পাঞ্চ: একাকীত্ব আর ভালোবাসার এক অভূতপূর্ব দৃষ্টান্ত

পঠিত ... ২ ঘন্টা ৫০ মিনিট আগে

২৬ জুলাই, ২০২৫

জাপানের ইচিকাওয়া সিটি চিড়িয়াখানায় জন্ম নেয় জাপানিজ মাকাক প্রজাতির বানর। নাম পাঞ্চি-কুন, ভালোবেসে যাকে পাঞ্চ নামে ডাকা হয়। জন্মের সময় এই নিষ্পাপ প্রাণটির ওজন ছিল মাত্র ৫০০ গ্রাম, অর্থাৎ প্রায় আধলিটার পানির বোতলের সমান। 

সাধারণত জন্মের পরই এ জাতীয় বানর মা তার বাচ্চাকে বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে। বলা যায় প্রথম কয়েক সপ্তাহ প্রায় সারাক্ষণই বাচ্চা মায়ের পেট/বুক আঁকড়ে ধরে থাকে, পুরোপুরি বুকের দুধের উপর নির্ভরশীল হয়। নিরাপত্তা, পরিচর্যা এমনিতে মানুষের মতোই। প্রথম সামাজিক শিক্ষাটাও বাচ্চা এভাবেই মায়ের কাছে আস্তে আস্তে শেখে। কিন্তু পাঞ্চি-কুনের সে সৌভাগ্য হয়নি। প্রথমবারের মাতৃত্ব, হরমোনাল পরিবর্তন কিংবা স্তন্যপায়ী প্রাণীদের দুর্বল বাচ্চা সরিয়ে দেয়ার মানসিকতার জন্য কিনা কে জানে, জন্মের পর থেকেই তার মা তাকে পরিত্যাগ করে। চিড়িয়াখানার অন্য বানরগুলোও তাকে মেনে নেয়নি। চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ এই ছোট্টো প্রাণটি বাঁচাতে তখন এক অভিনব পদ্ধতি বের করে। তারা বুঝতে পারে এই দুর্বল বাচ্চাটাকে বাঁচাতে শুধু দুধ খাওয়ানোই যথেষ্ট নয়। পাঞ্চি-কুনকে  তারা একটা কমলা রঙের ওরাংওটাং পুতুল এনে দেয়।

বেঁচে থাকার পথ খুঁজে নেয়া বোধহয় প্রকৃতি প্রদত্তই কোনো বিশেষ ক্ষমতা। ছোট্ট পাঞ্চের অবচেতন মন‌ও বুঝে গিয়েছে বেঁচে থাকার জন্য তাকে কী করতে হবে। 

নরম ওরাংওটাং পুতুলটা তখন হয়ে গেল ওর প্রতি মুহূর্তের সঙ্গী। সে খেলার সময়, ঘুমোনোর সময় এমনকি ভয় পেলেও পুতুলটা জড়িয়ে থাকে, যেন এটাই ওর মা।

ছ’মাস বয়সী পাঞ্চের একাকীত্ব এবং ওর পুতুল জড়িয়ে ধরার গল্পটি গত ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ ইচিকাওয়া সিটি জু কর্তৃপক্ষ তাদের অফিশিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া এক্স-এ শেয়ার করে।  ভিডিও তে দেখা যায় কীভাবে একা একটা বানর ছানা ঘুমানোর সময় জড়িয়ে ধরছে একটা পুতুলকে, পিঠে করে বয়ে নিয়ে যাচ্ছে, ভয় পেলে পুতুলটির গায়ে মুখ গুঁজে দিচ্ছে, প্রাণহীন খেলনার মাঝে খুঁজে নিচ্ছে নিজের আশ্রয়, ছদ্ম মাকে।

ব্যস, মুহুর্তেই তা সমগ্র সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। জাপানে তখন #がんばれパ (HangInTherePunch) হ্যাশট্যাগটি ট্রেন্ডিং হতে শুরু করে। জাপানের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বের প্রাণীপ্রেমীদের মাঝে এই হৃদয়বিদারক দৃশ্য ভীষণ গভীর আবেগের সঞ্চার করে। পাঞ্চ হয়ে ওঠে মানুষ আর প্রাণীজগতের সেই আদিম বন্ধনের এক নতুন অধ্যায়। 

তবে কথায় আছে শেষ ভালো যার তার নাকি সব ভালো। আশার কথা হচ্ছে শুধু পাঞ্চকে দেখতেই এখন ঐ চিড়িয়াখানায় মানুষের পড়ছে দীর্ঘ লাইন। শুধু তা-ই নয়, সে বানর দলের মধ্যেও আস্তে আস্তে নিজেকে মানিয়ে নিতে শুরু করেছে। কিছু সাম্প্রতিক ছবি, ভিডিওতে দেখা গেছে পুতুল ছাড়াই অন্য বানরদের সাথে সে খেলছে। একটু ভালোবাসার জন্য ব্যাকুল ছোট্ট পাঞ্চকে আজ সমগ্র বিশ্ব উজাড় করে ভালোবাসা দিচ্ছে। পাঞ্চের এই ঘটনা আমাদের আবার‌ও মনে করিয়ে দেয় জীবনের সকল পরিস্থিতিতে টিকে থাকাটাই হয়তো আসল চ্যালেঞ্জ।

পঠিত ... ২ ঘন্টা ৫০ মিনিট আগে

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

আইডিয়া

কৌতুক

রম্য

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top