এখন ক্যাথারসিসের সময়; চলুন একসঙ্গে আগামীযাত্রা করি

২৬ পঠিত ... ১০ ঘন্টা ৩২ মিনিট আগে

আগামী পাঁচবছর বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে গড়ে তোলার সময়। নতুন সরকার ও বিরোধী দলকে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে অনুপ্রাণিত করাই হবে নাগরিকদের দায়িত্ব।

বিএনপি  সরকারের কাজ খুব বেশি নয়; সরকারি দলের চাঁদাবাজ, দখলদার, মাস্তান, নারী নির্যাতকদের কঠোরভাবে দমন, সরকারি দল হতে চাওয়া পুলিশ ও প্রশাসনের লোকদের ঘুষ, দুর্নীতি, নাগরিকদের নিপীড়নের প্রচেষ্টা রুখে দিতে হবে। সরকারি প্রকল্পের টাকা লুন্ঠন করে পাচার করতে চেষ্টা করা সরকারঘন ফড়িয়াদের প্রতিহত করতে হবে। জনগণের আসলে ভিক্ষার প্রয়োজন নেই। উদয়াস্ত পরিশ্রম করে জীবন নির্বাহ করতে ও দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে সক্ষম তারা। কেবল দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির সিন্ডিকেট নামের কুকুর সামলানোর দায়িত্ব সরকারের।

বাংলাদেশের তরুণ সমাজের যথেষ্ট মেধা ও যোগ্যতা রয়েছে। কেবল এর মূল্যায়ন করতে হবে। প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় করে সরকার দলীয় রক্ত পরীক্ষা করে অযোগ্য ও নিম্নমেধার লোক নিয়োগের যে ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে; তাকে বাতিল করে কেবল মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। অর্থাৎ বিএনপি কেবল নিজের ঘর পরিষ্কার রাখলে দেশ আপনা আপনি পরিচ্ছন্ন হয়ে যাবে।

জামায়াত হ্যাভস নটদের আস্থাভাজন রাজনৈতিক দল হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলেছে। জার্মানির রাজনৈতিক দল খ্রিস্টিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন (সিডিইউ) একটি ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল হয়েও যেভাবে মধ্যপন্থী হিসেবে কল্যাণরাষ্ট্র গড়ার কাজে অংশ নিয়েছে; জামায়াত যদি তা করতে পারে তবে তা দলটির ভবিষ্যত স্থিতিশীল করবে। জার্মানিতে বিএনপির মতো রাজনৈতিক দল সামাজিক গণতন্ত্রী দল (এসপিডি) যখন ক্ষমতায় থেকেছে  তখন সিডিইউ তাকে দেশ চালাতে সাহায্য করেছে। জামায়াত যে আসনগুলোতে জয়লাভ করেছে; ঐ আসনগুলোকে কল্যাণ জনপদ হিসেবে গড়ে তুললে; তা দেশের সামষ্টিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জুলাই বিপ্লবীদের রাজনৈতিক দল এনসিপি বাংলাদেশের ভবিষ্যত। পঞ্চাশ বছরের যে পুরোনো রাজনৈতিক ব্যবস্থা দেশকে কল্যাণরাষ্ট্র হতে দেয়নি; সেই অচলায়তন থেকে সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থাকে বের করে আনার নিয়ত সংগ্রামশীলতাই এনসিপির আগামী পাঁচ বছরের কাজ। তারা এরি মাঝে ছায়া মন্ত্রীসভা গঠনের আইডিয়া নিয়ে এসেছে; এই শ্যাডো ক্যাবিনেট বিএনপি সরকারের প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের কার্যাবলীর জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে পারে। সারা দেশে এনসিপির কার্যক্রম বিস্তৃত করে নাগরিকদের তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তুলতে ও নাগরিকবান্ধব রাষ্ট্রগঠনে বিএনপি সরকারকে পরামর্শ ও চাপ দিয়ে নতুন রাজনৈতিক ধারাটিকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে। আগামীর বাংলাদেশ জেনজি ও জেন আলফার বাংলাদেশ; সুতরাং এদেশকে নিজেদের মতো করে গড়ে তোলা তাদের দায়িত্ব। এনসিপির কাজ ঠিক এই জায়গাটিতে।

