লেখা: বোস শান্তনু
ইন্টেরিম যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের যে বাণিজ্য চুক্তিটা করছে, সেটা নিয়ে স্টাডি করছি ডিটেইলস। ধরে ধরে বিষয়গুলা আলাপ করব সময় পাইলে। শুধু এতদূর বলে রাখি, ন্যুনতম আত্মসম্মান থাকলে এই জিনিসে কেউ রাজি হতে পারত না। মানে ঘরের চাকর-বাকরের লগেও মানুষ এর চেয়ে বেটার চুক্তি করে।
জাস্ট দুইটা এগজাম্পল দিই।
১. আমাগো দেশে পোল্ট্রি বিজনেস যারা করে, তারা এবার ঘরে চলে যাইতে পারেন।
যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি করছে তাগো থেকে একদম জ্যান্ত মুরগি ডিম, ফ্রোজেন মিট সব কিনতে হবে। শুধু তাই না, তাদের কোনো রাজ্যে বার্ড ফ্লু দেখা দিলে সরকার ওই রাজ্য থেকে মুরগি কেনা বন্ধ করে দিবে? সেটাও করতে পারবে না। অনলি ঐ রাজ্যের বার্ড ফ্লু হওয়ার ১০ কিলোমিটার এরিয়া পর্যন্ত পোল্ট্রি কেনা যাবে না।
২. সরকার ধরেন সিদ্ধান্ত নিল, নিজের দেশের মুরগি খামারিদের বাঁচাতে তাগো ভর্তুকি দিবে। না—মার্কিনীরা বলছে, বাংলাদেশ নিজের দেশের ব্যবসা বাচাঁতে গিয়ে তাগো প্রোডাক্টের সেইল কমায়ে দিতে পারে এমন কোনো স্টেপ সরকার নিতে পারবে না। যেমন, মার্কিন প্রোডাক্টের উপর কোনো এক্সট্রা ট্যাক্স বসাইতে পারবে না, আবার দেশীয় কোম্পানিরে কোনো ভর্তুকিও দিতে পারবে না।
সোজা বাংলায় মার্কিনীদের প্রোডাক্টকে দেশীয় প্রোডাক্টের মতই ট্রিট করতে হবে।
৩. দেশীয় কারখানা+দেশীয় পণ্যকে কোনোভাবেই ভর্তুকি দেওয়া যাবে না। এবং যুক্তরাষ্ট্র চাইলেই বাংলাদেশকে তার ভূখণ্ডে থাকা কোনো উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে দেওয়া সব ধরনের অ-বাণিজ্যিক সহায়তা বা ভর্তুকির তথ্য দিতে হবে।
এছাড়া, এসব ভর্তুকি বা সহায়তার কারণে যদি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে, তাহলে বাংলাদেশকে তা সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
যে ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ এসব চুক্তি করেছে, ঘোরতর চাকরামির মাইন্ড না থাকলে এই ধরনের নির্লজ্জ চুক্তি করতেও লজ্জা লাগত।



পাঠকের মন্তব্য