প্রধানমন্ত্রীকে দেখলাম বিরক্ত।
শখ করে শিশু একাডেমির পিচ্চিদের সাথে একটু আড্ডা দিতে চাচ্ছেন। কৌশলে মাঠ জরিপ, মন জরিপ, FGD করে নিতে চাচ্ছেন। কিন্তু শিশুরা আর মনের কথা বলে না।
প্রিটেনশিয়াস বিটিভি বিতার্কিক টোনে বলে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা মোদের এই সোনার বাংলা। এই বাংলার শিশুদের নিয়ে আগামী ৫ বছরে আপনার কর্মপরিকল্পনা কী?
কেউ জিজ্ঞেস করে, আপনি বড় হয়ে কেমন আদর্শবান নাগরিক হতে চাইতেন?
আরেকজন: মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার শৈশবের সবচেয়ে স্মৃতিমধুর একটি ঘটনা শুনতে আমরা অত্যন্ত কৌতূহলী।
প্রধানমন্ত্রী সেই স্মৃতির ঘটনা বলার পর পিচ্চি আবার বলে, ধন্যবাদ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার দূরদর্শী ও দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদানের জন্য।
আরেকদিন তারেক রহমান ভিডিও কনফারেন্সে দেশের বিভিন্ন স্কুলের বাচ্চাদের সাথে কথা বলতাছেন। পিচ্চি মুখস্থ কণ্ঠে, বিটিভি বিতার্কিক টোনে তার জেলার বিভিন্ন সমস্যার কথা জানিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি আকর্ষণ করতে শুরু করেছে।
শেষে প্রধানমন্ত্রী বিরক্ত হয়ে গেছেন। বলেন, তোমাদের কথা শুনে মনে হয় কেউ তোমাদের শিখিয়ে দিয়েছে। তোমরা ওগুলো বাদ দিয়ে নিজেদের মনের কথাগুলো আমাকে বলো।
কিন্তু শিক্ষকদের চোখ রাঙানির সামনে এই শিশুদের মনের কথা বলার সাহস বা মেধা কোনোটাই নেই।
এমন না যে দেশে মেধাবী শিশু নেই। কিন্তু এদের সবসময় এই ধরনের প্রোগ্রাম থেকে সচেতনভাবে বাদ দেওয়া হয়। মেধাবী শিক্ষার্থীদের বাদ দিয়ে স্কুলের বুমার শিক্ষকরা রবীন্দ্রিক টোনে কুসুম কুসুম ফাঁকা বুলি আওড়ানো ফার্স্ট বেঞ্চার স্নিচদের জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে পাঠায়, ডিসির সাথে মিটিং করতে পাঠায়, বিভিন্ন কমিটিতে প্রতিনিধি বানায়।
যে ছেলে বা মেয়েটা বাস্তবসম্মত কথা বলে, শিট-নোট-গাইড মুখস্থ না করে নিজের মতো করে খাতায় লেখে, তাকে শিক্ষকরা মনে করে আপদ। বুঝতে পারে, এই পিসটা আমার হাতের পুতুল না। আমি যা শিখিয়ে দেব, সেটাই সে বলবে না। নিজের বিবেক ব্যবহার করবে। বিটিভির ক্রিঞ্জ টোনে কথা না বলে সে ক্যাজুয়ালি কথা বলবে।
শুধু প্রধানমন্ত্রীর সাথে মিটিংয়ে না, সকল নিয়োগ পরীক্ষা, প্রতিনিধিত্ব, জেলা প্রশাসকদের সাথে বৈঠক, বিসিএস পরীক্ষাসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে মেধাবীদের ছেঁকে বের করে দেওয়া হয়। সবচেয়ে মিডিওকার, মেরুদণ্ডহীন, ব্যক্তিত্বহীন ভালো ছেলেরাই এখানে সুযোগ পান।
তারপর ভালো ছেলেগুলো বড় হয়ে মন্ত্রণালয়ের কাজ স্লো করে দেন। বাদ পড়া মেধাবীরা ছোট থেকেই বৈষম্যের অভিমান নিয়ে দেশত্যাগ করেন।
প্রধানমন্ত্রী কথা বলতে চাইলেন পিচ্চিদের সাথে। স্কুলের সেফ খেলতে চাওয়া শিক্ষক আর আমলারা পিচ্চির শরীরটা দখল করে নিলেন। মুখটা পিচ্চির, শব্দগুলো এডিসি (শিক্ষা)-র।
দেহটা শিশুর, আত্মাটা আমলার।



পাঠকের মন্তব্য