সোশ্যাল মিডিয়া ও নাগরিক সাংবাদিকতাই হবে গণতন্ত্রের প্রাণ। গুজব ও মিথ্যা খবর ছড়ানোর ছেলেমানুষী বর্জন করে দায়িত্বশীল খবর পরিবেশন করতে হবে নাগরিক সাংবাদিকদের। পুরোনো মিডিয়া ব্যস্ত থাকবে আদিম ধারার তেলাঞ্জলি দিতে আর ঋণখেলাপী ব্যবসায়ীদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পাহারা দেবার সারমেয় হিসেবে। স্থানীয় গদি মিডিয়াগুলো ভারতীয় ছায়া উপনিবেশ ফিরিয়ে আনতে স্ট্রিপটিজ করবে। কালচারাল ফ্যাসিস্টেরা বেঙ্গল রেনেসাঁর বহু ব্যবহারে জীর্ণ শিল্প-কথার খই ভেজে আওয়ামী লীগ ও বামপন্থীদের মৃতদেহ নিয়ে তাকে লখিন্দরের লাশের মতো ভেলায় ভাসিয়ে বিরহিনী বেহুলার মতো কেঁদে বুক ভাসাবে। কিন্তু বেহুলা লখিন্দরের রুপকথার মতো স্বর্গে ঈশ্বর লখিন্দরকে আবার জ্যান্ত করে তুলবেন না। কালচারাল ফ্যাসিস্টদের বৈধব্য তাদের আমৃত্যু সঙ্গী হলো। বরং আমরা আশা করবো বিএনপি সরকার দিল্লির সমমর্যাদার ভিত্তিতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক গড়ে তোলার উদ্যোগে সাড়া দিয়ে ভিসা সহজ করে কালচারাল বেহুলাদের ভারত ভ্রমণ ও লখিন্দরের সেদেশে চিকিতসার ব্যবস্থা করবে। কলকাতার  বেঙ্গল রেনেসাঁর ক্ষয়িষ্ণু জমিদার বাড়িতে ধুলোমলিন ঝাড়বাতির নীচে বসে কালচারাল ফ্যাসিস্টেরা দুটি গান ও কবিতা শুনে এলে; খানিকটা প্রাণপ্রবাহ জোগাড় করতে পারবে। প্রতিদিন মাঝরাতে তাদের ভারত বিরহের কান্না আর ভোরবেলা চেতনার খোয়াড়ি শুনে বড্ড মায়া হয় তাদের জন্য। অখণ্ড ভারতের স্বপ্ন ভেঙ্গে যাওয়া সমকালের স্বাধীনতা বিরোধী কালচারাল ফ্যাসিস্টদের জন্য সমবেদনা ও সমানূভূতির মানবিক বাংলাদেশ দেখতে চাই আমরা। তাদের শতবর্ষের বিভাজন ও বিদ্বেষের রাজনীতির বিপরীতে ঐক্য ও বন্ধুত্বের রাজনৈতিক সংস্কৃতিই বাংলাদেশের অভিলক্ষ্য।

স্বাধীন বাংলাদেশের ৫৫ বছরের অভিজ্ঞতায় আমরা দেখেছি, যখন যে দল ক্ষমতায় আসে; ঐদলের কিছু লোকের রোয়াব ও দেমাগ হয়। অতিদ্রুত চর্বি ও পশ্চাদদেশ স্ফিত হয়ে ক্ষ্যাপা সারমেয়র মতো নাগরিকদের কামড় দিয়ে বেড়ায় তারা। সবাইকে আরাফাত, নওফেল, পলক, বেনজির, আজিজ, হারুন, বিপ্লব কুমার, সুভাষ সিং ইত্যাদি আওয়ামী রোয়াব দেখানো লোকের পরিণতি থেকে অবশ্যই শিক্ষা নিতে হবে। জাজ্জ্বল্যমান ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নিয়ে বদমায়েশী করে তারপর জনরোষের মুখে জনপদ ছাড়া হয়ে মুখ শুকনো পাংশুদাদা হয়ে ঘোরার নিয়তি বরণের চেয়ে; ফালতু ইগো, গ্রাম্য রোয়াব, খেলনা শহুরে এলিটিজম বর্জন করে স্বাভাবিক জীবন যাপন করা শ্রেয়। সুখে থাকতে ভুতে কিলানো টাইপের ইঁদুর কপালে হতে নেই।

ফ্যাসিজমের বিরুদ্ধে দেড় দশকের লড়াই, গুম-খুন-ক্রসফায়ার-আয়নাঘর-জুলাইয়ের রক্তের সাগর পাড়ি দিয়ে; অন্তর্বতীকালীন সরকারের আমলে নরভোজি আওয়ামী লীগ, দিশেহারা ভারতীয় মিডিয়া, অনুশোচনাহীন কালচারাল ফ্যাসিস্টদের উন্মত্ত পরাজিতের কান্নার উত্তুঙ্গ সব সময় শেষে; বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ট্রেন আবার একটি নির্বাচনের মাঝ দিয়ে রেললাইনে উঠেছে। এখন ক্যাথারসিসের সময়; চলুন একসঙ্গে আগামীযাত্রা করি। মন্ত্রী নয়, সাংসদ নয়, আমলা নয়, ব্যবসায়ী নয়, সেলিব্রেটি নয়; এদেশের মালিক ধুলোমলিন চা-খানার এরিস্টোটলেরা; সে তো আর প্রজা নয়; মর্যাদাসম্পন্ন নাগরিক। সুতরাং নাগরিককে কেন্দ্রে রেখে বাংলাদেশ আবর্তিত হোক; সভ্য ও কল্যাণরাষ্ট্রে ঠিক যেমনটা হয়।

২৬ পঠিত ... ১০ ঘন্টা ৩২ মিনিট আগে

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

আইডিয়া

কৌতুক

রম্য

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top