জোসেফ স্তালিনের নাম শুনেছেন নিশ্চয়ই? সোভিয়েত ইউনিয়নের আলোচিত-সমালোচিত এই নেতা ১৯২২ থেকে ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। সোভিয়েত ইউনিয়নের ইতিহাসের এই সময়ে স্তালিনের নেতৃত্বে প্রচলিত রাজনৈতিক মতবাদ 'স্তালিনবাদ' নামে পরিচিত। শুরুতে কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম সচিব হিসাবে স্তালিনের ক্ষমতা সীমিত থাকলেও ধীরে ধীরে স্তালিন ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করে নেন এবং দলের নেতা হিসেবে সোভিয়েত ইউনিয়নের শাসনক্ষমতা কুক্ষিগত করেন।
সোভিয়েত এই রাজনীতিবিদ ও তার শাসনকাল নিয়ে রয়েছে নানান কৌতুক ও রসিকতা। আমরা সেসব বিষয় নিয়ে আজ কিছু বলছি না। স্তালিনের জীবনে রয়েছে নানান অদ্ভুত ও আশ্চর্য বিষয়ও, যা আপনি সচরাচর পড়বেন না। চলুন, আজ পড়ে ফেলা যাক স্তালিনের জীবনের এমনই আশ্চর্য ১৩টি ঘটনা।
৪# পিতার সঙ্গে পুনরায় দেখা
১২ বছর বয়সে ঘোড়ায় টানা গাড়ির নিচে পড়ে আহত হয় স্তালিন। তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া যায়। মজার ব্যাপার হলো, তাকে হাসপাতাল থেকে কিডন্যাপ করা হয় আর কিডন্যাপ করে তারই বাবা ভিসারিয়ন।
জীবনীকার রবার্ট সার্ভিস-এর মতে, স্তালিনের বাবা চামড়ার ফ্যাক্টরিতে স্তালিনকে কাজ করতে বাধ্য করে। যদিও কিছুদিনের মধ্যে স্তালিন ফ্যাক্টরি থেকে পালিয়ে আসেন। সার্ভিস লিখেছেন, ‘পুজিবাদের অভিজ্ঞতা স্তালিনের খুব অল্প বয়সেই হয়, যা ছিলো কঠিন, রুঢ় এবং অমানবিক।’
৫# স্তালিন বেশ ভালোমানের একজন কবি ছিলেন
অত্যন্ত পড়ুয়া ছিলেন স্তালিন। সেমিনারিতে থাকাকালীন নিয়মিত গ্যেটে, শেকসপিয়র আর ওয়াল্ট হুইটম্যান পড়তেন তিনি। স্কুলে থাকতেই কবিতা লেখার শুরু হয় তার। জর্জিয়ান ভাষায় লেখা তার ৫টি কবিতা কবি ইলিয়া চাভচাভাদজে সম্পাদিত জনপ্রিয় সাহিত্য পত্রিকা ইভেরিয়া-তে প্রকাশিত হয়।
৬# সেমিনারি থেকে বহিষ্কার
সেমিনারি হলো ধর্মীয় শিক্ষার প্রতিষ্ঠান। যাজক হওয়ার ইচ্ছা থেকে স্তালিন সেমিনারিতে ভর্তি হননি, মাকে খুশি করার জন্যেও না। তিনি সেমিনারিতে হয়েছিলেন কারণ অন্য কোথাও তার উচ্চশিক্ষার সুযোগ ছিলো না। জীবনীকারদের মতে, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সময়টাতেই মার্ক্সিজম ও এথিজমের সঙ্গে তার পরিচয় ঘটে। স্তালিন তার ‘বিপ্লবী কর্মকান্ডের জন্য’ সেমিনারি থেকে বহিষ্কৃত হন। অবশ্য স্তালিনের মায়ের দাবি, স্তালিন সেমিনারি ছেড়েছেন তার দুর্বল স্বাস্থ্যের কারণে।
৭# বেশ খর্বকায় লোক ছিলেন স্তালিন
১৯০২ সালে রাশিয়ান কর্তৃপক্ষ এক লোককে গ্রেফতার করে। লোকটার বর্ণনা দেয়া হয়েছে এভাবে:
৫ ফিট ৪ ইঞ্চি উচ্চতা। দেহ মাঝারি সাইজের। বয়স ২৩। স্পেশাল ফিচার: বাম পায়ের ২য় ও ৩য় আঙুল একটার সঙ্গে অন্যটি লাগানো। চেহারা: সাধারণ। চুল কালচে বাদামি। দাড়িগোঁফ: বাদামি। খাড়া দীর্ঘ নাক। সোজা কিন্তু সংক্ষিপ্ত কপাল। মুখমন্ডল দীর্ঘাকার এবং এখানে সেখানে জলবসন্তের দাগ।
১২# স্তালিন ছিলেন সেকালের ‘ফটোশপ’ এক্সপার্ট
স্তালিন জানতেন, সোভিয়েত ইউনিয়নের ইমেজ নানা কারণে সোভিয়েত ইউনিয়নের মতোই গুরুত্বপূর্ণ। তাই ইমেজের ব্যাপারে খুবই সচেতন ছিলেন স্তালিন। ফটোশপ যুগ দেখে যাননি বটে, কিন্তু ফটো ম্যানিপুলেশনের দারুণ ওস্তাদ ছিলেন স্তালিন। সোভিয়েত ন্যারেটিভের বদলের সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন ছবিতেও অদল-বদল আনেন স্টালিন। একসময়ের ঘনিষ্ঠ কিন্তু পরবর্তীতে বিরাগভাজন হয়েছেন এমন অনেককে মৃত্যুদন্ড দিয়েছেন স্তালিন। এই লোকদের সঙ্গে স্টালিনের ছবিগুলোকে প্রায়ই বদলে ফেলেছেন স্তালিন।
১৩# জীবনের শেষ দিকে স্তালিনকে অপছন্দ করতেন লেনিন
যদিও লেনিনের কাজ ও চিন্তা দিয়ে অনেক বেশি প্রভাবিত ছিলেন স্তালিন, বৃদ্ধ লেনিন স্তালিনকে পছন্দ করতেন না। লেনিন বরং আতঙ্কিত ছিলেন বলশেভিক পার্টিতে স্টালিনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ও জনপ্রিয়তা নিয়ে। জীবনের শেষ কয়েক দিন আগেও লেনিন স্টালিনকে উল্লেখ করেছেন, ‘নিষ্ঠুর, প্রতারক, ধূর্ত’ হিসেবে। লেনিনের চাওয়া ছিলো, স্তালিনকে দল থেকে বের করে দেয়া হোক। লেনিনের সেই ইচ্ছা স্বাভাবিকভাবেই বাস্তবায়িত হয়নি। কারণ, ততদিনে স্তালিন নিজেকে বলশেভিক পার্টির সবচেয়ে প্রভাবশালী নেতায় পরিণত করে ফেলেছেন।





পাঠকের মন্তব্য