দানবের রাজ্যে আমাদের মেয়েরা...

৭০ পঠিত ০ ... ১১ ঘন্টা ১৪ মিনিট আগে

 

দূর পাহাড়ে এক দানব থাকে। প্রতিরাতে সে গ্রামে আসে। গ্রাম থেকে এক বা একাধিক মানুষকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর খেয়ে ফেলে।

বাংলাদেশের মেয়েগুলা বড় হচ্ছে এমনই এক গ্রামে। চারপাশে হাজার হাজার, লাখ লাখ দানব। প্রতিদিন তারা একজন করে মেয়েকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে। খেয়ে ফেলছে। আর আমরা সবাই তাকিয়ে দেখছি। এরপর ব্যস্ত হয়ে যাচ্ছি নিজের কাজে।

কুমিল্লার জান্নাতুল। রাস্তার পাশে, পুরো জমিজুড়ে, সারা রাত ধরে ছোটাছুটি করে মেয়েটা বাঁচতে চেয়েছে। দস্তাদস্তি! চিল্লাচিল্লি! বাঁচার জন্য কত মানুষকে যে ডেকেছে! বাবাকে গুগল লোকেশন পাঠিয়েছে। কিন্তু ১৭ কোটি মানুষের কেউ সেই ডাকে এগিয়ে আসেনি।

সন্তানের সামনে মাকে ধর্ষণ করছে। ঘর থেকে মেয়েগুলাকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে। রাস্তা থেকে। স্কুল থেকে। এই দানবদের বিপক্ষে যেন আমাদের কারও কিছু করার নেই। আমরা যেন মেনে নিয়েছি সব।

রাষ্ট্র, সমাজ, দেশ, পরিবার, বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি, কোথাও কেউ নাই। আইন, সংবিধান, মুক্তিযুদ্ধ, জুলাই, কিছুই জান্নাতুলদের রক্ষা করতে পারছে না।

আমাদের গা সয়ে গেছে! দানবগুলো হয়ে গেছে আমাদের প্রতিদিনের জীবনের অংশ। আমাদের প্রতিবেশী। আমাদের ঘরের কেউ। কিংবা আমরাই সেই দানব।

প্রতিদিন একটা একটা করে মেয়েদের তুলে নিয়ে যাচ্ছে দানবেরা। আমাদের সামনে থেকে। আমরা দেখছি। এরপর আবার সংবিধান নিয়ে তর্ক করছি। আর ১৭ কোটি মানুষ মিলে প্রতিদিন চাহিদা ও জোগানের সূত্র মেনে জন্ম দিচ্ছি অসংখ্য দানবের খাবার।

অদূর ভবিষ্যতে হয়তো আমরা এমন দৃশ্যও দেখব, দিনের আলোতে ফকিরহাট বাজারের মোড়ে তিন দানব মিলে খাচ্ছে একটা মেয়েকে। পাশেই রফিক মিয়া কিনছেন সবজি। করিম মিয়া গরুর মাংসের দরদাম করছেন। রিকশাচালক শফিক দানবদের পাশ কাটিয়ে চলে যাচ্ছে বেল বাজিয়ে। আর মোড়ের চায়ের দোকানদার দানবদের জন্য বানাচ্ছেন চা আর গরম গরম পরোটা। খাওয়া-দাওয়া শেষে মেয়েটার হাড়গোড় পরিষ্কার করার জন্য পাশেই দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মী।

৭০ পঠিত ০ ... ১১ ঘন্টা ১৪ মিনিট আগে

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

আইডিয়া

কৌতুক

রম্য

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top ​