যে সময়টায় জার্মানিতে বাজার করতে মানুষ টাকা ভর্তি ঠেলাগাড়ি নিয়ে যেত

১১ পঠিত ০ ... ১২ ঘন্টা ৫ মিনিট আগে

একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখলেন, আপনার সারাজীবনের সঞ্চয় দিয়ে এক কেজি আলুও কেনা যাচ্ছে না। অথচ আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা আছে কোটি কোটি টাকা!

১৯২৩ সালে জার্মানির মানুষ ঠিক এমন এক দুঃস্বপ্নের মধ্য দিয়ে গিয়েছিল।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানির অর্থনীতি তখন প্রায় ধ্বংসের মুখে। যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ, অর্থনৈতিক সংকট আর সরকার কর্তৃক অতিরিক্ত টাকা ছাপানোর কারণে দেশটিতে শুরু হয়েছিল ভয়াবহ মুদ্রাস্ফীতি। মুদ্রার নাম ছিল পেপার মার্ক। কিন্তু সেই মার্কের মূল্য প্রতিদিন এমনভাবে কমছিল যে, টাকা হাতে নিয়েও মানুষ বুঝতে পারছিল না, তা দিয়ে আসলে কী কেনা যাবে।

একসময় বাজারে যাওয়ার দৃশ্যটাই বদলে গেল। মানুষ আর পকেটে টাকা নিয়ে বাজারে যেত না। যেত টাকাভর্তি হুইলবারো ঠেলে! কারণ, কয়েকটা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতেই লাগত হাজার হাজার, লাখ লাখ, এমনকি কোটি কোটি মার্ক।

আরও অবিশ্বাস্য ব্যাপার হলো, অনেকের কাছে কাঠ কেনার চেয়ে কাগজের নোট পুড়িয়ে ঘর গরম করা সস্তা হয়ে পড়েছিল। যে টাকা দিয়ে একসময় মানুষ খাবার কিনত, সেই টাকাই তখন আগুন জ্বালানোর কাজে লাগছিল।

১৯২৩ সালের অক্টোবরে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, মাত্র এক ব্রিটিশ পাউন্ডের দাম দাঁড়ায় প্রায় ১ লাখ ১ হাজার কোটি জার্মান মার্ক! মাসিক মুদ্রাস্ফীতি পৌঁছে যায় প্রায় ২৯,৫০০ শতাংশে।

ভাবুন, সকালে যে টাকা দিয়ে এক ঝুড়ি খাবার কিনলেন, বিকেলে সেই টাকা নিয়ে বাজারে গিয়ে দেখলেন, একই খাবার কিনতে আরও অনেক বেশি টাকা লাগছে। সারাজীবনের জমানো টাকা চোখের সামনে মূল্য হারাচ্ছে। গতকাল যিনি সচ্ছল ছিলেন, আজ তিনিই সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন।

শেষ পর্যন্ত ১৯২৩ সালের নভেম্বরে জার্মান সরকার নতুন মুদ্রা চালু করল, নাম রেন্টেনমার্ক। ১ রেন্টেনমার্কের বিপরীতে নির্ধারণ করা হলো ১ ট্রিলিয়ন পুরোনো মার্ক। নতুন মুদ্রা চালুর মাধ্যমে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসে।

জার্মানির সেই সময়টা ইতিহাসে হাইপারইনফ্লেশন নামে পরিচিত।

এই ঘটনার সবচেয়ে ভয়ংকর দিকটা হলো, মানুষ একদিনে গরিব হয়ে যায়নি। প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে দেখেছে, আগের দিনের চেয়ে তাদের টাকার মূল্য আরও একটু কমে গেছে। একসময় বুঝতে পেরেছে, সারাজীবন ধরে যে সম্পদ জমিয়েছে, তা দিয়ে আর সংসার চালানো যাচ্ছে না।

টাকা শুধু কাগজ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে মানুষের পরিশ্রম, সঞ্চয় আর ভবিষ্যতের নিরাপত্তা। সেই টাকার ওপর বিশ্বাস একবার ভেঙে গেলে, কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েও মানুষ নিঃস্ব হয়ে যেতে পারে।

১১ পঠিত ০ ... ১২ ঘন্টা ৫ মিনিট আগে

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

আইডিয়া

কৌতুক

রম্য

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top ​