কক্সবাজার রিসোর্টে আগুনে ১০ জনের মৃত্যু খুনী কে? সরকার নাকি রিসোর্ট মালিক?

১৪ পঠিত ০ ... ১৩ ঘন্টা ৪৯ মিনিট আগে

১৭ অক্টোবর কক্সবাজারের উখিয়ায় মেরিন ড্রাইভের টুপটুপ রেস্টো অ্যান্ড রিসোর্টে আগুন লেগে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর এসেছে। কয়েকটা পরিবার একেবারে শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু এতগুলো মানুষের মৃত্যুর পর আসলে দায়টা নেবে কে?

প্রথমেই আসি রিসোর্ট মালিকের কথায়। মানুষ একটা রিসোর্টে যায় একটু ঘুরতে, আনন্দ করতে, কয়েকটা দিন ভালোভাবে কাটাতে। সেখানে থাকার জন্য টাকা দেয়। বিনিময়ে অন্তত নিজের জীবনটা নিরাপদ থাকবে, এই নিশ্চয়তা কি তার পাওয়ার কথা না?

একটা রিসোর্টে আগুন লাগলে মানুষ বের হবে কোন রাস্তা দিয়ে? আগুন নেভানোর ব্যবস্থা আছে কি না, জরুরি সময়ে সবাইকে বের করে আনার উপায় কী, এসব তো আগে থেকেই ঠিক করে রাখার কথা। কিন্তু এসব ব্যবস্থা না রেখেই যদি ব্যবসা চালানো হয়, তাহলে সেটা নিছক অবহেলা না, মানুষের জীবন নিয়ে ভয়ংকর ছেলেখেলা।

ব্যবসা করবেন, পর্যটকদের কাছ থেকে টাকা নেবেন, কিন্তু তাদের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখতে গেলে খরচ করতে মন চাইবে না, ব্যাপারটা এমন হতে পারে না। রিসোর্ট দেখতে সুন্দর হলেই তো হবে না, সেখানে মানুষ নিরাপদে থাকতে পারছে কি না, সেটাও দেখতে হবে।

কিন্তু এখন প্রশ্ন হচ্ছে, মালিকের দোষ দিয়েই কি সব শেষ?

একটা রিসোর্ট তৈরি হলো, সেখানে মানুষ থাকছে, রেস্তোরাঁ চলছে, পর্যটক আসছে। এসবের মধ্যে প্রশাসনের কেউ কি একবারও দেখতে যাননি যে জায়গাটার অনুমোদন আছে কি না, অগ্নিনিরাপত্তার ব্যবস্থা ঠিক আছে কি না? নিয়ম না মানলে ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব যাদের, তারা কী করেছেন?

কোনো রিসোর্টে আগুন লাগার পর যদি জানা যায় নিরাপত্তার ব্যবস্থা ছিল না, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠবে, এত দিন এসব দেখার দায়িত্বে যারা ছিলেন, তারা কোথায় ছিলেন?

আরেকটা বিষয় হচ্ছে ফায়ার সার্ভিসের দূরত্ব। ঘটনাস্থল থেকে ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন যদি প্রায় ২০ থেকে ২২ কিলোমিটার দূরে হয়, তাহলে এমন একটা পর্যটন এলাকায় জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার আরও ভালো ব্যবস্থা থাকা দরকার ছিল না? যেখানে প্রতিদিন মানুষ ঘুরতে যাচ্ছে, রিসোর্টে থাকছে, সেখানে আগুন লাগলে দ্রুত উদ্ধার করার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা কি প্রশাসনের দায়িত্ব না?

অবশ্য আগুন কীভাবে লেগেছে, ঠিক কী কারণে এতগুলো মানুষের মৃত্যু হয়েছে, এসব তদন্ত করে নিশ্চিত করতে হবে। তদন্তের আগেই কাউকে সরাসরি খুনি বলে দেওয়া ঠিক হবে না। কিন্তু নিরাপত্তার ঘাটতি ছিল কি না, অনুমোদন ছিল কি না, নিয়মিত তদারকি হয়েছে কি না, এসব প্রশ্নের উত্তর তো দিতেই হবে।

আমাদের দেশে সমস্যা হচ্ছে, কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগে নিরাপত্তা নিয়ে খুব একটা মাথাব্যথা দেখা যায় না। দুর্ঘটনা ঘটার পর শুরু হয় তদন্ত কমিটি, দোষারোপ আর নানা রকম আশ্বাস। কয়েক দিন মানুষ প্রতিবাদ করে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখালেখি হয়। তারপর ধীরে ধীরে সবাই ভুলে যায়। পরের দুর্ঘটনা না ঘটা পর্যন্ত আবার সব চুপচাপ।

কিন্তু যাদের স্বজন মারা গেলেন, তাদের কাছে এটা কয়েক দিনের কোনো খবর না। তাদের জীবনটাই বদলে গেছে। একটা পরিবারে যে মানুষটা আর কখনো ফিরে আসবেন না, তার অভাব কোনো তদন্ত কমিটির রিপোর্ট দিয়ে পূরণ হবে না।

তাই এখানে শুধু রিসোর্ট মালিককে দোষ দিয়ে পার পাওয়ার সুযোগ নেই। মালিক যদি নিরাপত্তার ব্যবস্থা না রেখে থাকেন, তার বিচার হতে হবে। প্রশাসন যদি নিয়মিত তদারকি না করে থাকে, তাদেরও জবাবদিহি করতে হবে। আর তদন্তে সরকারের সংশ্লিষ্ট কোনো সংস্থার গাফিলতি পাওয়া গেলে সেই দায়ও নিতে হবে।

মানুষ ঘুরতে গিয়ে মারা যাবে, আর তারপর সবাই একে অন্যের দিকে আঙুল তুলে দায়িত্ব শেষ করবে, এটা তো হতে পারে না।

১০ জন মানুষের মৃত্যুর পর অন্তত এমন ব্যবস্থা করা হোক, যাতে আর কোনো পরিবারকে এভাবে প্রিয়জন হারাতে না হয়। কারণ একটা রিসোর্টের ব্যবসা, মালিকের মুনাফা কিংবা প্রশাসনের দায়িত্বহীনতার চেয়ে মানুষের জীবনের দাম অনেক বেশি।

 

১৪ পঠিত ০ ... ১৩ ঘন্টা ৪৯ মিনিট আগে

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

আইডিয়া

কৌতুক

রম্য

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top ​