যুদ্ধাপরাধ করে ক্ষমতাবানরা, আর বিচার চাইতে গেলে উল্টো আপনাকেই রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রকারী বানায়! এই দুনিয়ায় অন্যায়ের বিচার চাইতে গেলেও যদি বিপদে পড়তে হয়, তাইলে ন্যায়বিচারের পক্ষে দাঁড়ানোর মতো মানুষও দরকার। নাভানেথেম নাভি পিলে তেমনই একজন।
দক্ষিণ আফ্রিকার এই আইনজীবী আর মানবাধিকারকর্মী সারা জীবন বর্ণবাদ, যুদ্ধাপরাধ আর গণহত্যার বিচারের জন্য লড়াই করছেন। আন্তর্জাতিক আইন আর ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় তার অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৬ সালের ৯ অক্টোবর তিনি নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন।
নাভি পিলের লড়াই শুরু হয় দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের সময়। তখন তিনি নেলসন ম্যান্ডেলাসহ অনেক রাজনৈতিক বন্দীর আইনি অধিকার রক্ষায় কাজ করছেন। পরে রুয়ান্ডার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সেখানে ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতাকেও গণহত্যার অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ঐতিহাসিক রায়ে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
এরপর তিনি জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার আর আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচারক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। ফিলিস্তিনের অধিকৃত অঞ্চল নিয়ে জাতিসংঘের তদন্ত কমিশনেও নেতৃত্ব দিয়েছেন।
আমরা সবাই শান্তির কথা বলি, মানবাধিকারের কথা বলি। ফেসবুকে পোস্ট দিই, বিবৃতি দিই। কিন্তু অপরাধী যখন ক্ষমতাবান হয়, তখন তার বিরুদ্ধে কথা বলার মানুষ কয়জন থাকে? বিচার চাইলে যখন উল্টো আপনাকেই দোষী বানানোর চেষ্টা চলে, তখন কয়জন নিজের অবস্থানে টিকে থাকতে পারে?
শান্তি মানে শুধু যুদ্ধ বন্ধ হওয়া না। শান্তি মানে অপরাধীর বিচার হওয়া, ভুক্তভোগী ন্যায়বিচার পাওয়া। আর ক্ষমতাবানদেরও বুঝতে হবে, আইন শুধু সাধারণ মানুষের জন্য না। তাদের জন্যও সমান।
নইলে শান্তির কথা যতই বলি, বিচারহীনতার এই দুনিয়ায় শান্তি আসবে কীভাবে?



পাঠকের মন্তব্য