মেনোপজ কোনো রোগ নয়, তবুও এই সময়টা কেন অনেক নারীর জন্য কঠিন হয়ে ওঠে?

৫১ পঠিত ০ ... ১০ ঘন্টা ১৬ মিনিট আগে

19 (18)

 

আজ বিশ্ব রজঃনিবৃত্তি দিবস। নারীদের জীবনের একটা স্বাভাবিক পরিবর্তন, কিন্তু এই বিষয়টা নিয়ে আমাদের সমাজে এখনো তেমন খোলামেলা আলোচনা হয় না।

মেয়েদের বয়ঃসন্ধি নিয়ে আমরা কমবেশি কথা বলি। কিন্তু একটা বয়সের পর যখন মাসিক বন্ধ হয়ে যায়, তখন শরীরে কী কী পরিবর্তন হয়, কী ধরনের সমস্যা দেখা দেয়, এসব নিয়ে কথা বলতে গেলেই অনেকে অস্বস্তিতে পড়ে যান।

এই পরিবর্তনকেই বলা হয় মেনোপজ বা রজঃনিবৃত্তি। সাধারণত ৪৫ থেকে ৫৫ বছর বয়সের মধ্যে নারীদের মেনোপজ হয়ে থাকে। তবে এটা একদিনে হুট করে হয় না। এর কয়েক বছর আগে থেকেই শরীরে নানা পরিবর্তন দেখা দিতে শুরু করে। এই সময়টাকে বলা হয় পেরিমেনোপজ।

এই সময় হঠাৎ শরীর গরম হয়ে যাওয়া, রাতে ঘেমে ঘুম ভেঙে যাওয়া, ঠিকমতো ঘুম না হওয়া, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া, মন খারাপ কিংবা অকারণে উদ্বিগ্ন লাগার মতো সমস্যা হতে পারে। কারও ক্ষেত্রে এসব লক্ষণ খুব একটা সমস্যা তৈরি করে না, আবার কারও জন্য দৈনন্দিন জীবন বেশ কঠিন হয়ে পড়ে।

সহজভাবে বললে, কোনো নারীর টানা ১২ মাস মাসিক বন্ধ থাকলে এবং এর পেছনে অন্য কোনো কারণ না থাকলে সেটাকে মেনোপজ হিসেবে ধরা হয়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডিম্বাশয়ের কার্যক্ষমতা কমে যায়। ফলে ইস্ট্রোজেনের মতো হরমোনের মাত্রাও কমতে থাকে, আর একসময় মাসিক পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

তবে শুধু বয়সের কারণেই যে মেনোপজ হয়, তা না। ক্যানসারের চিকিৎসায় কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি কিংবা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ডিম্বাশয় অপসারণের কারণেও আগেভাগে মেনোপজ হতে পারে।

মেনোপজ কোনো রোগ না, এটা নারীদের জীবনের স্বাভাবিক একটা পর্যায়। কিন্তু এই সময়ে শরীরে যেসব সমস্যা দেখা দেয়, সেগুলোও অবহেলা করার মতো না। হাড়ের ঘনত্ব কমে যেতে পারে, হাড় ভাঙার ঝুঁকি বাড়তে পারে, ত্বক ও চুল শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। কারও কারও যোনিপথে শুষ্কতা, প্রস্রাবের সমস্যা কিংবা শারীরিক সম্পর্কে অস্বস্তি হতে পারে। এর পাশাপাশি ঘুমের সমস্যা, মনোযোগের অভাব, উদ্বেগ আর মেজাজের পরিবর্তনও দেখা দিতে পারে।

আবার একটা ভুল ধারণা আছে, মেনোপজ হয়ে গেলে নারীদের যৌনজীবন বুঝি শেষ। আসলে বিষয়টা এমন না। মেনোপজের পরও স্বাভাবিক ও তৃপ্তিদায়ক যৌনজীবন সম্ভব। হরমোনের পরিবর্তনের কারণে কিছু সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শে সেগুলোর সমাধানও করা যায়।

এই সময়ে নিয়মিত হাঁটাচলা, ব্যায়াম, পুষ্টিকর খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম আর নিজের শরীরের যত্ন নেওয়া জরুরি। সমস্যা বেশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। নিজের ইচ্ছামতো হরমোনের ওষুধ খাওয়া ঠিক হবে না। আর টানা ১২ মাস মাসিক বন্ধ থাকার পর আবার রক্তপাত হলে, অল্প হলেও বিষয়টা অবহেলা করা যাবে না। দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া দরকার।

প্রতি বছর ১৮ অক্টোবর পালন করা হয় বিশ্ব রজঃনিবৃত্তি দিবস। এই দিবসের মূল উদ্দেশ্য হলো মেনোপজ নিয়ে সচেতনতা বাড়ানো, ভুল ধারণা দূর করা এবং নারীরা যেন প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা পান, সেটা নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরা।

মেনোপজ কোনো লজ্জার বিষয় না, এটা নিয়ে লুকোচুরিরও কিছু নেই। নারীদের জীবনের এই সময়ে শরীরে অনেক পরিবর্তন আসে, কখনো শারীরিকভাবে, কখনো মানসিকভাবে। তাই এই সময়টায় তাঁদের কথা শোনা, সমস্যাগুলো বোঝা আর প্রয়োজন অনুযায়ী পাশে থাকাটা জরুরি।

জীবনের একটা পর্যায় শেষ হচ্ছে মানেই সবকিছু শেষ হয়ে যাওয়া না। বরং এটা জীবনের আরেকটা স্বাভাবিক অধ্যায়। আর সেই অধ্যায়টাও যেন নারীরা সুস্থভাবে, স্বস্তিতে আর সম্মানের সঙ্গে কাটাতে পারেন, সেটাই হওয়া উচিত আমাদের চাওয়া।

৫১ পঠিত ০ ... ১০ ঘন্টা ১৬ মিনিট আগে

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

আইডিয়া

কৌতুক

রম্য

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top ​