অন্ধকারের সারেং

৫১ পঠিত ... ১০ ঘন্টা ২৫ মিনিট আগে

লেখা: ইশতিয়াক আহমেদ শোভন 

আইয়ুব খান সাহেব বোধহয় ভাবেননি যে, একটা মানুষকে লোহার গারদের পেছনে আটকে রাখলে সে সেখানে বসে 'জৈষ্ঠ্য মাসের আম-কাঁঠালের' গল্প না লিখে 'সংশপ্তক' আর 'সারেং বৌ' লিখে ফেলবে। আসলে শহীদুল্লাহ কায়সার ছিলেন সেই বিরল প্রজাতির 'ফেনীর হোলা', যাকে অন্ধকার কুঠুরিতে আটকে রাখলে তিনি সেখানে মোমবাতি না জ্বালিয়ে কলম দিয়ে আগ্নেয়গিরি বানিয়ে ফেলতেন। আমাদের আজকের দিনে কেউ যদি চব্বিশ ঘণ্টার জন্য ইন্টারনেট ছাড়া থাকে, তবে সে ডিপ্রেশনে চলে যায়, অথচ কায়সার সাহেব জেলের নিরিবিলি সময়টাকে ব্যবহার করেছিলেন বাংলার শ্রেষ্ঠ সাহিত্য রচনায়।

তিনি যখন বলতেন, 'আইয়ুব খান জেলে পাঠিয়েছিলেন, তাই আমি সাহিত্যিক হতে পেরেছি,' তখন সেটা কেবল রসিকতা ছিল না, ওটা ছিল এক চড়ম বুদ্ধিবৃত্তিক চড়। ভাবুন তো, রাষ্ট্রযন্ত্রের ট্যাক্সের টাকায় জেলের খাবার খেয়ে তিনি রাষ্ট্রযন্ত্রেরই ভিত নড়িয়ে দেওয়ার মতো কালজয়ী সব চরিত্র তৈরি করছেন! জেলের সিপাহিরা হয়তো ভাবত কয়েদি নম্বর অমুক লিখছেন, কিন্তু কায়সার সাহেব তখন আসলে এক একটি অক্ষরের সাহায্যে এক একটা আল-বদর বা শোষকের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকছিলেন। ঘাতকরা তাকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিলেও তার লেখা 'ফেলু' বা 'নবিতুন'দের মারতে পারল না। ঘাতকদের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা এটাই ছিল যে, তারা একজন মানুষের রক্ত বইয়ে দিয়ে আসলে তাকে অমরত্বের লাইসেন্স দিয়ে দিল। শহীদুল্লাহ কায়সার প্রমাণ করে গেছেন যে, ফেনীর মানুষ কেবল চটপটে হয় না, তারা চাইলে কলমের এক খোঁচায় স্বৈরশাসকের ঘুমও হারাম করে দিতে পারে। তার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন এটাই: যারা তাকে শেষ করে দিতে চেয়েছিল, তারা ইতিহাসের ডাস্টবিনে জায়গা পেয়েছে, আর তিনি চিরকালই আমাদের পাঠ্যবই আর হৃদয়ের 'সংশপ্তক' হয়ে রয়ে গেলেন।

৫১ পঠিত ... ১০ ঘন্টা ২৫ মিনিট আগে

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

আইডিয়া

কৌতুক

রম্য

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top