিচ্ছেন!

মডার্ন স্টেটে মানুষের অধিকার লঙ্ঘন করে মানুষকে অপরাধীর মত উপরে হাত তুলে দাঁড় করিয়ে রেখে মানিব্যাগ, পকেট, প্যান্ট চেক করার রাষ্ট্রে পরিণত করবেন না।

অবশ্য সংবিধান পরে দেখে, আইন ভেঙে যাচ্ছেতাই করার মধ্য দিয়ে আবারও পুলিশি স্টেট কায়েমের পরিকল্পনা থাকলে, ট্রায়াল রান হিসেবে তা করতেই পারেন।

হাসিনাও মাদক দমনের নামে ক্রসফায়ারের মত পপুলিস্ট কাজের মধ্য দিয়ে অনেক কিছুর ন্যায্যতা উৎপাদনের চেষ্টা করেছে।

আমরা কিশোর গ্যাংয়ের বিনাশ চাই, অপরাধের বিনাশ চাই, কিন্তু আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে। মানুষের অধিকার অক্ষুণ্ণ রেখে।

আজকে পকেট চেক করে ছেড়ে দিচ্ছেন, কাল বড়ি ঢুকিয়ে ব্যবসা করার প্র‍্যাক্টিস শুরু হবে। অতীতে হয়েছে। বাংলাদেশকে আর কখনও পুলিশি রাষ্ট্রে পরিণত হতে দেওয়া যাবে না।

এভাবে চেকিং তো নাগরিকের জন্য অসম্মানজনক এবং হেনস্থাই। আমরা কি হেনস্থার রাষ্ট্র গড়ব?



২৮২ পঠিত ... ১৬:০৯, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

আইডিয়া

কৌতুক

রম্য

স্যাটায়ার


Top