৮ আগস্টের পর প্রায় দেড় বছরের বেশি সময় ক্ষমতায় ছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এই সরকারের সময়ে অনেককেই ইউনুসেক্সুয়াল হয়ে যেতে দেখা গেছে। কিন্তু ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর রহস্যজনকভাবে আবারও অনেকে সেক্সুয়াল অরিয়েন্টেশন বদলে যাচ্ছে। ইউনুসেক্সুইয়াল থেকে অনেকে হয়ে উঠছেন তারেকুসেক্সুয়াল।
এই বিষয়ে কথা বলতে চাইছে এক নব্য তারেকুসেক্সুয়াল বলেন, দেখেন, সেক্সুয়াল ওরিয়েন্টেশন বদল করা নিয়ে রাজনীতি করবেন না। এমনটা হতেই পারে। আমি লাস্ট কিছুদিন যাবত বুকের ভেতর তারেক নামের একজনকে অনুভব করছিলাম। মনে হচ্ছিল, এই তারেকই যেন আমার হাজার বছরের চেনা। সেজন্য নিজেকে তারেকুসুক্সুয়াল বানিয়ে নিয়েছি! এতে সমস্যার কিছু দেখি না। তাছাড়া একটা কথা মনে রাখবেন, বৃষ্টি যেদিকে সেক্সুয়ালিটিও সেদিকে! আগে বৃষ্টি ইউনুসের দিকে ছিল তাই আমি ছিলেম ইউনুসেক্সুয়াল, এখন বৃষ্টি তারেকের দিকে তাই আমি তারেকুসেক্সুয়াল।
এমন রহস্যজনক বিষয় নিয়ে আমরা কথা বলেছি ডাক্তার তারিকুর রহমান খানের সাথে। তিনি নিজেও একজন গর্বিত তারেকুসেক্সুয়াল। আগে ছিলেন ইউনুসেক্সুয়াল তখন ওনার নাম ছিল ইউকুর রহমান খান! এর আগে যখন উনি স্বাভাবিক ছিলেন, যখন ওনার নাম ছিল সাদিকুর রহমান খান।
এই বিশেষজ্ঞ ডাক্তার আমাদের বলেন, সময়ের সাথে সাথে মানুষের রাজনৈতিক মতাদর্শ যেমন চেঞ্জ হতে পারে সেরকমই চেঞ্জ হতে পারে সেক্সুয়াল ওরিয়েন্টেশনও। এটি আসলে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সাথেই সম্পর্কিত। এই যে আমাকেই দেখেন, আগে ছিলাম ইউনুসেক্সুয়াল, ১২ তারিখের পর থেকে হয়ে গেছি তারেকুসেক্সুয়াল। সামনে জামায়াত ক্ষমতায় আসলে হয়ে যাব শফিকুসেক্সুয়াল, তারপর দরকার হলে হব নাহিদুসেক্সুয়াল।
এদিকে সমাজবিজ্ঞানীরা এই গণ-রূপান্তরকে সুবিধাবাদ-ফ্লুইডিটি হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাদের মতে, এটি কোনো হরমোনাল পরিবর্তন নয়, বরং ক্ষমতার চেয়ারের সুবাসে নাকে আসা এক বিশেষ ধরনের উদ্দীপনা। এক গবেষক জানান, তারেকুসেক্সুয়ালদের সংখ্যা যেভাবে জ্যামিতিক হারে বাড়ছে, তাতে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে বাজারে তারেক-সেন্ট্রিক পারফিউম এবং পোশাকের আকাল দেখা দিতে পারে।
এমনকি অনেক ইউনুসেক্সুয়াল এখন ল্যাপটপ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন তাদের পুরনো ফেসবুক পোস্ট ডিলিট করতে, যাতে কেউ তাদের পূর্ববর্তী ওরিয়েন্টেশন নিয়ে প্রশ্ন তুলতে না পারে। তাদের দাবি, ওরিয়েন্টেশন বদলানো কোনো অপরাধ নয়, বরং সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে নিজেকে আপডেট রাখাই আসল স্মার্টনেস; আজ তারেক, কাল শফিক—ক্ষমতার হাওয়া যেদিকে, মনটাও সেদিকেই ডানা মেলে।


