এইডা মগের মুল্লুক নাকি আমাগো দেশ?

২৩৬ পঠিত ০ ... ১৩ ঘন্টা ১২ মিনিট আগে

আমার বাড়িওয়ালা লোকটা খচ্চর টাইপের। তার বাসায় সাত তারিখের মধ্যে ভাড়া দেওয়ার নিয়ম। সাত তারিখ যদি তার হাতে টাকা না ওঠে, তো রাতেই তার ফোন আসবে ভাড়াটিয়ার ফোনে! আট তারিখ সকালেই তাকে পাওয়া যাবে ভাড়াটিয়ার বাসার মেইন দরজার সামনে। নো সেল্ফ রেসপেক্ট, নাথিং! এসব ধুয়ে কি পানি খাবে সে? বাই হুক অর বাই ক্রুক, ভাড়া তার সাত তারিখেই চাই!

আমি গত কয়েকদিন ধরে খুবই ব্যস্ত। থাকি নানান ধান্দায়, দিন-তারিখের হিসাব নাই। আজ হঠাৎ মনে পড়ল, আরে ভাড়া তো দিতে হবে, কিছু টাকাও দরকার। আজ আর হবে না, রাত হয়ে গেছে, কাল তুলতে হবে। এসব ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়ছি পড়ছি ভাব, হঠাৎ ফোনের স্ক্রিন আলো করে টুং বাজনা বাজিয়ে এক মেসেজের আগমন!

দেখব না দেখব না করেও হাতে নিয়ে দেখি আমার সদা-সাহায্যকারী ব্যাংকবাবুর মেসেজ। কী হইছে?

ডিয়ার কাস্টমার, ডিউ টু ইমার্জেন্সি কিউ-ক্যাশ সিস্টেম মাইগ্রেশন…

পুরোটা পড়তে পড়তে আমার মাথায় কড়াৎ করে উইদাউট মেঘে বজ্রপাত! কিউ-ক্যাশওয়ালা ব্যাংকগুলোর মধ্যে ইনফো লেনদেন করে সেন্ট্রাল ডেটা সিস্টেম তৈরির জন্য দেশের ৩০টা ব্যাংক ৬ দিনের জন্য অলমোস্ট সব ধরনের সেবা বন্ধ করে দিচ্ছে আজ রাত ১২টা থেকে! মজার ব্যাপার হচ্ছে, আমার ব্যাংক, মানে আমি যে ব্যাংকের ক্লায়েন্ট, তারা আমাকে খবরটা জানাইছে রাত ১২টা ৬ মিনিটে!

ব্যাপারটা হয়তো তাদের কাছে তেমন কিছু না। কিন্তু আমার তো নাট-বল্টু ঢিলা হয়ে গেল! আমার বাসাভাড়া? হাতেও টাকা নাই! সামনের ৬ দিন কি আমি বসে আঙুল চুষব? কী করব আমি?

আমি অনলাইনে ঘাঁটাঘাঁটি শুরু করলাম। কে কী জানে? আমি একাই বোকচো* হইলাম, নাকি আরও পাবলিক আছে?

খুঁজে দেখি মজা-ই মজা! দেশের ৩০টা ব্যাংক একসাথে প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা ব্যবস্থার আপগ্রেডেশন, সেন্ট্রাল ডেটা সিস্টেম তৈরি, আরও কী ব্লা ব্লা, মানে বা*লছাল করবে বলে নেক্সট ৬ দিনের জন্য প্রায় সকল সেবা বন্ধ করছে। সেটা শুরু হইছে ৪ তারিখ রাত ৯টা থেকে। মজা হইতেছে, এই কাহিনি ব্যাংক গ্রাহকরা জানা শুরু করছে পরদিন, মানে ৫ অক্টোবর সকাল বা বিকাল থেকে। কেন? কারণ এই ঘটনার কোনো পূর্বঘোষণা হয় নাই। ঘটা করে কোথাও তেমনভাবে প্রকাশও করা হয়নি।

ওদিকে সবচেয়ে বড় মামু তো হইছে বাংলাদেশ ব্যাংক! বাংলাদেশ ব্যাংকও নাকি জানে না, এত্তগুলা ব্যাংক এই মহান কাজে লিপ্ত হচ্ছে! আর আমরা চেঁচায়ে মরতেছি, কিছু জানি না বলে! হাতি-ঘোড়া গেল তল, মশা কয় কত জল!

এখন কথা হচ্ছে, তাদের এই স্টেপ তো নেওয়া শেষ, সাধারণ মানুষ এখন কী করবে? কেউ অসুস্থ হবে, তাকে ট্রিটমেন্ট করতে হবে ঘরে যা টাকা আছে তা দিয়ে, নয়তো মরো! ব্যাংকওয়ালাদের তাতে কী এসে যায়?

জরুরি যেকোনো কাজ বা সেবা, ডেইলি কেনাকাটা, খাবার সংকট? আরে ধুর! নিজেদেরটা নিজেরা সামলাও না বাপু! এত হাউ-কাউ কিসের?

রাইড শেয়ারিং সেবা, ট্রেনের অনলাইন টিকিট, দূরপাল্লার বাস বা ফ্লাইটের টিকিট কাটার জন্য ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম মাস্ট। আরে তাতে কী? দুই-চার দিন আগে-পরে যাওয়া-আসায় এমন কী-ই বা ক্ষতি হয়ে যাবে?

SME লেনদেন অচল হবে? তাতে কী-বা হয়েছে? ফ্রিল্যান্সার আর রেমিট্যান্সওয়ালারা না হয় এই কয়দিন হা করে বাতাস খেয়ে বেঁচে থাকবে!

সবচেয়ে বড় কথা হলো, ব্যাংকমালিকরা বা পরিচালনা গোষ্ঠী কি কারও খায় না পরে যে তাদের কৈফিয়ত দিয়ে নিজেদের কাজের সব খবরাখবর দিয়ে করতে হবে? তারা কি ঠেকা নাকি জনগণের কাছে? আর জনগণের ভোগান্তি? দূর, দূর! যতসব প্যানপ্যানানি!

ব্যাপারটা অনেকটা পোলাপানের ক্রিকেট খেলার মতো হইল না? ব্যাট আমার, আমি থাকলে খেলা আছে, নাইলে নাই। তার মানে আমার মন চাইলে খেলা আছে, নাহলে বসে থেকে আঙুল চোষো!

ভাই, সারাজীবন শুইনা আসছি মগের মুল্লুক-এর কথা! মানে অরাজক অবস্থা। শায়েস্তা খাঁর আমলে ছিল। কিন্তু আমার কাছে তো মনে হয়, আমরা এখনই দেখতেছি, শায়েস্তা খাঁর মগের মুল্লুক আর গোপাল আসার আগের মাৎস্যন্যায়!

বাকি যার যা আছে কপালে!

২৩৬ পঠিত ০ ... ১৩ ঘন্টা ১২ মিনিট আগে

আরও eআরকি

পাঠকের মন্তব্য

আইডিয়া

কৌতুক

রম্য

সঙবাদ

স্যাটায়ার


Top ​