কুমিল্লার ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে অনেক তথ্য। ৪ অক্টোবর পরিবারের কাছে মিথ্যা বলে বান্ধবীর সঙ্গে কক্সবাজারে ঘুরতে গিয়েছিল মেয়েটা। ৭ অক্টোবর রাতে কুমিল্লার লালমাইয়ের একটা ধানখেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় সুমন মিয়া (৩৫) নামের এক সিএনজি চালককে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশের তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদ অনুযায়ী, জান্নাতুলকে নির্জন জায়গায় নিয়ে ধর্ষণ করা হয়। এরপর তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। হত্যার পর তার আইফোনটাও নিয়ে যায় অভিযুক্ত। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাখরাবাদ এলাকার একটা জঙ্গল থেকে ফোনটা উদ্ধার করে পুলিশ।
কিন্তু এই ঘটনার পরও অনেকে মেয়েটা কেন বাসায় মিথ্যা বলে বের হইছিল, কোথায় গেছিল, এসব নিয়া আলোচনা শুরু করবেন। যেন মেয়েটা মিথ্যা না বললে তার সঙ্গে এমন কিছু ঘটত না! একটা মেয়ে বাসায় মিথ্যা বলছে কি সত্যি বলছে, সেটা আলাদা বিষয়। পরিবার চাইলে এই নিয়ে প্রশ্ন করতে পারে, বকাঝকা করতে পারে। কিন্তু তাই বলে তার সঙ্গে ধর্ষণের চেষ্টা হবে, তাকে হত্যা করা হবে, আর আমরা উল্টা তার দোষ খুঁজতে বসব?
এই দেশে আপনি বাসায় সত্যি কথা বলে বের হলেই যে নিরাপদ থাকবেন, সেই নিশ্চয়তা কি কেউ দিতে পারে? পারেন না। তাহলে একটা মেয়ে বাসা থেকে মিথ্যা বলে বের হইছে কি সত্যি বলে বের হইছে, সেইটা তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া অপরাধের ব্যাখ্যা হবে কেন? সে কোথায় যাবে, কার সঙ্গে যাবে, কখন ফিরবে, সবকিছু পরিবারকে জানিয়েও কি নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে তার কিছু হবে না?
তাহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু মেয়েটা কেন মিথ্যা বলল, সেটা হবে কেন? আলোচনার বিষয় হওয়া উচিত, একজন অল্পবয়সী মেয়েকে এমন নির্মমভাবে হত্যা করার সাহস একজন মানুষ পায় কীভাবে? আমাদের আশপাশে এমন অপরাধীরা ঘুরে বেড়ায় কীভাবে? আর এই অপরাধের বিচার কত দ্রুত নিশ্চিত করা যায়?
একটা কিশোরীর ভুল থাকতে পারে, তার সিদ্ধান্ত নিয়ে পরিবারের আপত্তি থাকতে পারে। কিন্তু কোনো ভুলের শাস্তি মৃত্যু হতে পারে না। জান্নাতুলের ঘটনায় ভিকটিমের দোষ খোঁজা বন্ধ করেন। অপরাধীর বিচার চান। একটা মেয়ের বাসা থেকে বের হওয়ার কারণ খুঁজতে আমরা যতটা আগ্রহী, সেই মেয়েটাকে যে মানুষটা হত্যা করল, তার শাস্তি নিশ্চিত করতে আমরা যেন তার চেয়ে কম আগ্রহী না হই।



পাঠকের মন্তব্য